লক্ষ্মীপুরের রামগতিতে পাঁচ বছরেও চালু হয়নি আবহাওয়া অফিস

লক্ষ্মীপুরে রামগতি উপজেলার চর সেকান্দরে দেড় একর জমির ওপর এক কোটি টাকা ব্যয়ে পাঁচ বছর আগে আবহাওয়া অফিসের একটি ভবন নির্মিত হলেও কোনো কার্যক্রম শুরু হয়নি আজও। পরিত্যক্ত থাকায় প্রতিনিয়ত চলছে এখানে অসামাজিক কার্যকলাপ। বর্তমানে এটি গোচারণ ভূমিতে পরিণত হয়েছে। কর্মকর্তারা বলেছেন অচিরে এটি চালু হবে। মেঘনা নদীর উপকূলীয় এ জেলায় বসবাস করছে প্রায় ১৭ লাখ মানুষ। এর মধ্যে মেঘনা নদীতে ৬২ হাজার জেলে প্রতিদিন জীবনের ঝুঁকি নিয়ে মাছ ধরে জীবিকা নির্বাহ করেন।

এদের সুবিধার জন্য সরকার ২০০৮-০৯ অর্থবছরের আবহাওয়া অধিদফতরের অভ্যন্তীরণ নৌ চলাচল পূর্বাভাস এ কেন্দ্রটি নির্মাণ করেন। নির্মাণের পাঁচ বছর অতিবাহিত হলেও এখানে শুরু হয়নি এর কার্যক্রম। এ সুযোগে বখাটে ও সন্ত্রাসীরা এখানে প্রতিনিয়ত মদ, জুয়া ও অসামাজিক কার্যকলাপ চালিয়ে যাচ্ছে। ফলে নবনির্মিত এ ভবনটি পরিত্যক্ত ভবনে পরিণত হয়েছে। এতে স্কুল-কলেজগামী ছাত্রছাত্রীরা বিপথগামী হয়ে পড়েছে। অন্যদিকে ভবনের সামনে বিশাল মাঠ এখন গোচারণ ভূমিতে পরিণত হয়েছে।

কলেজছাত্র ইসমাইল হোসেন জবু জানায়, এখানে আবহাওয়া অফিস আছে, কোনো কার্যক্রম নেই। এতে দিনে-রাতে সবসময় বাজে লোকজন ভবনে ঢুকে মদ-গাঁজাসহ নেশা করে। এ সড়কে স্কুল বা কলেজে যাতায়াত করতে গিয়ে আমি বা আমার ভাইবোন ইভটিজিংসহ বিভিন্ন হয়রানির শিকার হয়ে থাকি।”

স্থানীয় জমিদাতা রহিম মাঝি, সালামত উল্যাহ, আবদুল খালেক জানান, আমরা বড় আশা করে জমি দান করেছি। যদি আমাদের জমি থাকত, তাহলে আমরা বিভিন্ন ফসল পেতাম। কিন্তু এখন কোনোটাই হলো না; বরং আমাদের ক্ষতি হয়েছে। তাই সরকারের কাছে যত তাড়াতাড়ি সম্ভব আবহাওয়া অফিস চালু করার দাবি জানান তারা।
রামগতি পৌরসভা ওয়ার্ড কাউন্সিলর অপূর্ব দাস বলেন, মেঘনা নদীর জেলেসহ স্থানীয় সাধারণ মানুষ এ অফিসের মাধ্যমে আবহাওয়ার পূর্বাভাস পাবে। কিন্তু বাস্তবে দেখা গেছে তার উল্টো। এ আবহাওয়া অফিসে কোনো লোকজন থাকে না এবং এর কার্যক্রম শুরু হয়নি। এ কারণে বাজে লোকজন আড্ডা দেয় এবং স্কুল-কলেজগামী ছাত্রছাত্রীদের হয়রানি করে থাকে।
রামগতি পৌরসভার মেয়র শাহেদ আলী পটু জানান, পৌরসভার ৭ নম্বর ওয়ার্ডে আবহাওয়া অফিসটি দীর্ঘদিন ধরে পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে আছে। এর কোনো কার্যক্রম নেই। এতে প্রতিদিন এখানে বসে জুয়ার আসর। তাই এ আবহাওয়া অফিসটি চালু করার জন্য প্রধানমন্ত্রীর কাছে জোর দাবি জানাই।

লক্ষ্মীপুর জেলা ত্রাণ পুনর্বাসন কর্মকর্তা অরুণেন্দ্র কিশোর চক্রবর্তী জানান, আবহাওয়া অফিস ভবনটি অরক্ষিত ও পরিত্যক্ত অবস্থায় আছে বলে আমি ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের জানিয়েছি। আগামী কয়েক মাসের মধ্যে লোকজন নিয়োগ দেয়া হবে। তারপর এর কার্যক্রম শুরু হলে এখান থেকে নোয়াখালী ও লক্ষ্মীপুর জেলার আবহাওয়ার পূর্ণাঙ্গ তথ্য পাওয়া যাবে। আবহাওয়ার তথ্যের জন্য ঢাকা আবহাওয়া অধিদফতরের দিকে আমাদের আর তাকাতে হবে না।


সম্পাদনা: শামীম ইবনে মাজহার,নিউজরুম এডিটর

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।