ঢালাওভাবে বিচারকদের নিয়ে মন্তব্য না করার আহবান প্রধান বিচারপতির

প্রধান বিচারপতি মো. মোজাম্মেল হোসেন বলেছেন, “ঢালাওভাবে কোনো বিচারপতি বা বিচারক সম্পর্কে বক্তব্য দেয়া যাবে না। ঢালাওভাবে অভিযোগ তুলে বিচারাঙ্গনকে বিতর্কিত করবেন না। বাংলাদেশের বিচারাঙ্গন ও বিশেষ কোনো বিচারকের সম্পর্কে কথা বলতে হলে প্রধান বিচারপতির কাছে বলুন।”

তিনি বলেন, “মানুষের শেষ ভরসাস্থলকে তার জায়গায় থাকতে দিন। ব্যক্তি-বিশেষের বিরুদ্ধে অভিযোগ থাকলে প্রধান বিচারপতিকে জানান। ব্যবস্থা নেয়া হবে।”

সোমবার সুপ্রিমকোর্ট আইনজীবী সমিতির সাবেক সভাপতি অ্যাডভোকেট শামসুল হক চৌধুরীর অষ্টম মৃত্যবার্ষিকী উপলক্ষে সুপ্রিমকোর্ট আইনজীবী সমিতির মিলনায়তনে এক আলোচনা সভা ও দেয়া মাহফিলে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

অ্যাডভোকেট আবদুল বাসেত মজুমদারের সভাপতিত্বে আলোচনাসভায় বক্তব্য রাখেন সিনিয়র আইনজীবী এ বি এম নুরুল ইসলাম, কে এম সাইফুদ্দিন, জেড আইন খান পান্না, সুপ্রিমকোর্ট আইনজীবী সমিতির সাবেক সম্পাদক মাহবুব আলী, বশির উদ্দিন ও শ ম রেজাউল করিম।

আলোচনায় অংশ নিয়ে সিনিয়র আইনজীবী এ বি এম নুরুল ইসলাম বিচারাঙ্গনের দুর্নীতি নিয়ে কিছু মন্তব্য করেন।

এরই জবাবে প্রধান বিচারপতি বলেন, “আইনজীবীরা সুপ্রিমকোর্টের বাইরে কে কোন রাজনৈতিক দল করলেন, সেটা বিবেচ্য বিষয় নয়। তাদের একটাই পরিচিতি, তারা আইনজীবী। এটা আমি বিশ্বাস করি। বিচারপতিদের অনেক সীমাবদ্ধতা রয়েছে। অসুবিধা থাকা সত্ত্বেও বিচারকরা নিজেদের কথা নিজেরা বলতে পারেন না। তাদের অবস্থা একটা লাশের মতো। বিচারকরা কোনো প্রতিবাদ করতে পারেন না। তাদের সে সুযোগ নেই। তবে সব বিচারক বিচারের ক্ষেত্রে স্বাধীন। প্রধান বিচারপতির নির্দেশনা অনুযায়ী তারা বিচার করেন না।”

তিনি বলেন, “আদালতের প্রতি মানুষের আস্থা আছে। মানুষ ন্যায়বিচার পাচ্ছে। যদি ন্যায়বিচার না-ই পেত, তাহলে বিচারাঙ্গনে এত মানুষ আসত না, এত নতুন আইনজীবী এ পেশায় আসতেন না।”

তিনি বলেন, “আমরা বিচারক আমাদের ওপরেও একজন বিচারক আছেন। তিনি আল্লাহ। আর আল্লাহই বলতে পারেন কোন বিচারটা সঠিক। তবে আমরা আমাদের সীমাবদ্ধতার মধ্য থেকে সর্বোচ্চ চেষ্টা করে যাচ্ছি।”

আইনজীবীদের উদ্দেশে প্রধান বিচারপতি বলেন, “সুপ্রিমকোর্টেও মান-সম্মান রক্ষার দায়িত্ব বিচারক ও আইনজীবীদের। কোনো বিচারকের বিরুদ্ধে কিছু বলতে হলে তার প্রক্রিয়া আছে। অভিযোগ থাকলে বা কোনো অশুভ তৎপরতা দেখলে তা প্রধান বিচারপতিকে জানান।  আপনারা কোর্ট অফিসার। কারা দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত তাদের চিহ্নিত করার দায়িত্ব আপনাদের। প্রতিষ্ঠানের ভালোর জন্যে যা করা দরকার, তার জন্য আপনাদের সহযোগিতা চাইব। কিন্তু ঢালাওভাবে বক্তব্য দিয়ে সমাধান হবে না। প্রতিষ্ঠানকে বিতর্কিত করা যাবে না। কারো বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ থাকলে তা চিহ্নিত করে সুনিদির্ষ্টভাবে বলুন।”

শামসুল হক চৌধুরী সম্পর্কে তিনি বলেন, “তিনি বড়মাপের  আইনজীবী ছিলেন ঠিক। তবে তিনি এই বারের সর্বজনশ্রদ্ধেয় নেতা ছিলেন। তিনি যা বিশ্বাস করতেন, বাস্তবে সেটাই করতেন। তিনি আইনের শাসন ও বিচার বিভাগের স্বাধীনতায় বিশ্বাস করতেন। দেশের ক্রান্তিকালে তিনি নেতৃত্ব দিয়েছেন।” তার আদর্শ অনুসরণ করতে আইনজীবীদের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।

সিনিয়র আইনজীবী এ বি এম নুরুল ইসলাম বলেন, “গত বছর বিচারাঙ্গন দুর্নীতিতে দ্বিতীয় অবস্থানে ছিল। সেটা সংবাদপত্রে প্রকাশিত হয়েছে।” তিনি বলেন, “সুপ্রিমকোর্টে ৮-১০ জনের একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। যারা এই অঙ্গনে অসাধু কর্মকাণ্ড পরিচালনা করেন।”

পরে আবদুল বাসেত মজুমদার বলেন, “বিচারাঙ্গনের মর্যাদা রক্ষার জন্য আইনজীবীদের অগ্রণী ভূমিকা রাখতে হবে। বার ও বেঞ্চকে একে অপরের সহযোগী হিসেবে কাজ করতে হবে। এমন কোনো মন্তব্য করা উচিত নয় যাতে বিচার বিভাগের মর্যাদা ক্ষুণ্ন হয়। বিচারকদের বিতর্কেও ঊর্ধ্বে রাখতে হবে।”

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।