পিরোজপুরে অনিশ্চিত ১১৪ জন পরীক্ষার্থীর ভবিষ্যত: প্রবেশপত্র গায়েবের অভিযোগ

আগামী ৬ জুন অনুষ্ঠিতব্য স্নাতক সমমান ফাজিল পরীক্ষার একটি মাদরাসার শতাধীক পরীক্ষার্থীর প্রবেশ পত্র গায়েব হওয়ায় তাদের পরীক্ষায় অংশ নেওয়া অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। ফলে প্রবেশপত্র না পাওয়ায় তারা দুশ্চিন্তার পাশাপাশি অণিশ্চয়তায় মানসিক চাপের মধ্যে রয়েছেন।

পিরোজপুরের ভান্ডারিয়া উপজেলার শাহাবুদ্দীন ফাজিল মাদরাসা দক্ষিনাঞ্চলের একটি গুরুত্বপূর্ণ মাদরাসা। প্রতি বছর এ মাদরাসার ফাজিল পরীক্ষার্থীরা পিরোজপুরের জিয়ানগর উপজেলার টগরা দারুল ইসলাম কামিল মাদরাসা কেন্দ্রে পরীক্ষা দিয়ে আসছিলেন।  কিন্তু এ বছর ভান্ডারিয়া উপজেলার ফাজিল পরীক্ষার নতুন কেন্দ্র হিসেবে ভান্ডারিয়া শাহাবুদ্দীন ফাজিল মাদরাসা (কেন্দ্র কোড পিরোজপুর-৫) কেন্দ্রে এ পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা।

আগামী ৬ জুন অনুষ্ঠিতব্য কুষ্টিয়া ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিনে স্নাতক সমমান ফাজিল পরীক্ষার প্রবেশ পত্র এখনও হাতে পায়নি পিরোজপুরের ভান্ডারিয়া কেন্দ্রের ১১৪ জন ফাজিল পরীক্ষার্থী। ফলে প্রবেশ পত্র না পেয়ে তাদের পরীক্ষায় অংশ নেওয়া অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। এবার ফাজিল পরীক্ষার নতুন কেন্দ্র হিসেবে ভান্ডারিয়া শাহাবুদ্দীন ফাজিল মাদরাসা (কেন্দ্র কোড পিরোজপুর-৫) কেন্দ্রে এ পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা। তবে এর আগে এ উপজেলার ফাজিল পরীক্ষা পিরোজপুরের জিয়ানগর টগরা দারুল ইসলাম কামিল মাদরাসা কেন্দ্র অনুষ্ঠিত হয়ে আসছিল। অভিযোগ উঠেছে   পিরোজপুরের জিয়ানগর টগরা দারুল ইসলাম কামিল মাদরাসার অধ্যক্ষ এতে ক্ষুদ্ধ হয়ে নতুন পরীক্ষা কেন্দ্র স্থাপন ঠেকাতে না পেরে ভান্ডারিয়ার ১১৪ জন পরীক্ষার্থীর প্রবেশ পত্র কুষ্টিয়া ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে উঠিয়ে এনে গায়েব করে পরীক্ষার্থী ও ভান্ডারিয়ার মাদরাসা পরীক্ষা কেন্দ্র কর্তৃপক্ষকে বিপাকে ফেলেছেন। তবে জিয়ানগর টগরা দারুল ইসলাম কামিল মাদরাসার অধ্যক্ষ ওই ১১৪ পরীক্ষার্থীর প্রবেশ পত্র উত্তোলন করেননি বলে দাবি করেছেন।
এদিকে এখনও (আজ রোববার পর্যন্ত) প্রবেশ পত্র হাতে না পেয়ে ভান্ডারিয়ার শাহাবুদ্দীন ফাজিল মাদরাসার ৮৪ জন পরীক্ষার্থী ও কাউখালী উপজেলার জোলাগাতি ইসলামীয়া ফাজিল মাদরাসার ৩০ জন পরীক্ষার্থী মোট ১১৪ জন ফাজিল পরীক্ষর্থীর আগামী ৬ জুন অনুষ্ঠিতব্য পরীক্ষায় অংশগ্রহণ অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে।

এ ব্যাপারে ফাজিল (স্নাতক) পরীক্ষা ভান্ডারিয়া কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা  ও ভান্ডারিয়া শাহাবুদ্দীন ফাজিল মাদ্রাসার অধ্যক্ষ এএসএম ছিদ্দিকুর রহমান বলেন,  ভান্ডারিয়া কেন্দ্রের ওই ১১৪ পরীক্ষার্থীর প্রবেশ পত্র আনতে গেলে কুষ্টিয়া ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক(চলতি দায়িত্ব) তাকে জানান, যে পিরোজপুরের জিয়ানগর টগরা দারুল ইসলাম কামিল মাদরাসার অধ্যক্ষ মো.দেলোয়ার হোসেন তার পরীক্ষা কেন্দ্রের সাথে ভান্ডারিয়ার ১১৪ টি প্রবেশ পত্র নিয়ে গেছেন। ২/৩ দিন ঘোরানোর পর ভান্ডারিয়া শাহাবুদ্দীন ফাজিল মাদ্রাসার অধ্যক্ষ গতকাল শনিবার ওই ১১৪ পরীক্ষার্থীর প্রবেশ পত্র আনতে  জিয়ানগর টগরা দারুল ইসলাম কামিল মাদরাসার অধ্যক্ষের কাছে গেলে তিনি প্রবেশ পত্র আনেননি বলে জানিয়ে দেন। এরপর কয়েকদফা মোবাইলে কুষ্টিয়া ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় পরীক্ষা কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করলেও ওই একই কথা জানানো হয়। তিনি আরো জানান প্রবেশ পত্র না পেয়ে ১১৪ জন পরীক্ষার্থী খুব উৎকণ্ঠার মধ্যে রয়েছেন। তাদের পরীক্ষা অনিশ্চত হয়ে পড়েছে।

এ ব্যাপারে জিয়ানগর টগরা দারুল ইসলাম কামিল মাদরাসার অধ্যক্ষ মো. দেলোয়ার হোসেন এ প্রতিনিধিকে জানান, তিনি পিরোজপুর-৫ ভান্ডারিয়া কেন্দ্রের কোন প্রবেশ পত্র আনেননি। তার কাছে অন্য কোন মাদরাসার প্রবেশ পত্র নেই।

এ ব্যাপারে কুষ্টিয়া ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক মো. মনিরুজ্জামান জানান,ভান্ডারিয়া কেন্দ্রের ১১৪ জন পরীক্ষার্থীর প্রবেশ পত্র জিয়ানগর টগরা দারুল ইসলাম কামিল মাদরাসার অধ্যক্ষ কাছে দেওয়া হয়েছে।


সম্পাদনা: শামীম ইবনে মাজহার,নিউজরুম এডিটর

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।