ইমাম খোমেনীর (রহ.) ২৪তম মৃত্যুবার্ষিকী পালিত

মঙ্গলবার ইরানের ইসলামি বিপ্লবের নেতা ও ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের জনক ইমাম খোমেনীর (রহ.) ২৪তম মৃত্যুবার্ষিকী পালিত হয়েছে। রাজধানী তেহরানসহ সারা দেশ এবং বিদেশে অবস্থিত ইরানি মিশনগুলোতে মঙ্গলবার এ উপলক্ষে বিভিন্ন অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। তেহরানের দক্ষিণ প্রান্তে অবস্থিত ইমাম খোমেনীর (রহ.) মাজারে সকালে দেশের শীর্ষস্থানীয় কর্মকর্তাদের পাশাপাশি লাখো মানুষ সমবেত হন। সেখানে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহিল উজমা খামেনেয়ী ভাষণ দেন। আয়াতুল্লাহ রুহুল্লাহ মুসাভি খোমেনী ১৯০২ সালের ২৪ সেপ্টেম্বর ইরানের খোমেন শহরের একটি সম্ভ্রান্ত ও উচ্চশিক্ষিত পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। বংশ পরম্পরায় এ নেতার পরিবার সমাজকে ধর্মীয় দিক-নির্দেশনা দেয়ার দায়িত্ব পালন করে আসছিল।

ইমামের শিক্ষাজীবন শুরু হয় পবিত্র কুরআন মুখস্থ করার মধ্য দিয়ে। এরপর তিনি ইরানের আরাক শহরে (১৯২০-২১) এবং পরবর্তী সময়ে কোমে (১৯২৩) ধর্মীয় শিক্ষা লাভ করেন।

ত্রিশের দশকে ইমাম খোমেনী (রহ.) কোমের ধর্মতত্ত্ব কেন্দ্রের ছাত্রদের ইসলামি আইনশাস্ত্র শিক্ষা দেন।

পঞ্চাশের দশকে তিনি ইসলামি ফিকাহশাস্ত্রে পাণ্ডিত্য অর্জন করে মুজতাহিদ হওয়ার যোগ্যতা অর্জন করেন। ১৯৬১ সালে ইমামের রাজনৈতিক জীবন শুরু হয়।

১৯৬৩ সালে তিনি তৎকালীন শাহ সরকারের অত্যাচার, নিপীড়ন ও আমেরিকার পদলেহী নীতির বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ান। সে সময় মোহাম্মাদ রেজা শাহ ইরানে শ্বেতবিপ্লব শুরু করেন।

ইমামের নেতৃত্বে দেশে বসবাসরত ইরানি জনগণের পাশাপাশি সারা বিশ্বে অবস্থানরত ইরানিরা শাহ সরকারের বিরুদ্ধে বিপ্লবী তৎপরতা শুরু করে। ১৯৭৯ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি সে বিপ্লব চূড়ান্ত সাফল্য অর্জন করে এবং  এর মাধ্যমে আধুনিক বিশ্বের ইতিহাসে একটি নজীরবিহীন বিপ্লবের নেতৃত্ব দেন ইমাম খোমেনী (রহ.)।

বিপ্লব-পরবর্তী ইসলামি শাসনব্যবস্থায় সর্বোচ্চ নেতার পদ গ্রহণ করেন তিনি। তবে সরকার পরিচালনা থেকে নিজেকে অনেক দূরে সরিয়ে রাখেন। ১৯৮৯ সালের ৪ জুন মারা যান ইমাম খোমেনী (রহ.)।

ইমামের মৃত্যুর পর ইরানের বিশেষজ্ঞ পরিষদ সাবেক প্রেসিডেন্ট আয়াতুল্লাহিল উজমা খামেনেয়ীকে ইসলামি প্রজাতন্ত্রের সর্বোচ্চ নেতা নির্বাচন করে। তখন থেকে এখন পর্যন্ত এ দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছেন আয়াতুল্লাহ সাইয়্যেদ আলী খামেনেয়ী। সূত্র: আইআরআইবি।


সম্পাদনা: শামীম ইবনে মাজহার,নিউজরুম এডিটর

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।