হরিনাকুন্ডুতে সড়ক বিভাগের উদাসিনতার কারণে সরকারের জমি বেদখলে চলে যাচ্ছে: ব্রীজ নির্মানে আইন না মানায় আদালতে মামলা

ঝিনাইদহের হরিনাকুন্ডু উপজেলার শাখারীদহ বাজারে সড়ক বিভাগের উদাসিনতার কারণে সরকারের জমি বেদখলে চলে যাচ্ছে। জমি উদ্ধার না করায় সড়ক বিভাগের রাস্তাটি ব্যক্তি মালিকানাধীন জমির মধ্যে অবৈধ অনুপ্রবেশ করেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এছাড়া রাস্তাটিতে বিপজ্জনক বাঁক সৃষ্টি হওয়ার ফলে সেখানে অহরহ দুর্ঘটনায় মানুষের প্রানহানীসহ পঙ্গুত্ব বরণ করছে। ইতিমধ্যে শখারীদহ বাজারের বাঁকে সড়ক দুর্ঘটনায় বাদল নামে এক ভ্যান চালক নিহত হয়েছে। এদিকে ১৯২৬ সালের ম্যাপ মোতাবেক সোজাসুজি ব্রীজটি নির্মান না করে মনগড়া ও ত্র“টিপুর্ন ডিজাইনে ব্রীজটি করার অভিযোগে ঝিনাইদহের একটি দেওয়ানী আদালতে মামলা করা হয়েছে। ২০৯৭ দাগের মালিক সিরাজুল হক বাদী হয়ে মামলাটি করেন। আদালত শুনানী শেষে ঝিনাইদহ সড়ক বিভাগের নিবর্হিী প্রকৌশলী, একই বিভাগের যশোরের তত্বাবধায়ক প্রকৌশলী এবং ঝিনাইদহ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলীর প্রতি সমন জারি করেছেন।
এলাকাবাসি সুত্রে জানা গেছে ১৯৭১ সালে শাখারীদহ বাজারে জিকে সেচ প্রকল্পের ডি-নাইন ক্যানালের জন্য জমি অধিগ্রহন করা হয়। খাল কাটার পর সেখানে পানি উন্নয়ন বোর্ড একটি ব্রীজ নির্মান করে। পানি উন্নয়ন বোর্ড সে সময় খাল খননের জন্য রুপদাহ শাখারীদহ মৌজার ২০৯৭ দাগের ১৮ শতক জমি অধিগ্রহন করে। এই জমির দক্ষিন ও পশ্চিম পাশ দিয়ে ঝিনাইদহ হরিণাকুন্ডু সড়ক (যার দাগ নং ২৭৭০) নির্মিত। ব্রীজটি সোজাসুজি নির্মান করে পানি উন্নয়ন বোর্ডের  অধিগ্রহনকৃত আনুমানিক ৫/৭ শতক জমি উদ্ধারে ক্ষতিগ্রস্থ জমির মালিক সিরাজুল হক ২০১১ সালের ১৬ জানুয়ারী সড়ক বিভাগের ঝিনাইদহের নির্বাহী প্রকৌশলীকে প্রথম বার, ২০১২ সালের ১৪ জুলাই সওজ বিভাগের প্রধান প্রকৌশলীকে দ্বিতীয়বার, ২০১৩ সালের ২৭ মার্চ পুনরায় সড়ক বিভাগের ঝিনাইদহের নির্বাহী প্রকৌশলীকে তৃতীয় বার এবং ২০১৩ সালের ২৯ এপ্রিল সওজের যশোর তত্বাবধয়ক প্রকৌশলীর কাছে আবেদন নিবেদন করলেও বিভাগীয় ভাবে কোন পদক্ষেপ গ্রহন করা হয়নি। তবে সড়ক বিভাগের সার্ভে রিপোর্টে সিরাজুল হকের মালিকানাধীন দুই শতক জমিতে রাস্তা প্রবেশ করেছে মর্মে সওজের উপ সহকারী প্রকৌশলী শেখ জাহাঙ্গীর হোসেন তার প্রতিবেদনে স্বীকার করেছেন। তিনি রিপোর্টে আরো উল্লেখ করেছেন পুরাতন ব্রীজটি বাঁকা ভাবে নির্মান করায় সেখানে বিপজ্জনক বাঁকের সৃষ্টি হয়ে অহরহ দুর্ঘটনা ঘটছে। সুতরাং নতুন ভাবে নির্মানাধীন ব্রীজটি সিএস ম্যাপ অনুযায়ী সোজাসুজি নির্মান করার জন্য সুপারশি করা হয়েছে। তবে নির্বাহী প্রকৌশলী শাহাজান নিজ বিভাগের এই সার্ভে রিপোর্ট আমলে না নিয়ে পুরাতন কায়দায় ১২ ফুটের স্থলে ২৪ ফুট প্রশস্ত করে আবারো ব্রীজটি নির্মান করছেন। ফলে জমির মালিক সিরাজুল হক বাধ্য হয়ে আদালতের স্মরনাপন্ন হয়েছেন। জানা গেছে শাখারীদহ বাজারে পানি উন্নয়ন বোর্ডের জমিতে অবৈধ ভাবে পাকা দোকান তুলে চুটিয়ে ব্যবসা করে যাচ্ছেন হরিনাকুন্ডু উপজেলার কাপাশহাটিয়া ইউনিয়নের দৌলতপুর গ্রামের শাহিন, আবুল হোসেন খা, বাসুদেবপুর গ্রামের আমানত জোয়ারদার, শাখারীদহ গ্রামের সনজের মালিথা, আব্দুর রহিম, আব্দুল মজিদ, আব্দুল আজিজ, আব্দুল কুদ্দুস, আব্দুর রশিদ, আহাম্মদ আলী, রুপদাহ গ্রামের ইসরাফিল ও কিসমতপুর গ্রামের মতিয়ার রহমান। এদের উচ্ছেদ করে ব্রীজটি অনায়াসেই সোজাসুজি নির্মিত হলে বিপজ্জনক বাঁকের সৃষ্টি হতো না এবং ব্যক্তি মালিকানাধীন জমির উপরও যেতে হতো না বলে এলাকাবাসি জানায়। এ ক্ষেত্রে ঝিনাইদহ সড়ক বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাম্মদ শাহাজাহানের চরম উদাদিসনা ও খামখেয়ালীপনা দায়ী বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এই বিরোধ নিস্পত্তিতে খোদ সড়ক বিভাগের প্রধান প্রকৌশলীর চিঠিও থোড়াই কেয়ার করা হয়েছে। বর্তমান শাখারীদহ বাজারে নতুন ভাবে ব্রীজ নির্মানের জন্য টেন্ডার আহবান করে পুরাতন ব্রীজটি ভাঙ্গার কাজ চলছে। তবে মামলার কারণে ব্রীজ নির্মানের পক্রিয়া বন্ধ হয়ে যেতে পারে বলে আইনজ্ঞরা মনে করেন।


সম্পাদনা: শামীম ইবনে মাজহার,নিউজরুম এডিটর

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।