জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদের মামলার রায় যেকোনো দিন

মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে আটক জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদের মামলার রায় যেকোনো দিন দেয়া হবে মর্মে অপেক্ষমাণ রেখে দিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। আসামিপক্ষ এবং রাষ্ট্রপক্ষের যুক্তি উপস্থাপন শেষে মামলাটির কার্যক্রম সমাপ্তি ঘোষণা করে বিচারপতি ওবায়দুল হাসানের নেতৃত্বে তিন সদস্যের ট্রাইব্যুনাল-২ এ আদেশ দেন।

এর আগে বুধবার সকাল থেকে প্রসিকিউটর তুরিন আফরোজ জামায়াতের এ নেতার বিরুদ্ধে আইনি পয়েন্টে যুক্তি উপস্থাপন করেন।
মঙ্গলবার মুজাহিদের পক্ষে তার আইনজীবী ব্যারিস্টার আব্দুর রাজ্জাক ও তার ছেলে ব্যারিস্টার ইমরান সিদ্দিকী যুক্তি উপস্থাপন শেষ করেন।
গত ২ জুন রোবববার থেকে মুজাহিদের পক্ষে যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষে ল পয়েন্ট উপস্থাপন শুরু করে শেষ করেন আসামিপক্ষের প্রধান আইনজীবী ব্যারিস্টার আব্দুর রাজ্জাক।
এর আগে  গত ৭ মে থেকে ১৬মে পর্যন্ত মোট চারদিন রাষ্ট্রপক্ষ মুজাহিদের বিরুদ্ধে যুক্তিতর্ক উপস্থাপন করেন। এরপর আসামিপক্ষে সৈয়দ মিজানুর রহমান ও মুন্সি আহসান কবির যুক্তি উপস্থাপন করেন।
আলী আহসান মুহাম্মাদ মুজাহিদের বিরুদ্ধে গত বছরের ২৬ আগস্ট শাহরিয়ার কবিরের সাক্ষ্য গ্রহণের মধ্য দিয়ে সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হয়। এরপর এ মামলায় রাষ্ট্রপক্ষের তদন্ত কর্মকর্তা আব্দুর রাজ্জাকসহ মোট ১৭ জন সাক্ষী সাক্ষ্য দেন।
অপরদিকে মুজাহিদের পক্ষে প্রথম এবং একমাত্র সাফাই সাক্ষী হিসেবে জবানবন্দি দেন তার ছোট ছেলে আলী আহমেদ মাবরুর।
গত ২২ এপ্রিল প্রসিকিউশনের সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ হলে আসামিপক্ষের সাক্ষ্য গ্রহণের জন্য ৫ মে দিন ধার্য করে দেন ট্রাইব্যুনাল।
গত বছরের ২১ জুন মুজাহিদের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট সাতটি ঘটনায় ৩৪টি অভিযোগে অভিযোগ গঠন করে ট্রাইব্যুনাল। এরপর ১৯ জুলাই ট্রাইব্যুনালে ২৯ পৃষ্ঠার ওপেনিং স্টেটমেন্ট (সূচনা বক্তব্য) উত্থাপন করেন চিফ প্রসিকিউটর গোলাম আরিফ টিপু, প্রসিকিউটর মোখলেসুর রহমান বাদল ও মীর ইকবাল হোসেন।
এর আগে ২০১১ সালের ১ নভেম্বর তার বিরুদ্ধে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেয় তদন্ত সংস্থা। এরপর ২০১২ সালের ২৬ জানুয়ারি মুজাহিদের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ আমলে নেয়া হয়। মুজাহিদের বিরুদ্ধে পেশ করা আনুষ্ঠানিক অভিযোগে ১০৯ পৃষ্ঠার ৩৩টি অভিযোগে মানবতাবিরোধী অপরাধে জড়িত থাকার বিভিন্ন ঘটনা উল্লেখ থাকার কথা জানায় প্রসিকিউশন।
গত বছরের ৭ জুলাই আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের আদেশ পুর্নবিবেচনা (রিভিউ) আবেদন করে প্রসিকিউশন। পরে শুনানি শেষে এ বিষয়ে আদেশে দেয় ১৫ জুলাই।
এদিকে ২০১১ সালের ২৮ ডিসেম্বর মুজাহিদের বিরুদ্ধে দেয়া আনুষ্ঠানিক অভিযোগ ট্রাইব্যুনালে যথাযথভাবে উপস্থাপিত হয়নি মর্মে ফেরত দিয়ে ১৬ জানুয়ারি পুনরায় দাখিলের নির্দেশ দেয় ট্রাইব্যুনাল-১ । এরপর গত বছরের ১৬ এপ্রিল চিফ প্রসিকিউটরের এক আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে উক্ত মামলাটি ট্রাইব্যুনাল-২ এ স্থানান্তর করা হয়।
এদিকে অভিযোগ গঠনের শুনানিতে ব্যারিস্টার আব্দুর রাজ্জাক বলেন, “১৯৫ জন চিহ্নিত পাকিস্তানি যুদ্ধাপরাধীর বিচার করার জন্য ১৯৭৩ সালে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল আইন করা হয়। এ বিষয়ে পার্লামেন্টে আলোচনা হয়। এছাড়া ৭২ সালে দালালি আইনে ৭৫ হাজার মানুষকে  বিচারের আওতায় আনা  হয়। কিন্তু মুজাহিদের বিরুদ্ধে অতীতে কখনো অভিযোগ আসেনি। এখানে যেটা করা হচ্ছে তার একটাও উদহারণ নেই। নুরেমবার্গ, আইসিসি, সিয়েরালিওন এবং কম্বোডিয়া ট্রাইব্যুনালে। এখানে আন্তর্জাতিক আইনে বিচার হচ্ছে। অন্যদিকে প্রধান অপরাধী ১৯৫ পাকিস্তানি যুদ্ধাপরাধীকে ত্রিদেশীয় এগ্রিমেন্টের মাধ্যমে ছেড়ে দেয়া হয়েছে। ৪০ বছর পর বলা হচ্ছে তুমি সহযোগী ছিলে।” ৪০ বছর পর অভিযোগ আনা হলেও কেন দেরি হয়েছে সে ব্যখ্যা দেয়া হয়নি বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।