কুমিল্লায় আদালতের এজলাসে এক তরুণী বিষপান করে আত্মহত্যার চেষ্টা

ন্যায় বিচার না পাওয়ার আশঙ্কায় কুমিল্লা নারী ও শিশু আদালতের এজলাসে বিচারকের সামনে লাকী আক্তার (২০) নামের হতাশাগ্র¯ত এক তরুণী বিষপান করে আত্মহত্যার চেষ্টা করেছে। এ নিয়ে আদালত পাড়ায় ব্যাপক তোলপাড়ের সৃষ্টি হয়েছে। আত্মহত্যার চেষ্টা করা লাকী আক্তার কুমিল্লা জেলার দেবিদ্ধার উপজেলার চরবাকর গ্রামের বাদশাহ মিয়ার মেয়ে। তিনি কুমিল্লা ইপিজেডের একজন শ্রমিক বলে জানা গেছে।
বৃহস্পতিবার বেলা সাড়ে ১১টায় আদালত চলাকালীন সময়ে এ ঘটনা ঘটে। বিষপান করার পর দ্রুত তাকে কুমিল্লা সদর হাসপাতালে নিয়ে চিকিৎসা দেওয়া হয়। বিষপান করার সময় পুলিশের উপ পরিদর্শক (এসআই) একেএম আলমগীর জাহান বিষের বোতলটি জব্দ করেন।
হাসপাতালে চিকিৎসারত লাকী আক্তার বলেন, “২০১০ সালে ইপিজেডের সহকর্মী চান্দিনা উপজেলার আব্দুল বারেকের ছেলে কুটুম্বপুর এলাকার নাসির উল্লাহর (২৫) সঙ্গে আমার সর্ম্পক হয়। ওই বছরের নভেম্বর মাসে তিনি আমার সঙ্গে জোরপূর্বক শারীরিক সম্পর্ক করেন। পরে আমি গর্ভবতী হলে তিনি আমাকে বিয়ে করার আশ্বাস দিয়ে গর্ভপাত করার জন্য বলে। আমি ২০১১ সালের ৪ ফেব্রুয়ারি দেবিদ্ধার উপজেলার ডা. জাকির হোসেনের কাছে গর্ভপাত করি।”
লাকি আরও বলেন, “গর্ভপাত করানোর পরে নাসির উল্লাহ আমার সঙ্গে বেঈমানি করে বিয়ে করতে অস্বীকৃতি জানায়। পরে আমি কোনা উপায় না দেখে গত বছরের শেষের দিকে নারী ও শিশু আদালতে ধর্ষণ মামলা করি। প্রতারক নাসির উল্লাহ নির্দিষ্ট সময়ে আদালতে হাজির না হয়ে চলতি বছরের ২৩ এপ্রিল আদালত থেকে জামিন পায়।”
তিনি আরও বলেন, “আমি এতো কষ্ট করে আদালতে যাচ্ছি ন্যায় বিচার পাওয়ার জন্য, কিন্তু প্রতারক নাসির উল্লাহ আদালত থেকে জামিন নিয়ে ঘুরে বেড়াচ্ছে। আমি সমাজে ঘৃণিত হয়েছি, সমাজ আমাকে ভালভাবে নিচ্ছে না। লজ্জায় এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় ভাড়া করে বসবাস করছি। কোথাও স্থায়ী হতে পারছিনা। আমি কি নিয়ে সমাজে বসবাস করব। তাই আজ আদালতে আমার মামলার শুনানি চলাকালে আমি বিষপান করে আত্মহত্যা করতে চেয়েছি।”
আদালতে উপস্থিত কোতয়ালী থানার উপ-পুলিশ (এসআই)একেএম আলমগীর জাহান জানান, আদালতে বিষপান করার সময় নাছরিন থেকে বিষের বোতলটি জব্দ করা হয়েছে। পরে দ্রুত তাকে হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
কুমিল্লা নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল আদালতের বিশেষ পিপি অ্যাডভোকেট ছিদ্দিকুর রহমান বলেন, “আমি যতটুকু জানি, বাদী পক্ষের মেডিকেল সার্টিফিকেটের কিছুটা গরমিল থাকায় বিবাদী জামিন পেয়েছে।”
আদালত সূত্রে জানা যায়, লাকি আক্তার ২০১১ সালের ৪ ফেব্রুয়ারি দেবিদ্ধার উপজেলার ডা. জাকির হোসেনের কাছে এমআর করে। পরে তিনদিন চিকিৎসাধীন থাকার পর ৮ ফেব্রুয়ারি ডাক্তার তাকে তার প্রাইভেট প্যাডে করে সার্টিফিকেট দেয়। কিন্তু ওই প্রাইভেট প্যাডে দেবিদ্ধার স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিকেল অফিসার হিসেবে ডা. জাকির হোসেনের পদবি লেখা ছিল। লাকী আক্তার ওই ডাক্তারের মেডিকেল সার্টিফিকেট আদালতে উপস্থাপন করে। পরে বিবাদী পক্ষ একটি সার্টিফিকেট আদালতে পেশ করে।
তাতে উল্লেখ করা হয়, ফেব্রুয়ারি মাসে মেডিকেল সার্টিফিকেটে ডা. জাকির হোসেন নিজেকে দেবিদ্ধার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিকেল অফিসার হিসেবে উল্লেখ করে এমআর সার্টিফিকেট দিয়েছিল। কিন্তু ডা. জাকির হোসেন গত ১৫ মে দেবিদ্ধার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিকেল অফিসার হিসেবে যোগদান করে। ওই মেডিকেল সার্টিফিকেটের গরমিলের কারণে বিবাদী নাসির উল্লাহ জামিন পেয়েছে বলে আদালত সূত্র জানায়।


সম্পাদনা: শামীম ইবনে মাজহার,নিউজরুম এডিটর

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।