ফেনীতে বোর্ডের অনুমতি ছাড়া ৪ টি কলেজে ভর্তি কার্যক্রমে নিষেধাজ্ঞা

ফেনীতে অনুমোদনহীন ৪ টি কলেজে ভর্তি ও প্রচার-প্রচারনা বন্ধের নির্দেশ দিয়েছে জেলা প্রশাসন। বৃহস্পতিবার সকালে জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট মো: মহসীন মৃধা সরেজমিনে কলেজ ক্যাম্পাস পরিদর্শন করে এ নির্দেশ প্রদান করেন।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, অনুমোদন ছাড়া ভাড়া ভবনে নাম স্বর্বস্ব শিক্ষা প্রতিষ্ঠান চালু করে ২০১৩-১৪ শিক্ষাবর্ষে ৮ টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। এর মধ্যে ফেনী মডেল কলেজ, ফেনী ভিক্টোরিয়া কলেজ, উত্তর আলীপুর স্কুল এন্ড কলেজ, দরবেশেরহাট পাবলিক কলেজ শিক্ষার্থী ভর্তির অনুমোদন পেলেও অপর ৪ টি কলেজের অনুমোদন মিলেনি। এরপরও তারা পোষ্টার, ব্যানার, লিফলেট ও পত্রিকায় বিজ্ঞাপন দিয়ে ভর্তি প্রক্রিয়া অব্যাহত রাখায় বোর্ড চেয়ারম্যানের নির্দেশক্রমে চলতি সেশনে একাদশ শ্রেনীতে ভর্তির নির্দেশনা দিয়ে কলেজ পরিদর্শক ড. মো: নিজামুল করিম স্বাক্ষরিত একটি বিজ্ঞাপন প্রকাশ করা হয়। বিজ্ঞাপনটিতেও ফেনী শহরের ওই ৪ টি কলেজের নাম প্রকাশ করা হয়নি। জেলা প্রশাসনের নির্দেশে বৃহস্পতিবার সরোজমিনে গিয়ে মুক্ত বাজার সংলগ্ন সাউথ এশিয়ান কলেজ, ডাক্তার পাড়ার এশিয়ান কলেজ ও পাঠানবাড়ী রোডের মাথায় ক্যামব্রিয়েট কলেজে ভর্তি কার্যক্রম ও সব ধরনের প্রচার-প্রচারনা বন্ধের নির্দেশ দেন নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট মো: মহসীন মৃধা। এদিকে নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেটের আগমনের সংবাদ পেয়ে ক্যাম্পাসে তালা ঝুলিয়ে গা ঢাকা দেন পাঠানবাড়ী সংলগ্ন ফেনী মহিলা কলেজ কর্তৃপক্ষ। অপরদিকে এসব কলেজে ভর্তি হওয়া শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে উদ্বেগ-উৎকন্ঠা বিরাজ করছে।
অপর দিকে কোনো রকম অনুমোদন ছাড়াই কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ডের আওতাভুক্ত ফেনী জেলায় ২০১৩-১৪ শিক্ষাবর্ষে একাদশ শ্রেণীতে ৪টি নতুন কলেজ ভর্তি কার্যক্রম শুরু করে। শিক্ষার্থী ভর্তির জন্য বহু আগে থেকে শহরে ও গ্রামে নানা ধরনের আকর্ষণীয় ব্যানার, ফেস্টুন লাগিয়ে ও সুধী সমাবেশ করে প্রচারণা শুরু করেছে।
বোর্ড সূত্রে জানা যায়, গত মাসে ফেনী জেলার সাতটি নতুন কলেজ খোলার আবেদনপত্র জমা পড়ে। এগুলোর মধ্যে ৪টি কলেজে ছাত্র-ছাত্রী ভর্তি করার জন্য বোর্ড অনুমতি দিয়েছে। শিক্ষা বোর্ড থেকে জানা যায়, মফস্বল এলাকায় কলেজ প্রতিষ্ঠার জন্য জমি প্রয়োজন এক একর, শহরে করতে হলে জমি প্রয়োজন ৭৫ শতক এবং সিটি করপোরেশন এলাকায় ৫০ শতক জমি থাকলে কলেজ প্রতিষ্ঠা করা যায়। একই সঙ্গে ৭৫ হাজার জনসংখ্যার জন্য একটি কলেজ থাকার বিধান রয়েছে। কিন্তু যেসব এলাকায় নতুন কলেজ প্রতিষ্ঠার চেষ্টা চলছে, সেখানে কোনো ধরনের শর্ত পূরণ করা হয়নি।
সরেজমিনে কলেজগুলোতে গিয়ে দেখা গেছে, আবাসিক ভবন ভাড়া করে কলেজগুলোর সাইনবোর্ড ঝুলিয়ে দেওয়া হয়েছে। ১৮ মে থেকে ভর্তি ফরম বিতরণ শুরু হলেও এসব কলেজে অনেক আগে থেকেই শিক্ষার্থী ভর্তির কার্যক্রম শুরু করেছে।


সম্পাদনা: শামীম ইবনে মাজহার,নিউজরুম এডিটর

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।