বেসরকারি শিক্ষক কর্মচারী সংগঠনগুলো এমপিওভুক্তির দাবিতে কঠোর অবস্থানে যাচ্ছে

বেসরকারি শিক্ষক কর্মচারী সংগঠনগুলো এমপিওভুক্তির দাবিতে কঠোর অবস্থানে যাচ্ছে । তারা বলেছে এ বিষয়ে প্রস্তাবিত বাজেটে অর্থবরাদ্দ না করলে তারা  আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দায়িত্ব পালন করবেন না বলে হুমকি দিয়েছেন তারা।  শিক্ষক কর্মচারী সংগ্রামী ঐক্য পরিষদ, শিক্ষক-কর্মচারী ঐক্যজোট ও ননএমপিও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান শিক্ষক-কর্মচারী ঐক্যজোটের নেতারা এ তথ্য জানান।

সংসদ নির্বাচনে ভোটকেন্দ্রগুলোতে প্রিজাইডিং ও পোলিং অফিসারের দায়িত্ব দেয়া হয় শিক্ষকদের। প্রিজাইডিং অফিসাররা ভোটকেন্দ্র তদারকি এবং ভোট শেষে বেসরকারিভাবে সংশ্লিষ্ট কেন্দ্রের ভোটের ফলাফল ঘোষণা করেন। পোলিং অফিসাররা ভোট গ্রহণের দায়িত্ব পালন করেন।

শিক্ষকরা জাতীয়করণ ও এমপিওভুক্তির দাবিতে প্রায় সাত হাজার নিম্ন মাধ্যমিক স্কুল, মাধ্যমিক স্কুল, কলেজ, কারিগরি ও মাদ্রাসার লক্ষাধিক শিক্ষক-কর্মচারী গত বছরের মে থেকে আন্দোলন করে আসছেন। গত ফেব্রুয়ারিতে শিক্ষামন্ত্রীর আশ্বাসের ভিত্তিতে আন্দোলন স্থগিত করেন তারা।

প্রস্তাবিত বাজেটে জাতীয়করণের জন্য বরাদ্দ না থাকায় হতাশ হয়েছেন বলে জানান শিক্ষক-কর্মচারী ঐক্যজোটের চেয়ারম্যান সেলিম ভূঁইয়া।

তিনি জানান, শিক্ষক-কর্মচারী সংগঠনগুলোর সঙ্গে কথা বলে জুন-জুলাই মাসে জেলায় জেলায় সমাবেশের কর্মসূচি নেয়া হয়েছে। ৫ অক্টোবর রাজধানীতে মহাসমাবেশ হবে বলেও জানান তিনি।

সেলিম ভূঁইয়া বলেন, “সমাবেশে আগত শিক্ষক-কর্মচারীদের সেন্টিমেন্ট বুঝে আন্দোলনের চূড়ান্ত কর্মসূচি নেয়া হবে। সেই কর্মসূচির মধ্যে নির্বাচনী দায়িত্ব বর্জেনের ঘোষণাও থাকবে।”

বাজেটে চাকরি জাতীয়করণের জন্য বরাদ্দ, ঈদুল ফিতরের আগে ২৫ ভাগের পরিবর্তে শতভাগ ঈদ বোনাস ও বার্ষিক ইনক্রিমেন্টের দাবি জানিয়েছেন শিক্ষক-কর্মচারী সংগ্রামী ঐক্য পরিষদের প্রধান সমন্বয়কারী মো. নজরুল ইসলাম রনি।

তিনি বলেন, “বাজেটে বেসরকারি শিক্ষক-কর্মচারীদের চাকরি জাতীয়করণের বরাদ্দ রাখা না হলে কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে। আমরা চাই, অবিলম্বে সরকার শিক্ষক-কর্মচারীদের জন্য আনুষ্ঠানিক বরাদ্দ ঘোষণা দিক। নয়তো শিগগিরই সংবাদ সম্মেলন করে আমরা নির্বাচনকালীন দায়িত্ব বর্জনের ঘোষণা দেবো।”

নন-এমপিও শিক্ষক-কর্মচারী ঐক্যজোটের সভাপতি এশারত আলী বলেন, “আমরা আগেই বলেছিলাম, চলতি বাজেটে এমপিওভুক্তির সুনির্দিষ্ট বরাদ্দ না থাকলে কঠোর আন্দোলনে যেতে বাধ্য হব। আমরা নেতৃস্থানীয় পর্যায়ে বৈঠক করে সিদ্ধান্ত নিয়েছি, এমপিওভুক্ত করা না হলে আমরা আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সব ধরনের দায়িত্ব বর্জন করব।”

এদিকে, শুক্রবার শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ বাজেট-পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে জানিয়েছেন, এমপিওভুক্তির ব্যাপারে যুক্তিপূর্ণ সমাধানের চেষ্টা চলছে। তিনি বলেন, “যারা এমপিওভুক্ত হননি, তাদের প্রতি সরকার সহানুভূতিশীল। এমপিওভুক্তির বিষয়ে আমরা একটা যুক্তিপূর্ণ সমাধানে পৌঁছার চেষ্টা করছি।”

তিনি জানান, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের বাজেটের ৬৪ শতাংশ এমপিওভুক্তির খাতে চলে যায়। তারপরও বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেয়ার পর দেড় হাজারেরও বেশি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এবং ৪৯ হাজার শিক্ষককে এমপিওভুক্ত করা হয়েছে।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।