মহাজোটের শেষ বাজেট: জনগনকে খুশি করার চেষ্টা নির্বাচনের আগে

মহাজোট সরকারের শেষ বাজেটে নির্বাচনের আগে জনগণকে খুশি করার একটা চেষ্টা করা হয়েছে বলে ধরে নেয়া যায়। অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আব্দুল মুহিত জাতীয় সংসদে ২০১৩-১৪ অর্থবছরের জন্য দুই লাখ ২২ হাজার ৪৯১ কোটি টাকার জাতীয় বাজেট উপস্থাপন করেছেন।  বাজেটে ২০১৩-১৪ অর্থবছরে রাজস্ব আয়ের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ১ লাখ ৩৬ হাজার ৯০ কোটি। আর প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে সাত দশমিক দুই শতাংশ পর্যন্ত।

এ বাজেটে পদ্মা সেতুর জন্য বিশেষ বরাদ্দ রাখা হয়েছে ৬ হাজার ৮৫২ কোটি টাকা। পদ্মা সেতু নির্মাণকাজ সরকারের নিজস্ব অর্থায়নে শুরু করার পদক্ষেপ হিসেবে বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচীর আওতায় এই বিশাল অংকের অর্থ বরাদ্দ রাখা হয়।

মুহিত বলেন, তার এই বাজেট প্রণয়নের সময় নির্বাচনকেন্দ্রিক চিন্তার পরিবর্তে বিনিয়োগ বাড়ানোর মাধ্যমে উচ্চ প্রবৃদ্ধি অর্জন এবং মূল্যস্ফীতি সংযত রাখাটাই অন্যতম প্রধান লক্ষ্য ছিল।

তবে বিগত অর্থবছরের ৭ শতাংশ প্রবৃদ্ধির লক্ষ্য অর্জিত হবে না বলে অর্থমন্ত্রী উল্লেখ করেন। তিনি এর কারণ হিসেবে বৈশ্বি অর্থনৈতিক পরিস্থিতি, দেশেরর ভেতরে সহিংস রাজনৈতিক পরিবেশ এবং বিনিয়োগ আশানুরূপ না হবার কথা উল্লেখ করেন।

বাজেটে নির্বাচনের আগে জনগণকে খুশি করার একটা চেষ্টা ছিল এমন মনে হতে পারে, কারণ খাদ্য নিরাপত্তা সামাজিক নিরাপত্তা খাতে দরিদ্র জনগোষ্ঠীর জন নতুন সুযোগ সৃষ্টি করে বরাদ্দ বা ভর্তুকি বাড়ানোর কথা বলা হয়েছে। অন্যদিকে করমুক্ত আয়ের সীমা বাড়িয়ে দু লাখ ২০ হাজার টাকা পর্যন্ত করা হয়েছে যা মধ্যবিত্তদের খুশি করবে বলেই ধারণা করা হয়।

সরকারের বিভিন্ন প্রতিশ্রুতি পূরণের জন্য অর্থ বরাদ্দ করতে গিয়ে বাজেটের আকার অনেক বড় হয়েছে, যার ফলে বড় অংকের ঘাটতি মেটাতে রাজস্ব আয় বাড়ানোর কথা বলঅ হয়েছে। কিন্তু প্রকৃতপক্ষে এ অর্থের সংস্থান করতে সরকারকে ব্যাংক ঋণের ওপরই নির্ভরশীল হতে হবে বলে মনে করা হচ্ছে।

এবার যোগাযোগ ও পরিবহন খাতেই বরাদ্দের পরিমাণ সবচেয়ে বেশি। এর মধ্যে একটি বড় অংশ ব্যয় হতে যাচ্ছে পদ্মাসেতু নির্মাণের জন্য। তবে এর পাশাপাশি সড়ক, রেল এবং নৌ-খাতে অবকাঠামো নির্মাণের জন্য বরাদ্দের কথাও রয়েছে।

আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন মহাজোট সরকারের বর্তমান মেয়াদে এটাই শেষ বাজেট।

ব্যয় বরাদ্দের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকারের ক্ষেত্রে এরপর রয়েছে স্থানীয় সরকার এবং পল্লীউন্নয়ন খাত। তারপরে পর্যায়ক্রমে জ্বালানি ও বিদ্যুৎ,প্রতিরক্ষা, শিক্ষা ও প্রযুক্তি এবং কৃষিখাত।

কৃষিখাতে এবার ভর্তুকি বাবদ বরাদ্দ চলতি অর্থবছরের তুলনায় পাঁচশ কোটি টাকা কম প্রস্তাব করা হয়েছে।

চলতি অর্থ বছরে জ্বালানি ও বিদ্যুৎ খাতে সবচেয়ে বেশি ভর্তুকি ছিল এবং এই খাতে আর ভর্তুকি না দেয়ার কথাও আগে বলা হয়েছিল। তবে অর্থমন্ত্রীর বক্তব্যে ভর্তুকির বিষয়ে কিছু উল্লেখ করা হয়নি।
অর্থমন্ত্রী আগামী অর্থবছরে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা সাত দশমিক দুই শতাংশ নির্ধারণের কথা বলেছেন।
চলতি অর্থবছরে প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত হবে না, এ কথা স্বীকার করে নিলেও অর্থমন্ত্রী  মুহিত দাবি করেন, মুল্যস্ফীতির লাগাম টেনে ধরতে তিনি সক্ষম হয়েছেন।

বিভিন্ন খাতে খরচ বেড়ে বেড়ে যাওয়ায় প্রস্তাবিত বাজেটের আকার অনেক বড় হয়েছে অন্য বছরগুলোর তুলনায়। ফলে বড় অংকের ঘাটতি মেটাতে যদিও রাজস্ব আয় বাড়ানোর কথা বলা হয়েছে। কিন্তু ব্যাংক ঋণের উপর নির্ভরশীল হতে হবে বলেই বিশ্লেষকদের অনেকে মনে করেন।

বিরোধীদলের অনুপস্থিতিতে বৃহস্পতিবার বিকেলে সংসদ অধিবেশন শুরু হয়। এর আগে সংসদ ভবনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে মন্ত্রিসভার এক বৈঠকে বাজেট প্রস্তাব অনুমোদন করা হয়।

এবার অধিবেশন কক্ষে বড় পর্দায় পাওয়ার পয়েন্টের মাধ্যমে বাজেট উপস্থাপন করা হয়।


সম্পাদনা: শামীম ইবনে মাজহার,নিউজরুম এডিটর

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।