সংবিধান অনুযায়ী আগামী নির্বাচন “অন্তত একবার এ গণতান্ত্রিক ধারা সূচনা করতে হবে।”:প্রধানমন্ত্রী

“নির্বাচনীকালীন সরকার পদ্ধতি নিয়ে সরকার আলোচনায় প্রস্তুত থাকলেও বিএনপি সংসদে দেয়া প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করায় সে পথ রুদ্ধ করেছে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা । আর আলোচনার সুযোগ নেই। সংবিধান অনুযায়ী আগামী নির্বাচন হবে। এর কোনো ব্যতয় হবে না। অন্তত একবার এ গণতান্ত্রিক ধারা সূচনা করতে হবে।”

শুক্রবার ঐতিহাসিক ছয় দফা দিবস উপলক্ষে রাজধানীর বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে আওয়ামী লীগ আয়োজিত আলোচনা সভায় তিনি এ কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, “অতীতে কোনো সরকারের অধীনে এত সুষ্ঠু নির্বাচন হয়নি। বর্তমান সরকারের মেয়াদে সব নির্বাচন সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন হয়েছে।”

বিরোধীদলীয় নেতা বেগম খালেদা জিয়াকে উদ্দেশ করে তিনি বলেন, “আমি আলোচনার প্রস্তাব দেই, আর উনি আমাকে পাল্টা আল্টিমেটাম দিলেন। আমি নাকি পালানোর পথ খুঁজে পাব না। বিরোধীদলীয় নেতাকে বলি, এখন পালাবার পথ কাকে খুঁজতে হবে। তারপর তারা সংসদে তত্ত্বাবধায়ক নিয়ে কথা বলতে মুলতুবি প্রস্তাব দিলেন। যদিও কার্যপ্রণালী বিধি অনুযায়ী এ বিষয়ে মুলতুবি আলোচনা হয়না। তারপরও আমরা কার্য উপদেষ্টা কমিটি সিদ্ধান্ত নিয়ে তাদের এ বিষয়ে আলোচনা করতে রাজি হলাম। স্পিকার দিনের কার্যসূচিতে তা ঠাঁই দিলেন। পরে শুনলাম, তারা মুলতুবি প্রস্তাব প্রত্যাহার করে নিয়েছে। এখন আলোচনার সব দরজা তারা নিজেরা বন্ধ করে দিয়েছে। আলোচনার পথ বন্ধ করে উনি (বেগম জিয়া) কী করতে চান? আমি তাকে বলব, সংঘাতের পথ ছাড়ুন, গণতন্ত্রের পথে আসুন। নির্বাচনে অংশ নিন।”

সরকারের শেষ বাজেট নিয়ে বিভিন্ন সমালোচকদের জবাবে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, “প্রতিবার বাজেট হলেই এক শ্রেণির সমালোচক বলেন, এ বাজেট আমরা বাস্তবায়ন করতে পারব না। কিন্তু আমরা প্রতিটি বাজেটের ৯২-৯৩ ভাগ বাস্তবায়ন করতে পেরেছি। যে বাজেট আমরা দিয়েছি, তা বাস্তবায়ন করার ক্ষমতা আমাদের আছে।”

শেখ হাসিনা বলেন, “কেউ কেউ সমালোচনা করে বলেন, এটা রাজস্ব আদায়-নির্ভর বাজেট। আমি বলি রাজস্ব আদায় বাজেটই তো আমরা দিয়েছি। আর কত বিদেশী সাহায্য-নির্ভর বাজেট দেবো। নিজের পায়ে দাঁড়াতে হবে। বাংলাদেশ যত দরিদ্র থাকবে তাদের তত সুবিধা হবে। কনসালটেন্সি (পরামর্শ) করে খেতে পারবে। আমরা চাই, বাংলাদেশ আত্মমর্যাদা নিয়ে মাথা উঁচু করে দাঁড়াবে। রাষ্ট্রপতি ছাড়া সবাইকে ট্যাক্সের আওতায় আনা হয়েছে।”

গণমাধ্যম তার স্বাধীনতার অপব্যবহার করছে- অভিযোগ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “হাইতিতে দুর্ভিক্ষে একজন সুইসাইড (আত্মহত্যা) করেছে। কাবার গিলাফ পরিবর্তনের ছবি এক যুদ্ধাপরাধীর পক্ষের মানববন্ধন বলে বাংলাদেশে প্রচার করেছে। যারা ধর্ম নিয়ে এ ধরনের অপপ্রচার করেছে তাদের ছাড় দেয়া হবে না।”

বিএনপি-জামায়াতের সমালোচনা করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “পৃথিবীব ইতিহাসে এত কুরআন একসঙ্গে পোড়ানো হয়নি, যা বিএনপি-জামায়াত করেছে। ইসলামের নামে তারা মসজিদে আগুন দিয়েছে। এখন উদোর পিন্ডি বুদোর ঘাড়ে চাপানোর চেষ্টা করছে। এরা কী না পারে?”

প্রধানমন্ত্রী বলেন, “৫ মে হেফাজতের কর্মসূচিতে কোনো লাশ পড়েনি। বরং তারা পুলিশ হত্যা করেছে। সেটা নিয়েও তারা মিথ্যাচার করেছে।”

১/১১ সরকারের সমালোচনা করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “১/১১-এ ষড়যন্ত্র হয়েছিল। অনেক খ্যাতিমান ও জ্ঞানী-গুণী মানুষ সে সরকারের উপদেষ্টা হলেন। এক সেট (দল) আসে, আরেক সেট যায়। কিন্তু কেউ নির্বাচন অনুষ্ঠান করতে পারেনি। জ্ঞানী-গুণী ও সংস্কারপন্থিদের নিয়ে কিংস পার্টি গঠন করা হয়েছিল। সংবিধানপ্রণেতার দাবিদার ফতোয়া দিলেন, রোজ কেয়ামত পর্যন্ত তত্ত্বাবধায়ক সরকার থাকতে পারবে। তাদের মুখে এখন অন্য সুর। বাংলাদেশের মানুষের ভাগ্য নিয়ে বারবার ছিনিমিনি খেলা হয়েছে। তখন তারা দুই বছরে দেশের কী উন্নয়ন করেছিল? তখন তো বিরোধী দলের আন্দোলনও ছিল না। আর্মি ব্যাকড ঠেক দিয়ে রেখেছিল। এখন বড় বড় কথা বলেন, তখন কী করেছিলেন?”

মধ্যরাতের টকশো’র বক্তাদের সমালোচনা করে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আশরাফুল ইসলাম বলেন, “কথা বলেই যারা জীবিকা নির্বাহ করেন, তাদের ওপর দেশের জনগণের আস্থা নেই।”

আক্ষেপ করে তিনি বলেন, “কেন যে এতগুলো টেলিভিশনের লাইসেন্স দিলাম! এত টকশো! ইউরোপ-আমেরিকাতেও এত টক শো হয় না। এসব টক শোর বক্তাদের ইতিহাসটা কী- ব্যর্থতার ইতিহাস। তারা তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা ছিল- একটা নির্বাচন অনুষ্ঠান করতে পারেনি।”

আশরাফ বলেন, “গণতন্ত্রের কথা বলায় শেখ হাসিনাকে জেলে যেতে হয়েছে। আকবরকে (আকবর আলি খান) তো জেলে যেতে হয়নি। তাদের তো একদিনও বিচারিক আদালতে হাজিরা দিতে হয়নি।”

সংসদ উপনেতা সৈয়দা সাজেদা চৌধুরীর সভাপতিত্বে সভায় আরো বক্তব্য রাখেন, অ্যাডভোকেট সাহারা খাতুন, নূহ-উল-আলম লেনিন, মাহবুবউল আলম হানিফ, ডা. দীপু মণি, আফম বাহাউদ্দিন নাছিম, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ড. হারুন অর রশীদ, হাবিবুর রহমান সিরাজ, সিমিন হোসেন রিমি, এম এ আজিজ, মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া, আমিনুল ইসলাম আমিন ও আসাদুজ্জামান খান কামাল।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।