‘টোটালি কনফিউজড’ সরকার: মঈন খান

“আগামী নির্বাচন কিভাবে পরিচালনা করবে সে ব্যাপারে সরকার ‘টোটালি কনফিউজড’ বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আবদুল মঈন খান। আর সে কারণেই তারা একেক সময় একেক ধরনের কথা বলছে। কখনো সংলাপের কথা বলে পরে অন্য কথা বলছে।” তিনি ২০১৩-১৪ অর্থ বছরের প্রস্তাবিত বাজেটকে খোঁড়া হাঁস (লেইম ডাক) বলেও মন্তব্য করেছেন।

শনিবার দুপুরে জাতীয় প্রেস ক্লাবে বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা ও সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ৩২তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে জাতীয়তাবাদী মুক্তিযুদ্ধের প্রজন্ম আয়োজিত আলোচনা সভায় তিনি একথা বলেন।
ড. মঈন খান বলেন, “নিরপেক্ষ নির্দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচন হলে আওয়ামী লীগের শূধূ ভরাডুবিই হবে না, তাদের জামানত বাজেয়াপ্ত হবে। আর সে নির্বাচনে প্রার্থী হিসেবে নয়, একটি রাজনৈতিক দল হিসেবে তাদের জামানত বাজেয়াপ্ত হবে।”
তিনি সরকারের উদ্দেশে বলেন, “দেশের চলমান রাজনৈতিক সংকট থেকে উত্তরণের একটা মাত্র উপায় আছে তা হলো বিরোধীদলের ওপর নির্যাতন বন্ধ করতে হবে এবং সংলাপের পরিবেশ তৈরি করে আলোচনার মাধ্যমে সমস্যার সমাধান করতে হবে।এজন্য সরকারকে এগিয়ে আসতে হবে।”
মঈন খান অভিযোগ করে বলেন, “সরকার ইচ্ছামতো ইতিহাস রচনা করছে অথচ ইতিহাস রচনা করবেন ইতিহাসবেত্তারা। তারা মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস বলে যা রচনা করছে তা শুধু মিথ্যায় ভরা।”
বিএনপি রাজকারের গাড়িতে পতাকা তুলে দিয়েছে আওয়ামী লীগের এমন অভিযোগের বিষয়ে তিনি বলেন, “আমি  স্পষ্ট কথা বলতে পছন্দ করি। দল ভুল করলে আমি তার সমালোচনা করি। বিএনপি জামায়াতের দুইজন লোকের গাড়িতে পতাকা তুলে দিলেও আওয়ামী লীগ কেন ১৯৯৬ সালে নিজেদের দলের একজন রাজাকারের গাড়িতে পতাকা তুলে দিয়েছিল?
বিএনপি আর আওয়ামী লীগের মধ্যে কতজন মুক্তিযোদ্ধা আছে তা হিসেব করলে বিএনপিই প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধাদের দল হিসেবে প্রমাণিত হবে বলেও দাবি করেন মঈন খান।
২০০৮ সালে বিএনপির ছন্দপতন না হলে দেশের নতুন প্রজন্ম আওয়ামী লীগের এই চেহারা দেখতে পারতো না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
সভা-সমাবেশের ওপর নিষেধ্বাজ্ঞা আরোপ করার সমালোচনা করে সাবেক এই মন্ত্রী বলেন, “এটা মানুষের জন্মগত অধিকার। কিন্তু আওয়ামী লীগ এ গণতান্ত্রিক অধিকার হরণ করেছে, এভাবে চলতে পারে না।”
সেনাবাহিনী কোনো দিন গণতন্ত্র ধ্বংস করেনি উল্লেখ করে তিনি বলেন, “আওয়ামী লীগ যখন দেখে নিজেরা আর ক্ষমতায় আসতে পারবে না তখন তারা সেনাবাহিনীকে আমন্ত্রণ জানিয়েছে। তাই গণতন্ত্র ধ্বংসের জন্য সেনাবাহিনী নয়, আওয়ামী লীগ দায়ি। বাকশাল কায়েম করে আওয়ামী লীগ গণতন্ত্র ধ্বংস করেছে।”
সংগঠনের সভাপতি শ্যামা ওবায়েদের সভাপতিত্বে আরো বক্তব্য রাখেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ভিসি অধ্যাপক মনিরুজ্জামান মিঞা, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব চাষী নজরুল ইসলাম ও বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য ইসমাইল হোসেন বেঙ্গল।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।