তত্ত্বাবধায়কের উপদেষ্টা হতেই তত্ত্বাবধায়কের পক্ষে টক শো’র বুদ্ধিজীবীরা: আশরাফ

“কিছু তথাকথিত বুদ্ধিজীবী টেলিভিশনে টক শোতে আসেন বলে মন্তব্য করে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম বলেছেন তারা তত্ত্বাবধায়ক সরকার চান না, নির্বাচন চান না, তারা চান কিছু দিনের জন্য তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা হতে। যারা টক শোতে গিয়ে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রস্তাব উত্থাপন করেন তারা গণতন্ত্র চান না। তারা পাকিস্তানি সামরিক শাসকদের দাস ছিলেন। তাদের দিয়ে গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রা অব্যাহত থাকতে পারে না।”

শনিবার রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিটিউটে ঐক্য কনভেনশনে শুভেচ্ছা বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

কনভেনশন প্রস্তুতি কমিটির আহ্বায়ক পঙ্কজ ভট্টাচার্যের সভাপতিত্বে সভায় আরো দেন সিপিবি সভাপতি মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম, ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেনন, জাসদের সাধারণ সম্পাদক শরীফ নূরুল আম্বিয়া, গণতন্ত্রী পার্টির সাধারণ সম্পাদক নুরুর রহমান সেলিম প্রমুখ।

আশরাফ বলেন, “আমরা আশা করেছিলাম বিএনপি সংসদের মাধ্যমে জাতির কাছে তাদের বক্তব্য তুলে ধরবে। আমরাও সংসদের মাধ্যমে জাতির কাছে আমাদের বক্তব্য তুলে ধরবো। এটাই রাজনীতির সংস্কৃতি। বিএনপি নির্বাচনকালীন সরকার নিয়ে আলোচনা করার জন্য সংসদে মুলতুবি প্রস্তাব দিলেন প্রধানমন্ত্রী ও স্পিকার তাদের প্রস্তাব মেনে নিলেন। কিন্তু বেগম জিয়া সংসদের এসে সে প্রস্তাব তুলে নিলেন। এর মাধ্যমে প্রমাণিত হলো তারা আলোচনা চায় না। তারা ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে ক্ষমতা কুক্ষিগত করতে চায়।”

তিনি বলেন, “প্রধানমন্ত্রী যখন বিরোধী দলীয় নেতাকে সংলাপের আহ্বান জানালেন তখন বিরোধী দলীয় নেতা হেফাজতকে উৎসাহিত করলেন নির্বাচিত সরকারকে উৎখাত করতে। একটি নির্বাচিত সরকারকে এভাবে উৎখাত করা যায় না। তা কিছু দিন আগে প্রমাণিত হয়েছে।”

বিএনপিকে আবারো সংসদে আলোচনার প্রস্তাব দেয়ার আহ্বান জানিয়ে সৈয়দ আশরাফ বলেন, “আপনারা গণতন্ত্রের স্বার্থে, দেশের স্বার্থে আপনারা যে প্রস্তাব ফিরিয়ে নিয়েছেন তা আবার দিন। আগামী নির্বাচনকালীন সরকার নিয়ে সংসদে প্রাণবন্ত আলোচনা করুন। আমরা কথা দিচ্ছি সংখ্যাগরিষ্ঠতার জোরে আমরা যুক্তিতর্ক উপস্থাপন করবো না।”

তিনি বলেন, “যে দেশটাকে যুদ্ধ করে ৩০ লাখ প্রাণের বিনিময়ে স্বাধীন করেছি সে দেশে রাজনীতির প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে যারা গণতন্ত্রে বিশ্বাস করে তাদের মধ্যে। যে রাজনীতি প্রতিষ্ঠা করার জন্য দেশ স্বাধীন করা হয়েছিল আমরা তা বাস্তবায়ন করতে পারিনি। আজকে আওয়ামী লীগের বিকল্প বিএনপি নয়, হেফাজত এবং জামায়াত।”

কনেভনশনের আয়োজকদের স্বাগত জানিয়ে আশরাফ বলেন, “বাংলাদেশের রাজনীতিতে ভ্যাকুয়াম সৃষ্টি হয়েছে। আপনাদের মতো শক্তি যদি ভ্যাকুয়াম ফিলাপ করতে না পারে তাহলে তা দেশের জন্য অশনি সংকেত। আপনারা নিজেদের প্রস্তুত করতে পারলে আওয়ামী লীগের বিকল্প হিসেবে আপনারা হতে পারেন। এই ভ্যাকুয়াম রাজনীতিতে প্রগতিশীল রাজনীতি হিসেবে আপনারা দীর্ঘ আলোচনা না করে কাজ করুন।”

বিএনপির বাজেট প্রতিক্রিয়ার সমালোচনা করে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, “বাজেট প্রতিক্রিয়ায় মওদুদ সাহেব বাজেট বিশ্লেষণে গেলেন না, তিনি ছোট একটি কথা বললেন ‘বিগ বিউটিফুল বেলুন’। প্রধান বিরোধী দলের কাছে জনগণ এ ধরনের বক্তব্য আশা করেনি। আমরা আশা করেছিলাম বিরোধী দল বাজেটকে বিশ্লেষণ করবে। বাজেটের যে সব প্রস্তাব জনবান্ধব সে প্রস্তাবসমূহ বাস্তবায়নে সরকারকে সহযোগিতা করবে। বাজেটে জনবিরোধী প্রস্তাব বাতিল করতে সরকারকে চাপ সৃষ্টি করবে। বিরোধী দল রাজনৈতিকভাবে দেউলিয়া তাই তারা সরকারকে রাজনৈতিকভাবে মোকাবেলা করতে চায় না। তারা আশ্রয় নিয়েছে হেফাজত ও জামায়াতের কাছে।”

সিপিডির বাজেট প্রতিক্রিয়ার সমালোচনা করে তিনি বলেন, “ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য সিডিপির প্রধান কর্মকর্তা নন। তারপরও তিনি বাজেট নিয়ে মন্তব্য করেছেন। আমাদের সন্দেহ হয় এটা সিপিডির না দেবপ্রিয় সাহেবের বাজেট প্রতিক্রিয়া। সিপিডির মতো ইনস্টিটিউটও আজকে দেউলিয়া হয়ে যাচ্ছে। একটি রাজনৈতিক সরকারের বিরোধী একটি এনজিও হতে পারেন না। তাই আপনাদের সংগঠিত হওয়া জরুরি।”

সতর্ক থাকতে হবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, “সাম্প্রদায়িক শক্তি সক্রিয় হয়েছে। তাদের একটাই লক্ষ্য দেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্বকে নস্যাৎ করা। তারা যে রক্ষক্ষয়ী যুদ্ধে পরাজয় বরণ করেছিল তার প্রতিশোধ নিতে চায়। আর তাকে মোকাবেলা করতে হলে গণতান্ত্রিক শক্তি ও বাম শক্তির সমন্বয় প্রয়োজন।”

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।