লোকবল, বিদ্যুৎ ও পানিসহ বিভিন্ন সংকটে রায়পুর মৎস্য প্রজনন কেন্দ্রে রেনু-পোনা উৎপাদন ব্যাহত

দেশের বৃহত্তম ফিশ হ্যাচারি লক্ষ্মীপুরের রায়পুর মৎস্য প্রজনন ও প্রশিণ কেন্দ্রে রেনু ও পোনা উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে। লোকবল, বিদ্যুৎ ও পানিসহ বিভিন্ন সংকটের কারণে এ অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। এতে প্রজনন কেন্দ্র থেকে চলতি মৌসুমে মৎস্য চাষীদের চাহিদানুযায়ী রেনু ও পোনা সরবরাহ করা যাচ্ছে না।

এপ্রিল থেকে আগস্ট পর্যন্ত এ মৎস্য প্রজনন ও প্রশিণ কেন্দ্রে রেনু ও পোনা উৎপাদনের মৌসুম। কিন্তু চট্টগ্রাম, কুমিল্লা, ফেনী, চাঁদপুর ও নোয়াখালীসহ বিভিন্ন জেলা থেকে আসা অনেকেই রেনু-পোনা না পেয়ে হতাশ হয়ে ফিরে যাচ্ছেন।
মৎস্য প্রজনন কেন্দ্র সূত্রে জানা গেছে, সংস্কার না করায় কেন্দ্রের ৭২টির মধ্যে ৪০টি পুকুরের তলায় পলি জমে ভরাট হয়ে গেছে। পুকুরের পাড়গুলো ভেঙে যাচ্ছে। এছাড়া বিদ্যুতের লোডশেডিং আর লো-ভোল্টেজের কারণে কেন্দ্রের একমাত্র গভীর নলকূপটি অধিকাংশ সময় বন্ধ থাকে। এতে প্রায় সময় পুকুর ও হ্যাচারি ভবনে তীব্র পানি সংকট দেখা দেয়। এসব নানা সমস্যায় কারণে মাছ রণাবেণ, পোনা উৎপাদন ও হ্যাচারিতে রেনু উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে। ফলে রেণু ও পোনা ক্রয় করতে আসা মৎস্য চাষীদের চাহিদার ৩০ ভাগও রেণু পোনা সরবরাহ করা যাচ্ছে না।লোকবল, বিদ্যুৎ ও পানিসহ বিভিন্ন সংকটে রায়পুর মৎস্য প্রজনন কেন্দ্রে রেনু-পোনা উৎপাদন ব্যাহত

প্রজনন কেন্দ্রের প্রশাসনিক কর্মকর্তা ফারুকুজ্জামান জানান, বর্তমানে প্রজনন কেন্দ্রে ৮১টির মধ্যে ৪১টি পদ শূন্য রয়েছে। এর মধ্যে মাঠ পর্যায়ে রেনু-পোনা উৎপাদন ও মৎস্য রণাবেণের সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ত বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তার ছয়টি পদের মধ্যে সবগুলো, মৎস্য সম্প্রসারণ সুপার ভাইজারের ছয়টি পদের মধ্যে পাঁচটি, দ ফিসারম্যান আটটির মধ্যে পাঁচটি ও গাডের্র ১২টি পদের মধ্যে চারটি পদ দীর্ঘদিন ধরে শূন্য রয়েছে।
এ ব্যাপারে রায়পুর মৎস্য প্রজনন ও প্রশিণ কেন্দ্রের উর্ধ্বতন বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা এসএম মহিব উল্যা জানান, বিভিন্ন সংকটের বিষয় উর্ধ্বতন কর্তৃপকে লিখিতভাবে জানানো হয়েছে। লোকবল, বিদ্যুৎ ও পানি সংকটগুলো কাটিয়ে উঠতে পারলে মৎস্য চাষীদের তাদের চাহিদামতো রেনু ও পোনা সরবরাহ করা যাবে।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।