‘তত্ত্বাবধায়ক নিয়ে চুদুর-বুদুর চলতো ন’

বিরোধীদলীয় সংসদ সদস্য রেহানা আক্তার রানু সরকারের প্রতি হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেছেন ‘তত্ত্বাবধায়ক নিয়ে চুদুর-বুদুর চলতো ন’ । রানুর বক্তব্য প্রত্যাহারের দাবি জানিয়ে হুইপ আ.স.ম ফিরোজ বলেন, এসব ভাষা নিষিদ্ধ পল্লীতে ব্যবহার হয়। এ সময় স্পিকার শিরীন শারমিন সংসদ সদস্যদের অসৌজন্যমূলক আক্রমণাত্মক বক্তব্য দেয়া থেকে বিরত থাকার আহবান জানান। অসংসদীয় ভাষা এক্সপাঞ্জ করা হবে বলে তিনি ঘোষণা দেন।

রবিবার বিকেলে জাতীয় সংসদে সম্পূরক বাজেটের ওপর সাধারণ আলোচনায় অংশ নিয়ে আলোচনার  সময় তারা এ সব কথা বলেন।

রানু স্পিকারের মাধ্যমে সরকারকে উদ্দেশ্য করে বলেন, আপনার কাছে আমার জিজ্ঞাসা দেশ কোন দিকে যাচ্ছে? আপনি এই সংসদের অভিভাবক, আগামী নিবাচন যেন সুষ্ঠু ও সুন্দর হয়। সেই নির্বাচনে যেন সব দল অংশ নিতে পারে এবং কেউ যেন গায়ের জোরে এক দলীয় নির্বাচন করতে না পারে, এ ব্যপারে আপনার কার্যকর ভূমিকা আশা করছি।’

এক পর্যায়ে তিনি বলেন, ‘তারেক  রহমানের কথা শুনে আইন প্রতিমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রীর ভয় আতঙ্কে পেট খারাপ করে কাপড়-চোপড় নষ্ট করে ফেলেছে। তারেক রহমানের পিছনে সময় ব্যয় না করে নিজেদের পিঠের চামড়া বাঁচানোর জন্য প্রস্তুত  হন।’

‘আমাদের কথা বাদ দিলাম। হেফাজত আর জামায়াতের সাথে যা করেছেন খবর আছে। পিঠের চামড়া থাকবে না বলে দিলাম’ যোগ করেন বিরোধী এই সংসদ সদস্য।

নির্বাচন নিয়ে রানু বলেন, ‘কেউ বলছে- আমাদের বর্তমান প্রধানমন্ত্রী নির্বাচনকালীন সরকারের প্রধান বানানো হবে, আবার বলা হচ্ছে আপনাকে (স্পিকার) নির্বাচনকালীন সরকারের প্রধান বানানো হবে। আমি আমার নেয়াখালীর ভাষায় বলতে চাই, ‘তত্ত্বাবধায়ক সরকার নিয়ে চুদুর-বুদুর চলতো ন।’

‘নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচন দিতে হবে, হতে হবে। নির্দলীয় সরকার ছাড়া কোন নির্বাচন হবে না’ যোগ করেন তিনি।

ড. ইউনূসের প্রসঙ্গ তুলে রানু আরো বলেন, ‘নোবেল পুরস্কার পাওয়ার অপরাধে ড. ইউনূসকে গ্রমীণ ব্যাংক থেকে সরে যেতে হয়েছে। চুরি আর দুর্নীতিতে যদি নোবেল পুরস্কার দেওয়ার বিধান থাকতো, তাহলে এই সরকারের মন্ত্রীরা সবচেয়ে বেশি নোবেল পুরস্কার পেতো। এই দুর্নীতি দেখে একবার অর্থমন্ত্রী বলেছিলেন, আমি চলে যেতে চাই।’

‘সেই অর্থমন্ত্রী যে বাজেট দিয়েছেন, তা ছলনাময়ী নারীর মতো।  সুন্দর সুন্দর কথা, সুন্দর সুন্দর প্রস্তাব। সবই ছলনা, ধোকাবাজি। পদ্মা সেতু নির্মাণের জন্য বাচ্চাদের টিফিনের টাকা নেওয়া হল এবং সেই চাঁদা নিয়ে রাজশাহীতে একজন খুন হল’ যোগ করেন তিনি।

বিএনপির এই সংসদ সদস্য বলেন, ‘পদ্মা সেতু শুরু করার আগেই ১২ শতাংশ কমিশন নেওয়ার কথা ফাঁস হওয়ার সাথে সাথে বিশ্ব্যাংক তার ঋণ চুক্তি ঘ্যাচাং করেছে। এই ১২ শতাংশের মধ্যে ১০ শতাংশ যারা নিয়েছে তাদের কথা পত্রিকায় প্রকাশ হয়েছে।’

‘আর দুই শতাংশের সাথে যারা জড়িত তাদের নাম পত্রিকায় প্রকাশিত হয়নি। সম্পতি কানাডিয়ান টেলিভিশনের অনসন্ধানী রিপোর্টে ওই দুই শতাংশ লেনদেনের সাথে প্রধানমন্ত্রীর পরিবারের সদস্যদের জড়িত থাকার কথা বলা হয়েছে। এই দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত কারা আমরা জানতে চাই’ দাবি করেন তিনি।

রানুর বক্তব্যের বিরোধিতা করে হুইপ আ.স.ম ফিরোজ তার বক্তব্যের অসংদীয় শব্দ এক্সপাঞ্জ করার প্রস্তাব দেন। তিনি বলেন, ‘সংসদ সদস্য রানু কিছু ভাষা বলেছেন, তা নিষিদ্ধ পল্লীতে ব্যবহার করা হয়, এই রকম ভাষা যেন বাদ দেওয়া হয়।’

এ সময় স্পিকার রুলিং দিয়ে বলেন, ‘আমি পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে দেখবো যদি অসংসদীয় হয়, তাহলে বাতিল করা হবে।’

স্পিকার সব সংসদ সদস্যদের উদ্দেশ করে বলেন, ‘৩০৭ বিধিতে দৃষ্টি আকর্ষণে পালনীয় বিধি। এই বিধির উপবিধি (১ থেকে ৯) মেনে বাজেটের ওপর বক্তব্য দিতে হবে। কেউ আক্রমণাত্মক, অসৌজন্যমূলক কথা বলবেন না, অসৌজন্যমূলক কথা বলতে দেওয়া হবে না।’


সম্পাদনা: শামীম ইবনে মাজহার,নিউজরুম এডিটর

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।