কুমিল্লায় পুলিশের সঙ্গে জামায়াত-শিবিরের সংঘর্ষ : পুলিশের এসআই সহ আহত ৫

জামায়াতের ডাকা সোমবার সকাল-সন্ধ্যা হরতাল চলাকালে কুমিল্লার সদর দক্ষিণ উপজেলার ফয়েজগঞ্জ এলাকায় পুলিশের সঙ্গে জামায়াত-শিবিরের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে পুলিশের এসআই সহ ৫ জন আহত হয়েছে। সোমবার সকাল সাড়ে ১০টায় এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।

সুত্রে জানা যায়, সংঘর্ষে পুলিশের এক উপ-পরিদর্শক ও চার শিবিরকর্মী আহত হয়েছেন। এদের  মধ্যে দুইজন গুলিবিদ্ধ হয়েছেন বলে জানা গেছে। এ ঘটনায় পুলিশ দুই শিবিরকর্মীকে আটক করেছে।

আহতরা হলেন, পুলিশের এসআই হুমায়ন কবীর, শিবিরকর্মী পারভেজ, গুলিবিদ্ধ সুমন ও আবু তাহের। আহত অপরজন ও আটকদের পরিচয় পাওয়া যায়নি। আহত পুলিশের এসআই হুমায়ন কবীরক প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।

স্থানীয় সূত্র জানায়, উপজেলার ফয়েজগঞ্জ এলাকায় জামায়াত-শিবিরকর্মীরা টায়ারে আগুন ধরিয়ে রা¯তা অবরোধ করার চেষ্টা করলে পুলিশ তাদের বাধা দেয়। এ সময় পুলিশকে লক্ষ্য করে তারা ইট-পাটকেল নিক্ষেপ করে। এতে পুলিশের সঙ্গে জামায়াত-শিবির কর্মীদের ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া ও সংঘর্ষ বাঁধে। পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে রাবার বুলেট ছোঁড়ে। এতে শিবিরের দুই কর্মী গুলিবিদ্ধ হয়। আহত হয় আরো দুইজন।

এ বিষয়ে সদর দক্ষিণ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (তদšত) হান্নান জানান, শিবির কর্মীদের ইট-পাটকেলে এসআই হুমায়ন কবীর আহত হয়েছেন। তবে পুলিশের রাবার বুলেটে  শিবিরের কেউ আহত হয়েছে কিনা তা তিনি জানেন না।

এর আগে সোমবার সকাল-সন্ধ্যা হরতাল চলাকালে কুমিল্লায় ৩ টি ককটেল বিষ্পোরণের ঘটনা ঘটেছে।  মহানগরীর শাকতলায় এই তিনটি ককটেল বিস্ফোরণ ঘটে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, মহানগরীর সদর দক্ষিণের শাকতলা এলাকায় সকাল সাড়ে সাতটায় পিকেটাররা তিনটি ককটেল বিস্ফোরণ ঘটায়। একই সময়ে নগরীর রাজগঞ্জ এলাকায় জামায়াত-শিবির নেতাকর্মীরা একটি ঝটিকা মিছিল বের করে।

কোতয়ালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মহিউদ্দিন মাহমুদ তিনটি ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা নিশ্চিত করেন।

এদিকে সকাল সাড়ে আটটায় চৌদ্দগ্রাম উপজেলার চৌদ্দগ্রাম বাজার, আমজাদের বাজার, বাতিসা এলাকায় হরতালের সমর্থনে মিছিল করেছে জামায়াত-শিবির নেতাকর্মীরা। এ সময় নয়াবাজার এলাকায় দুইটি কাভার্ডভ্যানের গ্লাস ভাঙচুর করে তারা।

এছাড়া, হরতালে কুমিল্লা নগরীতে কোথাও কোনো পিকেটিং নেই। সড়কে রিকসা ও অটোরিকশা চলাচল করছে। বন্ধ রয়েছে শহরের অধিকাংশ দোকানপাট। জেলার চকবাজার বাসস্ট্যান্ড, শাসনগাছা বাসস্ট্যান্ড ও জাঙ্গালিয়া বাসস্ট্যান্ড থেকে কোনো দূরপাল্লার যানবাহন ছেড়ে যায়নি।


সম্পাদনা: শামীম ইবনে মাজহার,নিউজরুম এডিটর

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।