পাস হচ্ছে আলোচিত সন্ত্রাসবিরোধী বিল

বিদেশে অপরাধ করে দেশে ফিরলেও ওই অপরাধের জন্য দেশীয় আইনেই অপরাধীর বিচার করা যাবে- এমন বিধান রেখে জাতীয় সংসদে আজ পাস হচ্ছে আলোচিত সন্ত্রাসবিরোধী বিল (সংশোধন)-২০১৩। বিকেল ৩টা সংসদের বৈঠক শুরু হবার পর স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহীউদ্দীন খান আলমগীর বিলটি পাসের প্রস্তাব করবেন। তবে বিরোধী দলের সদস্যরা এ বিলের বিরোধিতা করে বক্তব্য দিতে পারেন। গত ৩ জুন চলতি অধিবেশনের উদ্বোধনী দিনে বিলটি সংসদে উত্থাপন করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। এরপর বিলটি পরীক্ষা নিরীক্ষা করে গত রোববার সংসদে বিলটি সম্পর্কে প্রতিবেদন দেয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটি।

জাতিসংঘে সমকালীন বিভিন্ন রেজুলেশন ও কনভেনশন এবং আন্তঃরাষ্ট্রীয় আলোচনার আলোকে বিদ্যমান সন্ত্রাস বিরোধী আইনের অধিকতর সংশোধনের জন্য বিলটি আনা হয়।

সংশোধিত আইনে বলা হয়েছে, ”যদি কোনো ব্যক্তি কোনো বিদেশী রাষ্ট্রে অপরাধ সংঘটন করে বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়, যা বাংলাদেশে সংঘটিত হলে এই আইনের অধীন শাস্তিযোগ্য হতো, তাহলে ওই অপরাধ বাংলাদেশে সংঘটিত হয়েছে বলে গণ্য হবে এবং যদি তাকে ওই অপরাধ বিচারের এখতিয়ার সম্পন্ন কোনো বিদেশি রাষ্ট্রে বহিসমর্পণ করা না যায়, তাহলে ওই ব্যক্তি ও অপরাধের ক্ষেত্রে এই আইনের বিধানাবলী প্রযোজ্য হবে।”

বিলে সন্ত্রাস কার্যে অর্থায়ন বিষয়ে তদন্তে বাংলাদেশ ব্যাংকের ক্ষমতা বৃদ্ধি করে সুনির্দিষ্ট বিধানের প্রস্তব করা হয়েছে। সন্ত্রাসী কার্যে জড়িত ব্যক্তি ও সত্ত্বার অপরাধী কর্মকাণ্ডের সংজ্ঞা ও সুনির্দিষ্টকরণে বিধানের প্রস্তাব করা হয়েছে বিলে।

বিলে বিদ্যমান আইনে ২০ ক ধারার পরিবর্তে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের রেজুলেশন বাস্তবায়নে পদক্ষেপ শীর্ষক নতুন ২০ক ধারা সন্নিবেশ করার প্রস্তাব করা হয়েছে।

এছাড়া অভিযুক্ত ব্যক্তির স্বীকারোক্তি রেকর্ড সম্পর্কিত বিশেষ বিধান, তদন্তকালীন সন্ত্রাসী সম্পত্তি জব্দ বা ক্রোকের বা বিশেষ বিধান এ বিলে সংযোজন করার প্রস্তাব করা হয়েছে। বিলে বিভিন্ন কনভেনশনগুলো অন্তর্ভুক্ত করারও প্রস্তাব করা হয়েছে।

বিলে সন্ত্রাসী কার্যের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তি ও সত্তার অপরাধী কর্মকাণ্ডের সংজ্ঞা ও সুনির্দিষ্টকরণে বিধানের প্রস্তাব করা হয়েছে। এছাড়া সরকার, কোনো ব্যক্তি বা সত্তা সন্ত্রাসী কার্যের সাথে জড়িত রয়েছে মর্মে যুক্তিসঙ্গত কারণের ভিত্তিতে, সরকারি গেজেটে প্রজ্ঞাপন দ্বারা, উক্ত ব্যক্তিকে তফসিলে তালিকাভুক্ত করতে পারবে বা সত্তাকে নিষিদ্ধ ঘোষণা ও তফসিলে তালিকাভুক্ত করতে পারবে।

এদিকে দিনের কার্যসূচি অনুযায়ী আজ থেকে ২০১৩-১৪ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর সাধারণ আলোচনা শুরু হবে। গত ৬ জুন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত দুই লাখ ২২ হাজার কোটি টাকার বাজেট সংসদে পেশ করেন। এর ওপর ৪০ ঘণ্টা আলোচনা শেষে আগামী ৩০ জুন বাজেট পাস হবে।


সম্পাদনা: শামীম ইবনে মাজহার,নিউজরুম এডিটর

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।