সমালোচনার মুখে বহুল আলোচিত সন্ত্রাসবিরোধী বিল পাস

প্রধান বিরোধী দলের ব্যাপক সমালোচনার মুখে জাতীয় সংসদে পাস হলো বহুল আলোচিত সন্ত্রাসবিরোধী (সংশোধন) বিল-২০১৩। আর   এর প্রতিবাদে সংসদ থেকে ওয়াকআউট করেছে বিরোধী দল। মঙ্গলবার বিকেল সংসদের বৈঠকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহীউদ্দিন খান আলমগীর বিলটি বিবেচনার জন্য উত্থাপন করলে বিরোধী দলের সদস্যরা এর বিরোধিতা করেন। তারা বিরোধী দলের আন্দোলন দমন করার জন্যই এ আইনে সংশোধন আনা হয়েছে বলে দাবি করেন। তারা বলেন, সংশোধিত এ আইনে বিরোধী দলকে দমনের জন্য পুলিশকে একচেটিয়া ক্ষমতা দেয়া হয়েছে। ফলে বর্তমান ক্ষমতাসীন দল যখন বিরোধী দলে যাবে, তাদের বিরুদ্ধেই এ আইন প্রয়োগ  হবে।

এ বিষয়ে বিএনপির সিনিয়র সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ বলেন, “এটি একটি কালো আইন এবং এ আইন যেহেতু বিরোধী দলকে দমনের জন্য প্রয়োগ করা হবে, তাই আমরা সংসদ থেকে ওয়াকআউট করলাম।”

এর আগে স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য ফজলুল আজিম বলেন, “এ আইনের মাধ্যমে নাগরিকের মৌলিক অধিকার হরণ করা হবে । ক্ষমতা চিরস্থায়ী নয় উল্লেখ করে তিনি বলেন, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কথাবার্তায় মনে হয় তিনি আজীবন ক্ষমতায় থাকবেন। ”

বিএনপির সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার মাহবুবউদ্দিন খোকন বলেন, “সারা দেশে সরকারবিরোধী যে আন্দোলন চলছে, তা দমনের জন্যই মূলত এ আইনে সংশোধনী আনা হয়েছে।” এটি একটি ‘কালো আইন’ হবে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।

বিরোধী দলের ভারপ্রাপ্ত চিফ হুইপ শহীদউদ্দিন চৌধুরী এ্যানি বলেন, এ আইন পাস হলে তাদের ওয়াক আউট করা ছাড়া উপায় থাকবে না।

এ বিষয়ে বিএনপির সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য নিলুফার চৌধুরী মনি বলেন, সংশোধিত এ আইনে পুলিশকে একচেটিয়া ক্ষমতা দেয়া হয়েছে। ফলে বর্তমান ক্ষমতাসীন দল যখন বিরোধী দলে যাবে, তাদের বিরুদ্ধেই এ আইন প্রয়োগ  হবে। বিরোধী দলের সদস্যরা এ বিলটি পাস না করে এটি জনমত যাচাইয়ের জন্য পাঠানোর প্রস্তাব দেন।

তবে বিরোধী দলের এসব বক্তব্যের বিরোধিতা করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, সন্ত্রাস দমনে আন্তর্জাতিক বিশ্বের সঙ্গে একযোগে কাজ করার জন্যই এ আইনে সংশোধনী আনা হয়েছে। বিরোধী দলকে দমনের কোনো সুযোগ এ আইনে নেই। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, সন্ত্রাসের অনুকূলে অর্থায়ন এবং এই অর্থায়নের প্রক্রিয়ায় মানি লন্ডারিং বন্ধ করাও এ আইনে সংশোধনী আনার অন্যতম উদ্দেশ্য।

সংশোধনী দেয়ার অর্থ হলো তারা বিলটি ভালো মতো দেখেছেন। এটা প্রশংসার যোগ্য।

এ পর্যায়ে স্পিকার বিরোধী দলের দাবিগুলো ভোটে দিলে তা কণ্ঠভোটে নাকচ হয়ে যায়। এরপর বিরোধী দলের সদস্যরা বিলের উপরে তাদের সংশোধনীগুলো উত্থাপন করেন এবং সেগুলোও কণ্ঠভোটে নাকচ হয়ে যায়। ফলে বিলটি পাস হয়ে যায়।

প্রসঙ্গত, ২০০৯ সালে এ আইনটি করা হয় এবং ২০১২ সালে এতে একবার সংশোধনী আনা হয়। এবার    দ্বিতীয় দফায় আবার সংশোধনী আনা হলো।


সম্পাদনা: শামীম ইবনে মাজহার,নিউজরুম এডিটর

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।