কক্সবাজার জেলার সীমান্ত পয়েন্টে চোরাচালান বৃদ্ধি: পাচার চক্র সক্রিয়

বাংলাদেশের সর্ব দক্ষিণ শহর পর্যটন নগরী কক্সবাজার জেলা। এই জেলার সীমান্ত বাণিজ্যিক উপজেলা টেকনাফ। মিয়ানমার ও টেকনাফ  সীমান্তের একমাত্র জলপথ নাফনদী। এই নদী দিয়ে প্রতিনিয়ত চোরাকারবারীরা জ্বালানী তেল, ডাল, খাবাল তেল, রসুন, সার দেশীয় তৈরী বিভিন্ন প্রসাধনী সামগ্রী, বিভিন্ন কোকারীজ, রডসিমেন্ট ঔষুধসহ ইত্যাদি টেকনাফ উপজেলার বিভিন্ন ট্রানজিট পয়েন্টগুলো দিয়ে পাচার অব্যাহত রাখছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, সীমান্তের চোরাকারবারীদের সাথে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কিছু অসাধু কর্মকর্তাদের গভীর ভাব থাকায় প্রতিদিন পাচার হচ্ছে বাংলাদেশী পণ্য ও জ্বালানী তেল ও সার।
সম্প্রতি বিভিন্ন ঔষুধ কোম্পানির গাড়ী সীমান্তে শহরে বেশি আনাগোনা হচ্ছে। একটি উপজেলায় দৈনিক ২০ থেকে ২৫ টি ঔষুধের গাড়ী যায়। এরা কোথায় যাচ্ছে? এই উপজেলার মানুষের কাছে  এত ঔষুধের  প্রয়োজন হয় কি?। নাকি অন্যকিছু প্রশ্ন সকলের? সূত্রে প্রকাশ পাওয়া এই সব ঔষুধ এ উপজেলার বিভিন্ন ফার্মেসী মালিকদের সাথে চুক্তি করে স্থানীয় চোরাকারবারীরা  টেকনাফ সীমান্তের বিভিন্ন ট্রানজিট ঘাট দিয়ে মংডু শহরে পাচার করে যাচ্ছে। এখন প্রশ্ন এদের কেন প্রতিরোধ করা যাচ্ছে না? কারণ স্থানীয় থানার প্রত্যেক কর্মকর্তাদের সাথে  চোরাকারবারীদের গভীর সম্পর্ক রয়েছে। সেই সাথে থানার ক্যাশিয়ার প্রতি মাসে প্রত্যেক ট্রানজিট  ঘাট থেকে একটা  এমাউন্ট নিয়ে আসে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক কর্মকর্তা জানান স্থানীয় সরকার দলীয় এম.পি এর নাম ভাঙ্গিয়ে দলীয় নেতা কর্মীরা এই সব পাচার কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। তাই স্থানীয় প্রশাসন নীরব!। স্থানীয়দের অভিযোগ সীমান্তে নিয়োজিত বিজিবি সদস্যদের মধ্যে অল্প সংখ্যক অসাধু সদস্যরা মোবাইল ফোনের মাধ্যমে চোরাকারবারীদের সাথে যোগাযোগ রেখে পাচার কাজে সহযোগীতা করে যাচ্ছে।
গভীর রাতে চোরাকারবারীরা প্রকাশ্যে হৈ চৈ করার কারণে স্থানীয়দের ঘুম ভেঙ্গে যায়। গোপন সূত্রে জানা যায়, সার জ্বালানী তৈল, দেশীয় পন্য, সীমান্ত দিয়ে পাচার, প্রবেশ হচ্ছে আন্ডামান বিয়ার, মদ, ইয়াবাসহ বিভিন্ন চোরাই মাল। এসব চোরাকারবারীরা হচ্ছে সীমান্তের ট্রানজিট ঘাটের বিভিন্ন ইজারাদার। একজন ইজারাদারের সাথে সিন্ডিকেটের বিশ জন মত সদস্য রয়েছে বলে জানা যায়। এরা সবাই চোরাই কাজে লিপ্ত। ট্রানজিট ঘাটগুলো হচ্ছে হ্নীলা কাষ্টম অফিসের সামনের ঘাট, চৌধুরী পাড়া, নাট মোরা পাড়া, লেদা, জাদীমুরা, দমদমিয়া, কেরুনতলী, বড়ইতলী, নাইটংপাড়া, কে,কে পাড়া, জালীয়া পাড়া, নজির পাড়া, মৌলভী পাড়া, সাবরাং ইউনিয়নের চৌধুরী পাড়া, নয়াপাড়া, শাহপরী দ্বীপের জালিয়া পাড়া, জেটি ঘাট, মিস্ত্রী পাড়া, দক্ষিণ পাড়া, ঘোলা পাড়া, ট্রানজিট ঘাট সমূহ। এসব ট্রানজিট  ঘাট দিয়ে প্রতিদিন পাচার এবং প্রবেশ হলেও মাঝে মধ্যে সীমান্তের নিয়োজিত বর্ডার গার্ডের সদস্যরা কিছু সংখ্যক চোরাই মাল মদ, ইয়াবা আটক করতে সক্ষম হয়। প্রতিদিন র‌্যাব, পুলিশ, বিজিবি, কোষ্টগার্ড ও গোয়েন্দা পুলিশ বড় বড় ইয়াবা ও মাদক চালান আটক করলেও আসল অপরাধীদের বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা নিতে পারে নি। বিধায়  অপরাধীরা ছাড় পেয়েই যাচ্ছে।
গুটিকয়েকজনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিলেও সংশ্লিষ্ট তদন্তকারী কর্মকর্তাদেরকে মোটা অংকের অর্থ দিয়ে ম্যানেজ করে যাচ্ছে। সেই সাথে আটককৃত মাদক, ইয়াবার পরিমান নিয়ে জনমনে প্রশ্ন রয়েই যাচ্ছে। অপরাধ বিশ্লেষকদের প্রশ্ন সীমান্তে চোরাকারবারীরা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সাথে চিহ্নিত হলেও কেন তাদের আইনের আওতায় আনা হচ্ছে না। কিছু দিন আগে কক্সবাজার শহরের আবাসিক হোটেল থেকে কোটি টাকার আফিন র‌্যাবের হাতে  ধরা  পড়লেও এর পিছনে কারা এখনো জানা যায়নি। এভাবে অপরাধীরা প্রশাসনের হাত থেকে ছাড় পাওয়ার কারণে জেলায় মাদক, ইয়াবা বিভিন্ন প্রজাতের চোরাই গাড়ী প্রকাশ্য বিক্রি হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে,টেকনাফের হ্নীলা, লেদা ট্রানজিট ঘাট নিয়ন্ত্রণকারী লিডার ইয়াবা সম্রাট জনৈক নুরুল হুদা, দমদমিয়া, কেরুনতলী ট্রানজিট ঘাট জনৈক ইসলাম বাহিনীর দখলে, বরইতলী, নাইটংপাড়া ট্রানজিট ঘাট জনৈক জামাল, ছৈয়দ আলম, ফরিদ বাহিনীর দখলে, জালিয়া পাড়া, নাজির পাড়া, মৌলভী পাড়া ট্রানজিট ঘাট  ইয়াবা সম্রাট জনৈক আবদুর রহমান, বেলাল, নুরুল হক ভূট্টো বাহিনীর দখলে, জাদিমোরা ট্রানজিট ঘাট দয়াল বাহিনীর দখলে, সাবরাং, নয়াপাড়া, ট্রানজিট ঘাট মার্কিন বাহিনীর দখলে, শাহপরীরদ্বীপ, জালিয়া পাড়া, জেটি ঘাট, মিস্ত্রী পাড়া, দক্ষিণ পাড়া, গোলা পাড়ার ট্রানজিট ঘাট জনৈক সেলিম, বাইল্লা, জিয়াবুল, রোহিঙ্গা শুক্কুর, কবিরা বাহিনীর দখলে। সূত্রে প্রকাশ, এই সব সিন্ডিকেটর সাথে  টেকনাফ থানার কথিত ক্যাশিয়ার জসীম উদ্দিনের সাথে পূর্ব থেকে সু-সম্পর্ক রয়েছে।
ওই সিন্ডিকেটের কাছ থেকে প্রতিমাসে থানার ক্যাশিয়ার হিসেবে নিজেই মোটা অংকের চাঁদা গ্রহন করেন। উল্লেখিত কয়েকটি ট্রানজিট ঘাটে টহলরত কিছু বিজিবি সদস্য ওই সিন্ডিকেটকে চোরাই কাজে সহযোগীতা করেন এমন অভিযোগও স্থানীয়দের। এ ব্যাপারের টেকনাফস্থ ৪২ ব্যাটলিয়ন অধিনায়ক লেঃ কর্ণেল জাহিদ হাসান আলোকিত উখিয়াকে জানিয়েছেন, সীমান্ত এলাকায় চোরাই কাজে যারা সহযোগিতা করে যাচ্ছেন তাদের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আটককৃত চোরাই মাল,মাদক দ্রব্য ইয়াবাসহ জড়িত সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে মাদক বিরোধী আইনে থানায় নিয়মিত মামলা দেওয়া হচ্ছে। সেই সাথে সীমান্ত এলাকায় যারা চোরাই কাজে জড়িত তাদের বিরুদ্ধে মামলা দেওয়া হচ্ছে। এ বিষয়ে টেকনাফ থানার ওসি মোহাম্মদ ফরহাদ আলোকিত উখিয়াকে জানান, সীমান্ত এলাকায় যারা বিভিন্ন অপরাধ-মূলক  কর্মকান্ড চালিয়ে যাচ্ছে তাদেরকে আটক করে আদালতে প্রেরণ করা হয়। আদালত থেকে চিহ্নত অপরাধীরা জামিনে বের হলে আমার করার কিছুই নেই। থানা ক্যাশিয়ার সর্ম্পকে জানতে চাইলে ওসি টেকনাফ নীরব থাকেন।


সম্পাদনা: শামীম ইবনে মাজহার,নিউজরুম এডিটর

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।