বাংলার মানুষ আর কোনো রক্তের হোলি খেলার সুযোগ দেবে না: হানিফ

আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন শেখ হাসিনার নেতৃত্বে হলে রক্ত গঙ্গা বয়ে যাবে বিএনপি নেতা সাদেক হোসেন খোকার এমন বক্তব্যের কড়া সমালোচনা করেছেন আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক ও প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী মাহবুব-উল আলম হানিফ। তিনি বলেন, “বিরোধী দলীয় নেতারা হতাশ হয়ে এ ধরনের বক্তব্য দিচ্ছেন। তারা কখনও বলছেন রক্তের বন্যা বইয়ে দেবেন, কখন পিঠের চামড়া তুলে নেবেন। এটা কোনো রাজনীতিক ভাষা? বাংলার মানুষ আর কোনো রক্তের হোলি খেলার সুযোগ দেবে না। বাংলার জনগণ আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে সকল সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের জবাব দেবে।”
বৃহস্পতিবার রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার ইনস্টিটিউটে ঢাকা জেলা উত্তর কৃষক লীগের ত্রি-বার্ষিক সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে হানিফ এ সব কথা বলেন।

হানিফ বলেন, “বিরোধী দলীয় নেতারা সংসদে আসেন না। ৯০ দিন পর তাদের সদস্য পদ বাতিল হয়ে যাবে বলে ৮৩ দিন পর সংসদে এসেছেন। জনগণ মনে করেছিলেন বিরোধী দল সংসদে এসে সরকারের ভুল-ত্রুটি ধরিয়ে দিয়ে সরকারকে সহযোগিতা করবে। কিন্ত তারা সংসদে যে ভাষায় কথা বলছেন তা নিষিদ্ধ পল্লী ছাড়া আর কোথাও ব্যবহার হয় না।”

তিনি বলেন, “বিরোধী দলীয় নেতারা সংসদে অভিযোগ করেছেন ৫ মে নাকি হাজার হাজার মানুষ হত্যা করা হয়েছে। কিন্তু গণমাধ্যমে ঐ অভিযান সরাসরি সম্প্রচারিত হয়েছে। তাদের মিথ্যাচার জনগণ বিশ্বাস করে না। তারা হেফাজতকে নিয়ে নীল নকশা করেছিল। তাই বিরোধী দলীয় নেতা ৫ মে রাতে তড়িঘড়ি সভা ডেকে হেফাজতের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানান। তাদের এই ষড়যন্ত্র ব্যর্থ হওয়ায় তারা এখন মুষড়ে পড়েছে। বাংলার জনগণের তাদের প্রতি আস্থা নেই। জনগণের প্রতি তারা আস্থা রাখতে পারছে না। আওয়ামী লীগের শেকড় অনেক গভীরে ষড়যন্ত্র করে আওয়ামী লীগ সরকারকে উৎখাত করা যাবে না।”

প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী বলেন, “বিশ্বের অন্যান্য দেশে যেভাবে নির্বাচন হয় বাংলাদেশে সেভাবে নির্বাচন হবে। তত্ত্বাবধায়ক সরকারের মতো অসাংবিধানিক সরকারের অধিনে কোনো নির্বাচন হবে না। সংসদে এসে আলোচনা করুন রাজপথে এর কোনো সমাধান হবে না। যদি নির্বাচনকালীন সরকার নিয়ে সংসদে আলোচনায় না করুন তাহলে বাংলার মানুষ বুঝে নেবে তত্ত্বাবধায়কের নামে আপনারা যুদ্ধাপরাধীদের বিচারকে বাধাগ্রস্ত করতে চান এবং বিরোধী দলীয় নেতার দুর্নীতিবাজ পুত্রদের বাঁচাতে চান।”

তিনি বলেন, “বাংলাদেশের রাজনীতিতে দুই প্রধান দলের পাশাপাশি তৃতীয়, চতুর্থ, পঞ্চম শক্তি গড়ে তোলেন, তাতে কোনো সমস্যা নেই। আপনারা বলেন প্রধানমন্ত্রী ক্ষমতা নাকি মোঘল সম্রাটের চেয়ে বেশি। আমি এর আগে জবাব দিয়েছিলাম তাতে আবার অনেকে গোস্সা হয়েছেন। এ ক্ষমতা আসমান থেকে আসেনি। এ ক্ষমতা বাংলার জনগণ দিয়েছে। গত ৩২ বছর শেখ হাসিনা বাংলার মানুষের অধিকার নিয়ে আন্দোলন-সংগ্রাম করে আস্থা অর্জন করেছে। আপনাদের মতো বিদেশে পালিয়ে যায়নি। এ ক্ষমতা নিয়ে ঈর্ষান্বিত হয়ে সমালোচনা করে শেখ হাসিনার জনপ্রিয়তা নষ্ট করা যাবে না। আপনাদের বাস্তবতা বুঝতে হবে।”

কৃষক লীগ ঢাকা জেলা উত্তরের সভাপতি মিয়া আব্দুর রহিমের সভাপতিত্বে সম্মেলনে আরো বক্তব্য রাখেন আইন প্রতিমন্ত্রী কামরুল ইসলাম, ঢাকা জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মাহবুবুর রহমান, কৃষক লীগের সভাপতি মোতাহার হোসেন মোল্লা, সাধারণ সম্পাদক শামসুল হক প্রমুখ।


সম্পাদনা: শামীম ইবনে মাজহার,নিউজরুম এডিটর

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।