রায়পুরে পুলিশ হেফাজতে মৃত্যু: প্রতিবাদে সড়ক অবরোধ,থানায় হামলা,গাড়ীতে আগুন,পুলিশসহ আহত-৮

লক্ষ্মীপুরের রায়পুরে বৃস্পতিবার (১৩ জুন) ভোর সাড়ে ৫টায় থানা পুলিশের হেফাজতে জয়নাল আবেদীন (৩২) নামে এক রিকশাচালকের মৃত্যু হওয়ার অভিযোগ ওঠেছে। তিনি দক্ষিণ চরপাতা গ্রামের মৃত- সরাফত আলীর ছেলে।
এ ঘটনার প্রতিবাদে রিকশাচালক পেশাজীবী সংগঠনের ২ শতাধিক নেতা কর্মী রায়পুর-ঢাকা আঞ্চলিক মহাসড়ক ৩ ঘন্টা অবরোধ করে যান বাহন ভাংচুর চালায়। এসময় ক্ষুব্ধ রিকশাচালক ও নিহতের স্বজনরা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপে¬ক্স ও থানায় ডুকে পুলিশের উপর হামলা চালায়। এসময় পুলিশের একটি মোটরসাইকেল পেট্রোল ঢেলে জালিয়ে দেয়। এতে ২ এএসআই, এক কনস্টেবলসহ ৩ পথচারি মারতœক জখম হন। আহতদেরকে স্বাস্থ্য কমপে¬ক্সে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
আহতরা হলেন-এএসআই মো. শরিফ হোসেন, মো. সিরাজ মিয়া, কনষ্টেবল নুরুল আমিন, পথচারি মো. ফায়সাল, মো. বাহার ও মো. সাজু মিয়া। অন্যরা বিভিন্ন ক্লিনিকে চিকিৎসা নিয়েছেন।
রায়পুর থানার সামনে প্রলিশ ও স্থানীয় রিকশাচালদের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষ হয়েছে। এসময় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ কয়েক রাউন্ড ফাঁকা গুলি ছুঁড়েছে। পরে জেলা থেকে দাঙ্গা পুলিশ ও আওয়ামীলীগের নেতা কর্মীরা দীর্ঘক্ষন চেষ্টা করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রন করেন। এ নিয়ে পৌর শহরে চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে।
উদ্ভুধ পরিস্তিতি লক্ষ্মীপুর জেলা প্রশাসনের এডিএম এসএম মাসুদুল হক, এসপি (সার্কেল) মো. হেলাল উদ্দিন, রায়পুর উপজেলা নিবাহী কর্মকর্তা দুলাল চন্দ্র সূত্রধর মৃত জয়নালের লাশের ময়না তদন্ত করেন। এসময় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা পরিষোদের ভাইচ-চেয়ারম্যান মো. শাহাজাহান, অধ্যক্ষ মামুনুর রশিদ ও সাবেক পৌর চেয়ারম্যান রফিকুল হায়দার বাবুল পাঠান ও আওয়ামীলীগ নেতা জামশেদ কবির বাকী বিল¬াহসহ স্বজনরা প্রমুখ। তারা বলেছেন থানা হাজতে জয়নালকে হত্যা করা হলে ওই পুলিশকে আইন অনুযায়ী কঠিন শাস্তি পেতে হবে বলে স্বজনদের শান্তনা দেন।
নিহতের বড় ভাই আব্দুল জলিল জানান, গত একমাস আগে জয়নালের দ্বিতীয় স্ত্রী পারুল আখতার জয়নাল আবেদিনের বিরুদ্ধে লক্ষ্মীপুর চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে নারী নির্যাতন ও যৌতুক আইনে মামলা করেন, যার নং- সি,আর, ২৭৫/১৩। এ মামলায় আদালত জয়নালের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন। এতে পুলিশের এসআই আবুল কালাম আজাদ জয়নালের শ্যালক মো. তাহেরের সহযোগিতায় জয়নালকে তার বাড়ী থেকে বুধবার রাত ২টার দিকে গ্রেপ্তার করে থানায় নিয়ে আসে। রাতে অমানুষিক নির্যতনের ফলে বৃহস্পতিবার ভোরে থানা হাজতে তার মৃত্যুু হয়। কিন্তু দেখা যায় ডান হাত ও বাম পা ভেঙ্গে শাসরোধ করে হত্যা করা হয়।
মৃত জয়নালের মা সৈয়দুন্নেছা বলেন, ‘তার ছেলে বুধবার সারাদিন রিকশা চালিয়েছেন। চার ছেলে ও এক মেয়ের মধ্যে জয়নাল ছোট ছেলে। তার একটি মেয়ে রয়েছে। তার আয়ের ওপর আমিসহ নির্ভরশীল ছিল পরিবারটি। পুলিশ নির্যাতন করে মেরে ফেলেছে। জয়নালের পা ভাঙা ও শরীরে আঘাতের অনেক দাগ আছে।’
রায়পুর উপজেলার স্বাস্থ্য কমপে¬ক্সের কর্তব্যরত মেডিকের অফিসার ডাঃ কবির হোসেন ময়না তদন্ত রিপোর্ট ছাড়া মৃত জয়নাল আবেদিনের সম্পর্র্কে কোন মন্তব্য করতে রাজি হয়নি।
এ ব্যাপারে রায়পুর থানার (ওসি- তদন্ত) নাছিরুল ইসলাম মজুমদার বলেন, ‘জয়নাল তার স্ত্রীর ওপর অভিমান করে গলায় গেঞ্জি পেঁচিয়ে থানা হাজতে ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছে। তাকে নির্যাতন করে হত্যা করা হয়নি বলে তিনি জানান’


সম্পাদনা: শামীম ইবনে মাজহার,নিউজরুম এডিটর
;

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।