চার সিটি নির্বাচন: ভোট গ্রহন শেষ, অপেক্ষা ফলাফলের

বিপুল উৎসাহ উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে শুরু হওয়া চার সিটি করপোরেশন নির্বাচনের ভোট দু একটি বিচ্ছিন্ন ঘটনার মধ্য দিয়ে শেষ হয়েছে। এখন অপেক্ষা ফলাফলের। শনিবার সকাল আটটা থেকে শুরু হওয়া ভোট গ্রহণ শেষ হয় বিকাল চারটায়। চার সিটি করপোরেশনে মোট ভোটার সংখ্যা ছিল ১২ লাখ ২৯ হাজার ৭৮৬ জন। মোট ৬৫২টি কেন্দ্রে তিন হাজার ৮০৯ ভোটকক্ষে ভোট গ্রহণ হয়েছে। এদিকে ভোট গ্রহণের শেষ পর্যায়েও কয়েকটি জায়গায় কেন্দ্রগুলোর সামনে ভোটারদের লম্বা লাইন চোখে পড়েছে।

এদিকে খুলনা, বরিশাল ও সিলেটে বিচ্ছিন্ন কয়েকটি ঘটনা ঘটেছে। এর মধ্যে খুলনায় পুলিশের ধাওয়া খেয়ে এক ব্যাক্তি হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন। এছাড়া বরিশালে রূপতলী কেন্দ্রে দুই মেয়র প্রার্থীর সমর্থকদের মধ্যে গোলমালের ঘটনায় এক ঘণ্টা ভোট গ্রহণ বন্ধ ‍ছিল। পরে দুপুর পৌনে তিনটায় ফের ভোট গ্রহণ শুরু হয়। এছাড়া সিলেটে বিএনপি সমর্থিত মেয়র প্রার্থী আরিফুল হক চৌধুরী অভিযোগ করেছেন, র‌্যাব তাদের ভোটারদের লাঠিপেটা করেছে।

এ নির্বাচনকে জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে অগ্নিপরীক্ষা হিসেবে দেখছে প্রধান দুই রাজনৈতিক দল। গত কয়েক সপ্তাহ মাঠে আওয়ামী লীগ ও বিএনপির কেন্দ্রীয় শীর্ষ নেতাদের সক্রিয়তা তারই প্রমাণ দিয়েছে। জাতীয় সংসদ থেকে শুরু করে চায়ের আড্ডা সর্বত্রেই ছিল সিটি নির্বাচনের আলোচনা। তাই রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা সিটি নির্বাচনের ভোটকে জাতীয় নির্বাচনের ভোটের মহড়া হিসেবে দেখছেন।

বৃহস্পতিবার মধ্যরাতে প্রচার-প্রচারণা শেষ করার পর শুক্রবারের বেশির ভাগ সময় বাসায় কাটান প্রার্থীরা। বিধি লঙ্ঘনের ভয়ে প্রকাশ্যে প্রচারণায় নামেননি তারা। তবে ফেসবুক, টুইটারের মতো সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অনেক প্রার্থীরা পক্ষে চলেছে প্রচারণা। মুঠোফোনেও খুদে বার্তা পাঠিয়ে পছন্দের প্রার্থীর জন্য ভোট চেয়েছেন অনেকে। তবে আনুষ্ঠানিক কোনো অভিযোগ না পাওয়ায় এসব বিষয়ে কারো বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেননি নির্বাচন কমিশন (ইসি)।

ভোটের সার্বিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণের জন্য রাজধানীর শেরেবাংলা নগর ইসি সচিবালয়ে বসানো হয়েছে মনিটরিং সেল। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে মাঠে সজাগ ছিল আইনশৃংখলা বাহিনীও। যান চলাচলে আরোপ ছিল নিয়ন্ত্রণ। তবে নির্বাচনে অংশ নেয়া বিএনপির প্রার্থীরা নির্বাচনের নিরপেক্ষতা নিয়ে শঙ্কার কথা জানিয়েছেন।

প্রার্থী যারা: ১৪ দলীয় জোট প্রার্থী হিসেবে রাজশাহীর সাবেক মেয়র এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটন, খুলনার সাবেক মেয়র তালুকদার আবদুল খালেক, বরিশালের সাবেক মেয়র শওকত হোসেন হিরন ও সিলেটের সাবেক মেয়র বদরউদ্দিন আহমদ কামরান প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। অপরদিকে ১৮ দলীয় জোটের সমর্থনে রাজশাহীতে মোহাম্মদ মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুল, বরিশালে সাবেক মেয়র আহসান হাবিব কামাল, খুলনায় মনিরুজ্জামান মনি ও সিলেটে আরিফুল হক চৌধুরী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। এছাড়াও খুলনায় জাতীয় পার্টির প্রার্থী মো. শফিকুল ইসলাম মধু, বরিশালে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী মাহমুদুল হক খান মামুন, রাজশাহীতে স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. হাবিবুর রহমান ও সিলেটে স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. ছালাহ উদ্দিন রিমন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।

চার সিটি কর্পোরেশনে মেয়রসহ ১১৮টি সাধারণ কাউন্সিলর ও ৩৯টি সংরক্ষিত (নারী) কাউন্সিলর পদে ভোট গ্রহণ হয়েছে। এসব পদের বিপরীতে চার সিটি কর্পোরেশনে মেয়র পদে ৩ জন করে ১২ জন, সাধারণ কাউন্সিলর পদে ৫৪৭ জন এবং সংরক্ষিত কাউন্সিলর পদে ১৯০ জন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।

ভোটার ও ভোট কেন্দ্র: রাজশাহী সিটি নির্বাচনে ভোটার ২ লাখ ৮৬ হাজার ৯২৭ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ১ লাখ ৪৩ হাজার ৩৯৫ জন ও মহিলা ভোটার ১ লাখ ৪৩ হাজার ৫২২ জন। এ সিটিতে ওয়ার্ডের সংখ্যা ৩০টি, ভোটকেন্দ্র ১৩৭টি, ভোটকক্ষ ৮৭১টি এবং অস্থায়ী ভোটকক্ষ ছিল ১০৭টি।

খুলনা সিটিতে মোট ভোটার ৪ লাখ ৪০ হাজার ৫৬৬ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ২ লাখ ২৪ হাজার ৫০৪ জন ও মহিলা ভোটার ২ লাখ ১৬ হাজার ৬২ জন। আর ওয়ার্ড সংখ্যা ৩১টি। এখানে ভোট কেন্দ্র্র ২৮৮টি। ভোটকক্ষ ১ হাজার ৪২৮টি। অস্থায়ী ভোটকক্ষ ৩৩টি। বরিশাল সিটি কর্পোরেশন এলাকায় ভোটার ২ লাখ ১১ হাজার ২৫৭ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ১ লাখ ৭ হাজার ৬২৫ ও মহিলা ভোটার ১ লাখ ৩ হাজার ৬৩২ জন। এ সিটি কর্পোরেশনে ওয়ার্ড সংখ্যা ৩০টি। ভোট কেন্দ্র্রের সংখ্যা ১০০টি ও ভোটকক্ষ ৬১৪টি।

সিলেট সিটি কর্পোরেশন এলাকায় ভোটার ২ লাখ ৯১ হাজার ৪৬ জন। পুরুœষ ভোটার ১ লাখ ৫৭ হাজার ১৮১ জন ও মহিলা ভোটার ১ লাখ ৩৩ হাজার ৮৬৫ জন। এ সিটিতে ওয়ার্ড ২৭টি, ভোট কেন্দ্র ১২৭টি ও ভোটকক্ষ ৮৯৬টি।


সম্পাদনা: শামীম ইবনে মাজহার,নিউজরুম এডিটর

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।