সোনাগাজীতে মাদ্রাসা ছাত্রী অপহরন: মামলা তুলে নেয়ার হুমকি

সোনাগাজী উপজেলার হায়দারিয়া দাখিল মাদরাসার অষ্টম শ্রেণীর এক ছাত্রীকে রবিবার অপহরণ করে অজ্ঞাত স্থানে নিয়ে গেছে একই মাদরাসার দশম শ্রেণির ছাত্র শেখ রাসেল। অপহরণের এক দিন পর মামলা দিয়ে হয়রানি না করতে এবং  মামলা তুলে নিতে অপহৃতের পরিবারকে মোবাইল ফোনে হুমকি।
পুলিশ ও অপহৃতের পরিবার ও সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, পশ্চিম চরচান্দিয়া গ্রামে অবস্থিত ওয়ালি আল হায়দারিয়া দাখিল মাদরাসার অষ্টম শ্রেণির ছাত্রী জান্নাতুল ফেরদৌস (১৪) কে জোর পূর্বক সিএনজিতে উঠিয়ে মাদরাসায় যাওয়ার পথে একই মাদরাসার দশম শ্রেণির ছাত্র শেখ রাসেল সহ ৪/৫জন সহযোগি তাকে অপহরণ করে অজ্ঞাত স্থানে নিয়ে গেছে। এ ব্যাপারে অপহৃতের পিতা আবুল কাশেম বাদী হয়ে সোনাগাজী মডেল থানায় পশ্চিম চরদরবেশ গ্রামের ইব্রাহীম খলিলের ছেলে শেখ রাসেল (১৯) স্ত্রী ইসমত আরা বেগম (৩৮) সহযোগী বগাদানা ইউনিয়নের আহসান উল্যাহর ছেলে মিলন (২৫) সহ অজ্ঞাত নামা ৩জনকে আসামী করে রাতেই থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমণ আইনে অপহরণ মামলা দায়ের করে। এ ঘটনায় পুলিশ রাতে উপজেলার বগাদানা ইউনিয়নে অভিযান চালিয়ে কাজির হাট বাজার থেকে আহসান উল্যাহর ছেলে অপহরণ মামলার এজাহার নামীয় আসামী মিলন (২৫) কে গ্রেফতার করেছে। জানা যায়, আবুল কাশেমের মেয়ে জান্নাতুল ফেরদৌস মাদরাসার যাওয়ার পথে বিভিন্ন সময় শেখ রাসেল সহ তার সহযোগিরা তাকে বিভিন্নভাবে উত্ত্যক্ত করত। এ বিষয়ে জান্নাতুল ফেরদৌস তার মাকে অবহিত করলে তার মা ফুলেরা বেগম শেখ রাসেলের মাতা ইসমত আরা বেগমকে তার ছেলের ব্যাপারে নালিশ দিল ইসমত আরা বেগম ছেলের বিচার না করে উল্টো ফুলরা বেগমকে গালমন্দ করে তাড়িয়ে দেয। পরবর্তীতে ফুলরা বেগম উক্ত বিষয়ে মাদরাসা প্রধানকে বিচার দিলে মাদরাসার শিক্ষকরা শেখ রাসেলকে ডেকে উত্যক্ত বিষয়ের জিজ্ঞাসা করে সত্যতা পাওয়ায় তাকে শাস্তি দিয়ে ভবিষ্যতে এমন কোন না করতে নিষেধ করে। দীর্ঘদিন শেখ রাসেল জান্নাতুল ফেরদৌসের সাথে যোগাযোগ বা কোন বিষয়ে কথা বলতো না। অবশেষে গত রবিবার জান্নাতুল ফেরদৌস মাদরাসায় যাওয়ার পথে পূর্ব পরিকল্পিত ভাবে শেখ রাসেল তার সাথে ৩/৪জন সহযোগি নিয়ে তাকে জোর পূর্বক অপহরণ করে অজ্ঞাত স্থানে নিয়ে গেছে। এ ব্যাপারে অপহৃতের পিতা আবুল কাসেম জানান, তারা তার মেয়েকে উপজেলার বিভিন্ন স্থানে খোজাখুজি করেও এখনো পর্যন্ত তার কোন সন্ধান পাননি। সোমবার দুপুরে আমার ছোট ভাইয়ের স্ত্রীর মোবাইলে ছেলে এবং আমার মেয়ে একটি নাম্বার থেকে ফোন করে থানায় মামলা দিয়ে কাউকে হয়রানি না করতে এমনকি মামলা দিয়ে থাকলে তা তুলে নিতে হুমকি প্রদান করে। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই মোহাম্মদ উল্যাহ জানান, মাদরাসার ছাত্রী অপহণের ঘটনায় একজনকে গ্রেফতার করে আদালতের মাধ্যমে জেল হাজতে প্রেরণ করা হয়েছে। অপহৃত ছাত্রীকে উদ্ধার করতে পুলিশ বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে।


সম্পাদনা: শামীম ইবনে মাজহার,নিউজরুম এডিটর

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।