চৌদ্দগ্রামের এক ব্যবসায়ী মামলা করে এখন পালিয়ে বেড়াচ্ছে!

চৌদ্দগ্রামে আসামীদের ভয়ে পালিয়ে বেড়াচ্ছে এক মামলার বাদী। ব্যবসা প্রতিষ্ঠান দখলের ঘটনায় মামলা করে ফাতেমা বেগম এখন জীবনের নিরাপত্তাহীনতায় পালিয়ে বেড়াচ্ছে। উপজেলা সদরের ২টি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান মেসার্স অহিদ অটো রাইস এজেন্ট ও আজিজ ফুড প্রোডাক্টস লুট ও জবর দখল করে নিয়েছে প্রভাবশালীরা। জরব দখল ও লুটপাটের অভিযোগে প্রতিষ্ঠানের মালিকের স্ত্রী ফাতেমা বেগম বাদী হয়ে কুমিল্লার আদালতে ১০ জনকে আসামী করে গত ২২ মে ২০১২ইং সনে ৯২২ ধারায়, ২৭ মে ২০১২ইং সনে ৭০৪ ধারায় ও ১৯ মে ২০১৩ইং সনে ৭০৩ ধারায় পৃথক ৩টি  মামলা দায়ের করেন। এছাড়াও ফতেমা আক্তার লিখিত ভাবে জেলা পুলিশ সুপার ও থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার নিকট নিজের ও স্বামীর জানামালের নিরাপত্তা চেয়ে আবেদন করেও কোন প্রতিকার পাননি বলে অভিযোগ করেছেন।
জানা যায়, উপজেলা সদরের জামে মসজিদ রোডের মমতাজ উদ্দিন মার্কেটের ভাড়াটিয়া মেসার্স আজিজ ফুড প্রোডাক্টস’র মালিক মোঃ অহিদুর রহমান ও একই বাজারের থানা গেইটের নুরুল হক মার্কেটে মেসার্স অহিদ রাইস এজেন্সীর মালিক পাশ্ববর্তী লাকসাম উপজেলার ভোজপাড়া গ্রামের আবদুল কাদেরের ছেলে অহিদুর রহমান ওই বাজারে দীর্ঘদিন যাবত ২টি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে ব্যবসা চালিয়ে আসছেন। মামলা সূত্রে জানা যায, মার্কেটের মালিকগণ অসৎ উদ্দেশ্যে প্রতিষ্ঠানের মালিককে না জানিয়ে প্রতিষ্ঠানের কর্মচারীকে বের করে দিয়ে যাবতীয় মালামাল ও কাগজপত্রসহ প্রায় ২০ কোটি টাকার মালামাল এবং প্রতিষ্ঠানে থাকা ব্যাংকের চেক বই ও বিভিন্ন দলিলপত্রাদি লুট করে নেয়। ওই ঘটনায় মালিকের স্ত্রী ফাতেমা আক্তার বাদী হয়ে ঘরের মালিকের বিরুদ্ধে প্রায় ৩৫ লক্ষ টাকা লুটপাটের অভিযোগ এনে গত ২২ জুন ২০১২ইং সনে কুমিল্লার আদালতে ৭০৪/১২ ধারায় মামলা দায়ের করেন। এ ঘটনায় আদালত উপজেলা সমাজ সেবা কর্মকর্তাকে গত ১৯ মে ২০১৩ইং সনে উভয়ের উপস্থিতিতে জিজ্ঞাসাবাদ করে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দিলেও এখনো পর্যন্ত তদন্ত করেননি সমাজ সেবা কর্মকর্তা। আ্দালতে পৃথক ৩টি মামলা, পুলিশ সুপার, সমাজসেবা অফিসার, পৌর মেয়র ও থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার নিকট নিজের ও তার স্বামীর জানমালের নিরাপত্তা চেয়ে আবেদনের পরও কোন ব্যবস্থা না হওয়ায় ফাতেমা ও তার স্বামী অহিদুর রহমান সহ পরিবারের লোকজন নিরাপত্তাহীনতায় এখন পালিয়ে বেড়াচ্ছে। প্রতিষ্ঠান দখল ও লুটপাট কারীরা মোবাইলে এবং তার গ্রামের বাড়ীতে এসে প্রকাশ্যে প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে যাচ্ছে। এদিকে ফাতেমা ও তার স্বামীর নিরাপত্তাসহ প্রতিষ্ঠান দখল ও লুটপাটের প্রতিকার চেয়ে প্রশাসনের দ্বারে দ্বারে ঘুরে বেড়াচ্ছে।
এ বিষয়ে চৌদ্দগ্রাম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোঃ ইসমাইল মিয়া জানান, প্রতিষ্ঠান দখল ও মালামাল লুটের বিষয়ে পূর্ববর্তী কর্মকর্তা বলতে পারেন এ বিষয়ে আমি অবগত নই।


সম্পাদনা: শামীম ইবনে মাজহার,নিউজরুম এডিটর

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।