বিয়ে করে ছেলে-সন্ত্রাসীদের ভয়ে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন শিক্ষক পিতা !

কয়েকদিন আগে বড় ছেলে রাজমিস্ত্রি মহিউদ্দিন আ.লীগ নেতার এক মেয়েকে নিয়ে পালিয়ে বিয়ে করেছেন। গত শনিবার (১৫ জুন) ওই নেতার লোকজন মহিউদ্দিনকে বাড়িতে না পেয়ে তার পিতা মাদ্রাসা শিক্ষক হুমায়ুনকে পিটিয়ে রক্তাক্ত জখম করে প্রতিষ্ঠানে যেন না দেখা যায় হুমকি দিয়ে চলে যায়। সেই থেকে সন্ত্রাসীদের ভয়ে হুমায়ুন কবির পাঁচদিন ধরে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও ঘরবাড়ি ছেড়ে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন।
তিনি রামগঞ্জ উপজেলার নয়নপুর গ্রামের মৃত মুসলিম মুন্সির ছেলে এবং শ্রীরামপুর ডিএসএস দাখিল মাদ্রাসায় কারি শিক্ষক হিসেবে কর্মরত।
মঙ্গলবার (১৮ জুন) দুপুরে হুমায়ুন কবির রায়পুরে এসে সাংবাদিকদের জানান, গত কয়েকদিন আগে তার বড় ছেলে মোঃ মহিউদ্দিন বিয়ে করেন বলে আমি জানি। আমার অমতে বিয়ে করায় সে থেকে তার সাথে সকল সম্পর্ক চিহ্ন করা হয়েছে এবং যোগাযোগ নেই। শনিবার দুপুর ২টায় মাদ্রাসার সংলগ্ন মসজিদ থেকে নামাজ পড়ে বের হলে হঠাৎ করে পার্শ্ববর্তী নিছারা গ্রামের শওকত উল্যার ছেলে আরমান হোসেনের নেতৃত্বে ৭-৮ জন সন্ত্রাসী আমাকে তুলে নেয়ার চেষ্টা করে। এতে ব্যর্থ হয়ে তারা আমাকে লাঠি, রড দিয়ে পিটিয়ে রক্তাক্ত জখম করে চলে যায়। পরে অন্য শিক্ষকরা এসে আমাকে উদ্ধার করে বাড়িতে পাঠিয়ে দেন। পরে পরিবারের লোকজন আমাকে রায়পুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে। সোমবার সন্ধ্যায় ওই সন্ত্রাসীরা পুনআক্রমণ করার জন্য হাসপাতালে এসে আমাকে খুঁজলে এসময় তাদের দেখে আমি হাসপাতাল থেকে চিকিৎসা না নিয়ে পালিয়ে যাই। ওই রাতেই সন্ত্রাসীরা আমার স্ত্রী কুলছুমা বেগমের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে আসেন। না দিলে তারা আমাকে মেরে ফেলার হুমকি দেয়। এতে আমার পরিবার-পরিজন আতংকে দিন কাটাচ্ছে।
যোগাযোগ করা হলে ওই মাদ্রাসা সভাপতি মোশারফ হোসেন ফরিদ পাটওয়ারী জানান, দুপুর ২টায় ৭-৮ জন মোটর সাইকেল আরোহী যুবক মাদ্রাসার সামনে এসে শিক্ষক হুমায়ুন কবিরকে তুলে নেয়ার চেষ্টা করে। এসময় তার চিৎকারে আমরা এগিয়ে আসলে তারা তাকে পিটিয়ে মারাত্মক জখম করে চলে যায়। তাকে উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য বাড়িতে পরিবারের কাছে পাঠিয়ে দেই। সে থেকে তার খোঁজ এখনো পাইনি।
এ ব্যাপারে যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলে অভিযুক্ত আরমানকে পাওয়া যায়নি। তবে তার স্বজনরা জানিয়েছেন, মাদ্রাসা শিক্ষক হুমায়ুন কবিরের বড় ছেলে তাদের এক আত্মীয়ের মেয়েকে ভাগিয়ে নিয়ে বিয়ে করে পালিয়ে রয়েছেন। মহিউদ্দিনকে খোঁজ করতে তার বাড়িতে গেলে শিক্ষক হুমায়ুন কবিরের সাথে দেখা হয়। এসময় হুমায়ুন কবির তাদেরকে  গালমন্দ করলে বাধানুবাদ হয়। হুমায়ুন কবির কোথায় আছে জানিনা।
ইছাপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোঃ অলিউল্যা মোবাইল ফোনে জানান, ঘটনাটি শিক্ষক হুমায়ুন কবির অবহিত করেছেন। আইনের আশ্রয় নেয়ার জন্য তাকে পরামর্শ দেয়া হয়েছে। সে কোথায় আছে তিনিও তা জানেনা।
রামগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) একেএম মঞ্জুরুল হক আকন্দ মোবাইল ফোনে বলেন, এ ঘটনায় তাদের জানা নেই। ওই শিক্ষক বা তার পরিবার আইনের আশ্রয় নিয়ে তাকে সর্বাক্তক সহযোগিতা করা হবে বলে জানান।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।