সাতক্ষীরায় চিকিৎসক ও ক্লিনিক কর্তৃপক্ষের অবহেলায় নারী রোগীর মৃত্যুর অভিযোগ

সাতক্ষীরায় চিকিৎসক ও ক্লিনিক কর্তৃপক্ষের অবহেলায় এক নারী রোগীর মৃত্যুর অভিযোগ উঠেছে।  সাতক্ষীরার দেবহাটা উপজেলার পারুলিয়া মোমেনা ক্লিনিক ও এর চিকিৎসক ডা. আসিফ কাউছারের বিরুদ্ধে এ অভিযোগ উঠেছে।   মঙ্গলবার সকালে মারা যার রোগী আমেনা  খাতুন (৪৫)। তিনি  দেবহাটা উপজেলার দক্ষিণ পারুলিয়া গ্রামের আহাদ আলী সরদারের স্ত্রী এবং তিন সন্তানের জননী। মৃতের পারিবারিক সূত্র জানায়, গত ১০ জুন অ্যাপেন্ডিস ও জরায়ুর সমস্যা নিয়ে মোমেনা ক্লিনিকে ভর্তি হন আমেনা খাতুন।

পরদিন সকালে তার অপারেশনের আয়োজন করা হয়। কিন্তু তাকে অচেতন না করেই অপারেশন শুরু করেন ক্লিনিকের চিকিৎসক ডা. আসিফ কাউছার।  এক পর্যায়ে রোগীর অবস্থার অবনতি হলে সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালে কর্মরত ডা. আসিফ কাওছারের ভাই অ্যনেস্থিসিয়ার চিকিৎসক ডা. রাজিব কাউছারকে সংবাদ দেন। প্রায় দুই ঘণ্টা পরে পৌঁছে ওই রোগীকে অ্যানেস্থিসিয়া দেন রাজিব। তার আগেই রোগী অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন।

রোগীর পরিবারের অভিযোগ, রোগীর জীবন সংকটাপন্ন হলেও তাকে অনত্র নিয়ে যেতে দেয়নি  ক্লিনিক কর্তৃপক্ষ।

একপর্যায়ে রোগীর অবস্থা চরমে পৌঁছালে আট দিন পর মঙ্গলবার সকালে তাকে পাঠানো হয় সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালে। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় বেলা সাড়ে ১১টায় তিনি মারা যান।

অ্যানেস্থিসিয়া ছাড়া কিভাবে রোগীর অপারেশন করলেন এমন প্রশ্নের জবাবে ডা. আসিফ কাউছার  বলেন, ‘‘ক্লিনিক কর্তৃপক্ষ খরচ বাঁচাতে অ্যানেস্থিসিয়া না করে তাকে অপারশেন করতে বলে।’’

রোগীর অবস্থা খারাপ হলে সাতক্ষীরা সদর হাসপাতাল থেকে ডাক্তার এনে অ্যানেস্থিসিয়া দেওয়া হয়েছিল বলে তিনি জাননা। তিনি এ ঘটনার জন্য ক্লিনিক কর্তৃপক্ষকে দায়ী করেন।

এ বিষয়ে ডা. রাজিব কাউছার বলেন, রোগীকে অপারেশন থিয়েটারে নিয়ে কাটার পর অবস্থা খারাপ দেখে তাকে খবর দেওয়া হয়।

সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালের গাইনি চিকিৎসক রহিমা খাতুন বলেন, ‘‘আট দিন পর মঙ্গলবার ওই রোগীকে মুমূর্ষু অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। কিছুক্ষণ পর রোগী মারা যান।’’

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ক্লিনিক কর্তৃপক্ষ টাকা বাঁচাতে রোগীকে অচেতন না করেই এভাবে চিকিৎসককে দিয়ে অপারেশন করায়।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে ক্লিনিকের মালিক শাহাজান হোসেন বলেন, ‘‘চিকিৎসকদের পরামর্শ মতোই অপারেশনের ব্যবস্থা করা হয়। ভুল থাকলে তার জন্য চিকিৎসক দায়ী।’’

এ বিষয়ে দেবহাটা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কাজী দাউদ হোসেন জানান, রোগীর পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযোগ দিলে ক্লিনিক কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।


সম্পাদনা: শামীম ইবনে মাজহার,নিউজরুম এডিটর

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।