তিন দিন ধরে প্রবল বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে ভারতে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ১৩১

তিন দিন ধরে প্রবল বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে উত্তর ভারতের হিমালয়সংলগ্ন উত্তরখণ্ড ও হিমাচল প্রদেশে নিহতের সংখ্যা ১৩১ ছাড়িয়ে গেছে। পাহাড় ও সেতু ধসে সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ায় প্রায় ৭০ হাজার তীর্থযাত্রী আটকা পড়েছেন কেদারনাথের পথে। ভারতের টেলিভিশন এনডিটিভি জানিয়েছে, পাহাড়ি ঢল ও ভূমিধসে কেবল উত্তরখণ্ডেই ১০২ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে রূদ্রপ্রয়াগ জেলায় নিহত হয়েছে অন্তত ২০ জন। অলকানন্দার প্রবল স্রোতে তীরের মাটি ধসে তলিয়ে গেছে ৪০টি হোটেলসহ অন্তত ৭৩টি ভবন।

কেদারনাথ, বদ্রিনাথ, গঙ্গোত্রি, গোমুখ- এই চার তীর্থস্থানে যাওয়ার পথে উত্তরখণ্ডের বিভিন্ন স্থানে আটকা পড়েছেন ৭০ হাজারেরও বেশি হিন্দু পূণ্যার্থী। ১৫ স্থানে ভূমিধসের কারণে হার্সিল- গঙ্গোত্রি সড়কেই আটকা পড়ে আছেন ৬ হাজারের বেশি তীর্থযাত্রী।

প্রবল ঢলের কারণে বিখ্যাত কেদারনাথ মন্দিরের একটি অংশ দৃশ্যত কাদার মধ্যে তলিয়ে গেছে। মন্দির প্রাঙ্গণের একটি অংশও ভাসিয়ে নিয়ে গেছে নদী।

ওই মন্দির এলাকায় অন্তত পাঁচশ লোক নিখোঁজ থাকার কথা বলা হয়েছে এনডিটিভির প্রতিবেদনে, যাদের মধ্যে ৪৫ জন পুলিশ সদস্যও আছেন।

উদ্ভূত পরিস্থিতিতে হিমালয় পাদদেশের এই চার তীর্থস্থানে রোববার থেকেই তীর্থযাত্রা বন্ধ করে দিয়েছে সরকার। সেনাবাহিনীর পাঁচশ সদস্যকে নিয়োজিত করা হয়েছে উদ্ধার কাজে। তীর্থযাত্রীদের সরিয়ে নিতে বিমানবাহিনীর হেলিকপ্টারও ব্যবহার করা হচ্ছে।

উত্তরখণ্ড ও হিমাচলের সড়কপথে বিচ্ছিন্ন এলাকাগুলোতে বিমানের মাধ্যমে খাবার, পানির বোতল, জরুরি ওষুধ এবং কম্বল ফেলা হচ্ছে।

টেলিভিশনে প্রচারিত ভিডিওতে দেখা যায়, উন্মত্ত নদী প্রবল তোড়ে ভাসিয়ে নিয়ে যাচ্ছে সেতু, তীরের ঘরবাড়ি। শিবের একটি বিশাল মূর্তি আধাডোবা অবস্থায় দেখা যায় ঋষিকেশ শহরে।উত্তরাঞ্চলীয় পাঞ্জাব এবং হরিয়ানাতেও ভারী বর্ষণের খবর পাওয়া গেছে। হরিদুয়ারে গঙ্গা এবং হরিয়ানায় যমুনার পানি বিপদসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে বলে ভারতীয় গণমাধ্যমে জানানো হয়েছে।

ভারতে সাধারণত জুনের শেষভাগ থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত মৌসুমী বায়ুর প্রভাবে বৃষ্টিপাত চলে। তবে এবার দুই সপ্তাহ আগেই প্রবল বৃষ্টি নিয়ে হাজির হয়েছে মৌসুমী বায়ু।

রোববার থেকে বৃষ্টি চলছে ভারতের রাজধানী নয়া দিল্লি এবং মুম্বাইয়েও। যমুনার পানি বাড়তে থাকায় দিল্লির নিচু এলাকা থেকে দেড় হাজার লোককে সরিয়ে নিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

ভারতের আবহাওয়াবিদরা বলছেন, উত্তরখণ্ড, হিমাচলসহ ভারতের বিভিন্ন স্থানে আরো দুয়েকদিন ভারী বৃষ্টি হতে পারে।


সম্পাদনা: শামীম ইবনে মাজহার,নিউজরুম এডিটর

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।