নিয়ম নয়, ডাক্তারদের ইচ্ছার উপর নির্ভর করে অপারেশন হবে কিনা

কক্সবাজার সদর হাসপাতালে অপারেশনের জন্য আধুনিক সব যন্ত্রপাতি আছে। আবার কিছু মূল্যবান যন্ত্রপাতি ব্যবহার না হওয়ায় অবহেলায় পড়ে আছে অপারেশন থিয়েটারে। তবুও কনসালটেন্ট ডাক্তারদের রোগী অপারেশন করাতে চরম অনীহা। যার ফলে দরিদ্র অসহায় রোগীরা অপারেশনের অপেক্ষায় মাসের পর মাস পড়ে থাকে হাসপাতালের ওয়ার্ডে। ভুক্তভোগীদের অভিযোগ হাসপাতালে অপারেশন করিয়ে টাকা পাবেনা বলে কনসালটেন্ট ডাক্তাররা অপারেশন করতে চায় না। সদর হাসপাতাল ব্যবস্থাপনা কমিটি ও ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষও কনসালটেন্টদের দায়িত্ব অবহেলার কথা অকপটে স্বীকার করলেও কারো যেন কিছু করার নেই। মহেশখালীর হোয়ানকের আলী আকবর পেটে পাথর অপারেশন করার জন্য সদর হাসপাতালে ৩ দফা ভর্তি হয়েছে। বার বার অপারেশনের ডেইট দিয়ে হয় সার্জারী ডাক্তার থাকে না অথবা অপারেশন থিয়েটারের যন্ত্রপাতির সমস্যা অথবা এনেসথেমিয়া ডাক্তার সমস্যা, নতুবা ২টার পর অপারেশন হবে না। এভাবে ৩ মাস ধরে পুরুষ ওয়ার্ডে ঘুরপাক খাচ্ছে। যার ফলে হাতে যা টাকা পয়সা ছিল তাও শেষ। এখন আর ওষুধ খাবারও টাকা নেই। এখন যদি অপারেশন হয়ও তাহলে জমি বিক্রি করে টাকা আনতে হবে এমনটাই জানালেন আলী আকবরের স্ত্রী সেজেনা খাতুন। রামু গর্জনিয়া এলাকার মাদ্রাসা শিক্ষক ছৈয়দ নুর নাকে মাংস বাড়ায় তা অপারেশন করাতে সদর হাসপাতালের নাক, কান গলা ডাক্তারদের পরামর্শে ওয়ার্ডে ভর্তি হয়েছেন ৬ দিন আগে। এর মধ্যে একবার অপারেশন থিয়েটার পর্যন্ত নিয়ে গিয়ে ২টা বাজার পর বলেছে এখন আর অপারেশন হবে না। সবাই খেতে যাবে। এর আগে আরো ১ বার ভর্তি হয়েছিল ২০ দিন আগে। এর মধ্যে শুধু অপারেশনের ডেইট পেয়েছি। ওষুধ কিনার সিøপ পেয়েছে। মহিলা ওয়ার্ডের অবস্থা আরো শোচনীয় ওয়ার্ডের বেশির রোগী অপারেশনের অপেক্ষায় মাসের পর মাস ঘুরছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক হাসপাতালের এক কর্মচারী বলেন ২ দিন আগে এক লোকের পা ভেঙ্গে যাওয়ার কারণে তার চিৎকারে হাসপাতালের পরিবেশও ভারী হয়ে উঠছিল। তখন ইমারজেন্সির পক্ষ থেকে ৩ বার ফোন করার পরও অর্থোপেডিক ডাক্তার না আসায় পরে শহরের একটি বেসরকারি হাসপাতালে টাকার বিনিময়ে আরেকজন রোগীকে প্লাস্টিক করা অবস্থা থেকে জোর করে ডেকে এনে কাজ করাতে হয়েছে। এরকম প্রতিদিন হচ্ছে। মোটকথা কনসালটেন্ট ডাক্তারদের ইচ্ছা হলে কোন অপারেশন হবে না হলে হবে না। কোন গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি কোন রোগীর ব্যাপারে অনুরোধ করলে কিছুটা কাজ হয়। না হলে মাসের পর ঘুরতে ঘুরতে ঐ রোগীর অবস্থা খারাপ হয়ে যায়। খোদ হাসপাতালের কর্মকর্তা-কর্মচারীরাই বলেন কিছু কিছু কনসালটেন্ট ডাক্তার কাউকে তোয়াক্কা করেনা। তারা নিজের ইচ্ছামত চলে। এমনকি কাজের চাপ বেশি থাকলে চালু মেশিন খারাপ বলে চলে যায়। বরং ঐসব ডাক্তার সকাল ১০টা থেকে ২টা ৩টা পর্যন্ত শহরের বেসরকারি ক্লিনিকগুলোতে অপারেশন করে টাকা আয় করছে।  মোট কথা গরিব অসহায় রোগীরা কোন সেবাই পাচ্ছে না। এ ব্যাপারে আলাপকালে হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা কমিটির ২ জন সদস্য বলেন কিছু কিছু কনসালটেন্ট ডাক্তারদের একগুয়ামির কারণে পুরো স্বাস্থ্যসেবা প্রশ্নের সম্মুখীন হয়ে পড়েছে। অথচ বর্তমান সরকার হাসপাতালে আধুনিক সব যন্ত্রপাতি দিয়েছে। তবুও নিয়মিত অপারেশন হয়না। এ ব্যাপারে আলাপকালে জেলা সদর হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. অজয় ঘোষ বলেন, গাইনী ওয়ার্ডে অপারেশন ও সিজার অপারেশনের মাসিক হিসাব মেলালে সব পরিস্কার বুঝা যাবে। সবকথা মুখে বলা যায় না। তবে ডাক্তারদের এই মানসিকতা পরিহার করে মানুষের সেবা করার মানসিকতা পোষণ করার আহবান জানান তিনি।


সম্পাদনা: শামীম ইবনে মাজহার,নিউজরুম এডিটর

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।