বরগুনা পলিটেকনিকে ছাত্র-পুলিশ সংঘর্ষে ওসিসহ আহত ২৬

বরগুনা সরকারি পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের অপসারণের দাবিতে  সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেছে ছাত্ররা। এ সময় ছাত্র-পুলিশ সংঘর্ষে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শিল মনি চাকমাসহ ছয় পুলিশ সদস্য ও কমপক্ষে ২০ জন শিক্ষার্থী আহত হয়েছে। গ্রেফতার করা হয়েছে ১০ জন শিক্ষার্থীকে। বুধবার সকালে এ ঘটনা ঘটে। আহতদের বরগুনা জেনারেল হাসপাতাল ও বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ প্রকৌশলী এ.জে.এম মাসুদুর রহমানের অপসারণের দাবিতে সকালে বরগুনা-কাকচিড়া সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করে শিক্ষার্থীরা। এ সময় ঘটনাস্থলে পুলিশ লাঠিচার্জ করলে ছাত্র ও পুলিশের মধ্যে সংঘর্ষ শুরু হয়।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে রাবার বুলেট ও ফাঁকা গুলি চালায় পুলিশ। বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা আশেপাশের গ্রাম এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে পুলিশও তাদের ধাওয়া করে। এতে সকাল থেকে বরগুনা পলিটেকনিক্যাল ইন্টসটিটিউট ও এর আশেপাশের এলাকায় থমথমে অবস্থা বিরাজ করতে থাকে। আতঙ্কিত হয়ে পড়ে স্থানীয় গ্রামবাসী ও স্কুলগামী কোমলমতি শিক্ষার্থীরা।

বরগুনা পলিটেকনিক্যাল ইন্সটিটিউটের ছাত্র দেবাশীষসহ আন্দোলনরত একাধিক শিক্ষার্থী বলেন, “কম্পিউটার ট্রেডের দ্বিতীয় বর্ষের প্রথম শিফটের এক শিক্ষার্থীকে যৌন হয়রানির পর অন্যায়ভাবে তাকে বরগুনা পলিটেকনিক্যাল ইন্সটিটিউট থেকে ট্রান্সফার করেন অধ্যক্ষ প্রকৌশলী এ.জে.এম মাসুদুর রহমান। টিউটোরিয়াল পরীক্ষার নম্বর দিতেও তিনি উৎকোচ নিতেন শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে। অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে এমন একাধিক অভিযোগ রয়েছে যার প্রমাণ আছে।”

বরগুনার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. জাহাঙ্গির আলম জানান, সড়ক অবরোধ ও বিশৃঙ্খলার খবর পেয়ে সদর একজন ম্যজিস্ট্রেটের নেতৃতে সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাসহ (ওসি) একদল পুলিশ সেখানে যায় এবং বিক্ষুব্ধ ছাত্রদের নিবৃত করার চেষ্টা করে। বিক্ষুব্ধ ছাত্ররা এ সময় পুলিশের ওপর হামলা চালায়। ছাত্রদের হামলায় ওসি শিল মনি চাকমাসহ পুলিশের একাধিক সদস্য আহত হওয়ার তথ্য পেয়ে তিনি ঘটনাস্থলে যান। সে সময় পলিটেকনিক ইন্সটিটিউটের আশেপাশের এলাকায় ছড়িয়ে থাকা ছাত্ররা বিচ্ছিন্নভাবে হামলা চালালে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে তখন শর্টগানের গুলি ও রাবার বুলেট ছোড়া হয়।

বরগুনা পলিটেকনিক্যাল ইন্সটিটিউটের শিক্ষার্থী আদনান আহমেদ আবির বলেন, “বারবার আশ্বাস দিয়ে দাবি না মানার পর সকালে আমরা শান্তিপূর্ণ সড়ক অবেরাধ কর্মসূচি নেই। কিন্তু পুলিশ অতর্কিতে আমাদের ওপর হামলা চালায়। এতে কমপক্ষে আমাদের ২০ জন শিক্ষার্থী আহত হয়েছে।”   বরগুনা পলিটেকনিক্যাল ইন্সটিটিউটের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ প্রকৌশলী এ.জে.এম মাসুদুর রহমানের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করে তাকে পাওয়া যায়নি।

বরগুনার পুলিশ সুপার শ্যামল কুমার নাথ জানান, পুলিশ প্রথমে শিক্ষার্থীদের ডেকে অবরোধ তুলে নিতে অনুরোধ জানায়। কিন্তু পুলিশের অনুরোধ প্রত্যাখ্যান করে শিক্ষার্থীরা  উল্টো ইটপাটকেল নিক্ষেপ শুরু করে।পরিস্থিতি সামাল দিতে পুলিশ ২৬ রাউন্ড রাবার বুলেট নিক্ষেপ করে। বর্তমানে পরিস্থিতি পুলিশের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।


সম্পাদনা: শামীম ইবনে মাজহার,নিউজরুম এডিটর

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।