পুলিশ হেফাজতে নির্মাণশ্রমিকের মৃত্যু: আন্দোলনে শ্রমিকরা

পুলিশ হেফাজতে নির্মাণশ্রমিক আব্দুল খালেক নিহত হওয়ার ঘটনায় আন্দোলনে নেমেছে টাঙ্গাইলের শ্রমিক ফেডারেশন। বৃহস্পতিবার দুপুরে টাঙ্গাইল শহরের নিরালা মোড় অবরোধ করে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করে তারা। শ্রমিক নেতা আব্দুস সবুর খান বীর বিক্রমের সভাপতিত্বে  সমাবেশে টাঙ্গাইল পৌরসভার মেয়র শহদিুর রহমান খান মুক্তি, ট্রাক শ্রমিক ইউনিয়নের টাঙ্গাইল শাখার সভাপতি বালা মিয়া বক্তব্য দেন। সমাবেশে বক্তারা খালেক হত্যার দ্রুত বিচার করা না হলে পুরো টাঙ্গাইলকে অচল করে দেয়ার হুমকি দেয়।
উল্লেখ্য, ২ জুন রোববার রাতে টাঙ্গাইল জেলা কারাগারে থাকাকালীন অবস্থায় নির্মাণশ্রমিক আব্দুল খালেক মারা যান।

টাঙ্গাইলের জেল সুপার আবু ফাতাহ জানান, টাঙ্গাইল সদর থানার একটি ডাকাতি মামলায় গ্রেফতারকৃত আবদুল খালেককে (৪৮) রোববার সন্ধ্যায় টাঙ্গাইল বিচারিক হাকিম আদালত থেকে টাঙ্গাইল জেলা কারাগারে পাঠানো হয়। কারাগারে তিন নং ওয়ার্ডে তাকে রাখা হয়। রাত একটার দিকে আব্দুল খালেক বাথরুমে যান। আধাঘণ্টা পরও বাথরুম থেকে বের না হলে কর্তব্যরত এক কয়েদি বাথরুমে উঁকি দিয়ে তাকে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পান। খবর পেয়ে কারাগারের কর্মকর্তারা সেখানে যান এবং তাকে উদ্ধার করেন।

৩ জুন সোমবার সকালে নির্বাহী হাকিম ভাস্কর দেবনাথের উপস্থিতিতে লাশের সুরতহাল করা হয়। দুপুরে টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে ডা. প্রফুল্ল চন্দ্র সাহার নেতৃত্বে তিন সদস্যের একটি মেডিকেল টিম লাশের ময়না তদন্ত করেন।

টাঙ্গাইল সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ( ওসি) নজরুল ইসলাম জানান, শহরের কাগমারি পালপাড়া এলাকায় অবসরপ্রাপ্ত পুলিশের উপ-পরিদর্শক নিখিল চন্দ্র পালের বাড়িতে ৩০ মে বৃহস্পতিবার রাতে ডাকাতির ঘটনা ঘটে। এই ঘটনায় অজ্ঞাত ১০/১২ জনকে অভিযুক্ত করে টাঙ্গাইল সদর থানায় মামলা করেন। পুলিশ এই ঘটনায় জড়িত থাকার সন্দেহে পৌর এলাকার সাকরাইল থেকে গত শনিবার আব্দুল খালেককে গ্রেফতার করে।

পরে তার স্বীকারোক্তি অনুযায়ি লণ্ঠিত কিছু স্বর্ণালঙ্কার ও নগদ টাকা তার বাড়ি থেকে উদ্ধার করা হয়। এছাড়া তিনি ডাকাতির সঙ্গে জড়িত কয়েকজনের নাম বলেন। তার কাছ থেকে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে পুলিশ শহরের দিঘুলিয়া এলাকা থেকে বাচ্চু ও রাসেলকে গ্রেফতার করে।

গত রোববার আব্দুল খালেককে টাঙ্গাইল বিচারিক হাকিম আদালতে হাজির করা হলে তিনি ডাকাতির সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে আদালতে জবানবন্দি দেয়। পরে আদালতের নির্দেশে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়। আব্দুল খালেকের পরিবারের দাবি, তিনি পেশায় রাজমিস্ত্রী। পালপাড়ার নিখিল চন্দ্র পালের বাড়িতে তিনি নির্মাণের কাজ করছিলেন। ওই বাড়িতে ডাকাতি হওয়ার পর পুলিশ সন্দেহবশত তাকে গ্রেফতার করে নির্যাতন চালিয়েছে।

খালেকের ভাতিজা জহিরুল ইসলাম বলেন, “তার চাচা খালেকের বিরুদ্ধে কোনো থানায় মামলা বা জিডি নেই। শুধু সন্দেহবশত তাকে আটক করা হয়। পুলিশ তাকে ব্যাপক নির্যাতন করে আদালতে স্বীকারোক্তি দিতে বাধ্য করেছিল।”


সম্পাদনা: শামীম ইবনে মাজহার,নিউজরুম এডিটর

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।