স্বরুপকাঠির জমজমাট ‘নৌকার মেলা’

‘আমি সামনের মাসে তোমায় একটা নৌকা কিনে দিব’ কাউকে যদি এই ওয়াদা করেই থাকেন তাহলে আপনাকে অবশ্যই একবার ঢু মারতে হবে পিরোজপুর জেলার নেছারাবাদের (স্বরুপকাঠি) ভাসমান নৌকার হাটে। সেখানে শত শত নৌকার ব্যবসায়ী বসে আছে আপনার অপেক্ষায় । শত বছরের কাঠের ব্যবসার সুবাদে বহু বছর ধরে এখানে তৈরি হছে নানা রকমের নৌকা কিন্তু এখানে বেশি কদর রয়েছে পেনিস ও টালাই নামের দুই ধরনের নৌকার। দামেও অনেক সস্তা বলে এসব নৌকা ক্রেতাদের বেশি পছন্দের। পেনিস নৌকা ৮শ’ টাকা থেকে ১ হাজার টাকা এবং টালাই নৌকা ১ হাজার টাকা থেকে ১৩শ’ টাকায় বিক্রি করা হচ্ছে। এর সঙ্গে বৈঠা বিক্রি হচ্ছে আলাদা আলাদা দামে।বিশেষ করে দক্ষিণাঞ্চলের  অন্যতম নদী মাতৃক পিরোজপুর জেলার প্রত্যন্ত গ্রাম  সয়না,রঘুনাথপুর ধাবড়ি,মেঘপাল,হোগলা,বেতকা,কলাখালি প্রভৃতি অঞ্চলের মানুষের বর্ষার মৌসুমতো বটেই অন্যান্য সময়েও পেশাদারী কিংবা শৌখিন যাতায়াতের প্রধান বাহন হচ্ছে (নাও) নৌকা। আর বর্ষা মৌসুমকে কেন্দ্র করে প্রতি বছর পিরোজপুর জেলার নেছারাবাদে(স্বরুপকাঠি) বসে  জমজমাট নৌকার  হাট। সরেজমিনে আটঘর, কুড়িয়ানার বিখ্যাত নৌকার হাটে গিয়ে দেখা গেছে ক্রেতাদের উপচেপড়া ভিড়। পিরোজপুর ও ঝালকাঠি জেলার বিল অঞ্চলের সহস্রাধিক পরিবার নৌকা তৈরি ও বিক্রির পেশায় জড়িত। এ অঞ্চলের ডুবিল, চামির, একতা, আতারপাড়া, গগন ও আটঘর গ্রামে এসব নৌকা তৈরি হয়।স্থানীয় নৌকা মিস্ত্রী হরেন মন্ডল জানান, একটি পেনিস নৌকা তৈরি করতে তাদের এক থেকে দেড় দিন সময় লাগে। খরচ হয় প্রায় সাড়ে ৪শ’ থেকে ৫শ’ টাকা। প্রতি বছর চৈত্র বৈশাখ মাস থেকে নৌকা তৈরির কাজ শুরু করেন যা একটানা আশ্বিন মাস পর্যন্ত চলে।

স্থানীয় ব্যবসায়ীরা জানান, বিক্রি ভাল হলেও বর্তমানে কাঠের দাম বাড়ায় পকেটে পয়সা জমে না। সেই সঙ্গে ইজারাদারদের দৈরাত্মতো আছেই। সরকার নৌকা প্রতি শতকরা সরকার ৬ টাকা খাজনা নির্ধারণ করে দিলেও ইজারাদাররা তারচেয়ে বেশি আদায় করছে। নৌকা বিক্রেতা ও কারীগর নয়ন মোল্লা জানান, ২০ বছর ধরে নৌকা বানিয়ে এ হাটে বিক্রি করছেন, কিন্তু এখন নানা প্রতিকুলতার কারনে নৌকা তৈরিতে আগ্রহ কমে যাচ্ছে। সরকার যদি আর্থিক সহায়তা করে তাহলে এ শিল্পটি রক্ষার পাশাপাশি মাঝি পরিবারগুলো খেয়ে-পড়ে বেঁচে থাকতে পারবে।


সম্পাদনা: শামীম ইবনে মাজহার,নিউজরুম এডিটর

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।