আওয়ামী লীগ সরকার হত্যা, লুটপাট, চাঁদাবাজির মাধ্যমে জনপ্রত্যাশা পূরণে ব্যর্থ : মেনন

তত্ত্বাবধায়ক নয়, নির্বাচন কমিশনকে শক্তিশালীকরণের মাধ্যমে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের অধীনেই জাতীয় সংসদ নির্বাচন হতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন ওয়ার্কার্স পার্টির কেন্দ্রীয় সভাপতি ও শিক্ষা মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় কমিটির চেয়ারম্যান রাশেদ খান মেনন ।

তিনি বলেন, এ নির্বাচনে ধর্মীয় মৌলবাদ, সাম্প্রদায়িক ও সাম্রাজ্যবাদী অপশক্তিকে রুখতে সকলকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে।

সদ্য সমাপ্ত চার সিটি করপোরেশন নির্বাচনে ১৪ দলীয় জোট সমর্থক প্রার্থীদের পরাজয়ের পিছনে মুক্তিযুদ্ধের বিরোধীপক্ষের ঐক্য, ধর্মীয় রাজনীতির অপব্যবহার, ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের ওপর হুমকি ও নির্যাতনকে দায়ী করেন মেনন।

শুক্রবার সকালে ফুলতলা মহিলা কলেজ মিলনায়তেন খুলনা জেলা ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

মেনন বলেন, ‘২৩ দফার ভিত্তিতে ১১ দল আওয়ামী লীগের সাথে ঐক্যবদ্ধ নির্বাচন ও সরকার গঠন করে। কিন্তু ক্ষমতায় গিয়ে আওয়ামী লীগ ও তাদের সহযোগী সংগঠনগুলো সন্ত্রাস, হত্যা, লুটপাট, চাঁদাবাজির মাধ্যমে জনপ্রত্যাশা পূরণে ব্যর্থ হয়েছে।’

তিনি বলেন, জোটের শরিকদের অবমূল্যায়ন, দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থতা, মৌলবাদী ও সাম্রাজ্যবাদী শক্তিগুলোর সাথে আপোস সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন করেছে।

ক্ষমতাসীন জোটের অন্যতম এই নেতা বলেন, যুদ্ধাপরাধীদের বিচার প্রশ্নেও সরকার সময়ক্ষেপণ করেছে। এ বিচারকে নিয়ে জনসচেতনা ও জনসম্পৃক্ততা বাড়াতে ব্যর্থ হওয়ায় যুদ্ধাপরাধীরা এটিকে ধর্মের সাথে গুলিয়ে ফেলতে সক্ষম হয়েছে।

হেফাজত প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, গত ৫ মে হেফাজতের সমাবেশে হাজার হাজার মানুষ হত্যার কল্পকাহিনী বাহিনী বানিয়ে তা নিয়ে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে। নির্বাচনী বৈতরণী পার হতে এদেশের সহজ সরল ধর্মপ্রাণ মানুষকে বিভ্রান্ত করা হচ্ছে। সদ্য সমাপ্ত নির্বাচনেও বিএনপি ও তাদের জোট এ কাজ করেছে।

ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি প্রশ্ন রেখে বলেন, ওইদিন এতো মানুষের প্রাণহানি ঘটলে তাদের স্বজনরা কোথায়? কেউ কেন তাদের স্বজনদের নিখোঁজের দাবি করছেন না।

‘এ থেকেই বোঝা যায়- পরিকল্পিত উপায়ে বিএনপি ও তাদের জোট বিগত দিনের সন্ত্রাস, হামলা, নির্যাতন, লুটপাট ও দুর্নীতিকে চাপা দিতে চায়’ যোগ করেন তিনি।

খুলনা জেলা ওয়ার্কার্স পার্টির সম্পাদক হাফিজুর রহমান ভূঁইয়ার সভাপতিত্বে সাধারণ সভায় বক্তব্য দেন সাবেক সংসদ সদস্য শেখ সহিদুর রহমান, আনসার আলী মোল্ল্যা, মোজাম্মেল হক, অ্যাডভোকেট মিনা মিজানুর রহমান, দেলোয়ার উদ্দিন দিলু, শেখ মফিদুল ইসলাম, সন্দীপন রায়, মিজানুর রহমান প্রমুখ।

 

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।