কক্সবাজারে কীটনাশক লাইসেন্স প্রদানে নিয়মনীতি মানা হচ্ছে না

কক্সবাজারে কীটনাশকের লাইসেন্স প্রদানে কোন নিয়মনীতি মানা হচ্ছে না। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তাদের টাকা দিলেই যে কেউ পেয়ে যাচ্ছে লাইসেন্স। যার ফলে গ্রামের ডিপার্টমেন্টাল স্টোরেও বিক্রি হচ্ছে কীটনাশক। জেলাব্যাপী মাত্র সাড়ে ৪শ কীটনাশক বিক্রির লাইসেন্স থাকলেও কীটনাশক বিক্রি হচ্ছে প্রায় ২ হাজার দোকানে।

কীটনাশক বিক্রির লাইসেন্স দিতে কোন নিয়মনীতি মানছে না কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর। ডিপার্টমেন্টাল স্টোরেও কীটনাশক বিক্রি হওয়ায় যে কোন সময় ভয়াবহ দুর্ঘটনা ঘটে যাওয়ার আশঙ্কা করছেন সচেতন মহল। রামু মিঠাছড়ির মোহাম্মদ খাইরুল্লাহ জানান, এখানে প্রায় দোকানে কীটনাশক বিক্রি হচ্ছে। চাউল ও তেলের সাথে বিক্রি হচ্ছে কীটনাশক। তবে অধিকাংশ দোকানের কীটনাশক বিক্রির কোন লাইসেন্স নেই। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাকে ম্যানেজ করে তারা কীটনাশক বিক্রি করছেন। লাইসেন্স পাওয়ার ক্ষেত্রের যোগ্যতা যাচাই না করায় সর্বত্র বিশৃংখল পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।

চকরিয়া খুটাখালীর মোক্তার আহমদ জানান, খুটাখালী বাজারে মাত্র ৩ ব্যবসায়ীর কীটনাশক বিক্রির লাইসেন্স থাকলেও প্রায় অর্ধশত দোকানে কীটনাশক বিক্রি হচ্ছে। অনেক বিক্রেতা জানেন না কোন কীটনাশক কখন  কোথায় ব্যবহার করা যাবে। যার ফলে কৃষকরা মানসম্মত কীটনাশক ব্যবহার করতে পারছেন না। চকরিয়া বদরখালী ইউনিয়নের একজন ব্যবসায়ী নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, ৪ হাজার টাকা দিয়ে খুচরা কীটনাশক বিক্রির জন্য লাইসেন্স নিয়ে আমাদের লোকসান গুনতে হচ্ছে। লাইসেন্স না থাকলেও এখানে প্রতিটি দোকানে বিক্রি হচ্ছে কীটনাশক। যার ফলে আমরা লাইসেন্স নিয়েও কোন কাজ হচ্ছে না।

কৃষিসম্প্রসারণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তাকে টাকা দিয়ে লাইসেন্স নিয়ে ভোগান্তির শিকার হতে হচ্ছে। সদর উপজেলার ডিককুলের ব্যবসায়ী শামসুল আলম জানান, কৃষি বিভাগের কর্মকর্তাদের প্রতিমাসে ৩/৪শ করে টাকা দিলে আর লাইসেন্স করাতে হয় না। লাইসেন্স করাতে টাকা দিয়েও অনেক ভোগান্তির শিকার হতে হয়। তার চেয়ে মাসিক চুক্তিতে কীটনাশক বিক্রি করা অনেক নিরাপদ। মহেশখালী হোয়ানক বহুমূখী উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক আলী আহমদ জানান, খাদ্য সামগ্রী বিক্রেতার দোকানেও কীটনাশকের মওজুত করা স্বাস্থ্যের জন্য চরম ঝুঁকিপূর্ণ। কৃষি বিভাগের কোন প্রকার তদারকি না থাকায় ব্যবসায়িরা কীটনাশক বিক্রিতে উৎসাহিত হচ্ছেন।

কক্সবাজার কৃষিসম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক নুরুল আবচার  জানান, ডিপার্টমেন্টাল স্টোরে কীটনাশক বিক্রি মারাÍক অপরাধ। অভিলম্বে মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের বিষয়টি গুরুত্বসহকারে দেখার জন্য নির্দেশ দেওয়া হবে। জেলাব্যাপী ৫০টি পাইকারি ও ৪০০টি খুচরা কীটনাশক বিক্রির লাইসেন্স রয়েছে। প্রতিটি লাইসেন্স এর বিপরীতে ৭ টাকা করে ফি নেওয়া হয়েছে যা ট্রেজারী চালানের মাধ্যমে সরকারী কোষাগারে জমা হয়েছে। নিয়মবর্হিভুত ভাবে কাউকে লাইসেন্স প্রদান করা না। তবে লাইসেন্স প্রদান চলমান পক্রিয়া।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।