গ্রামীণ ব্যাংক চকরিয়া কর্মচারিদের ওপর চরম বৈষম্যের অভিযোগ: শান্তিতে নোবেল বিজয়ী’র প্রতিষ্ঠানে অশান্তি!

গ্রামীণ ব্যাংক কক্সবাজার জোন নিয়ন্ত্রিত চকরিয়া এরিয়ায় (মাস্টার রোল) কর্মচারিদের ওপর চরম বৈষম্যের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। তবে শান্তি নোবেল বিজয়ী ড. ইউনুসের হাতে গড়া প্রতিষ্ঠানে এতো অশান্তি কেন? প্রশ্ন সচেতন মহলের। অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, গ্রামীণ ব্যাংকের গঠিত নীতিমালা অনুযায়ী সারাদেশের ন্যায় প্রতিটি শাখায় দৈনিক বেতনের ভিত্তিতে মাস্টার রোলে কর্মচারি নিয়োগের বিধান অনুযায়ি চকরিয়া এরিয়ায় পশ্চিম বড়ভেওলা, ফাঁসিয়াখালী, আলীকদম ৩ শাখায় নিয়োগকৃত কর্মচারিদের (অফিস সহকারী) ওপর বড় বাবুদের চলে রীতিমত নানা নির্দেশ। চালানো হয় ঝিয়ের কাজ থেকে শুরু করে ব্যক্তিগত সকল কাজ আদায় করার মাধ্যমে ব্যাপক মানসিক নির্যাতন। যদিও নিয়মানুযায়ী কাজগুলো অফিসে কেন্দ্রিক সীমাবদ্ধ। সূত্রমতে, আন্তর্জাতিক শ্রম নীতিমালায় দৈনিক ৮ঘণ্টার বিধান থাকেলও এসব উপেক্ষা করে অতিরিক্ত সময়েই কড়া-গ-ায় কাজ আদায় করে ছাড়েন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। ফাঁসিয়াখালী শাখায় কর্মরত দিল মোহাম্মদ জানান, গ্রামীণ ব্যাংক কর্তৃপক্ষ আমাদের নির্দিষ্ট সময় বেধে দেয়নি। দৈনন্দিন রুটিন ওয়ার্ক অনুযায়ী সকাল ৭টা থেকে শুরু করে রাত ১০টা পর্যন্ত অফিসের কাজের পাশাপাশি ম্যানেজার মোঃ আবু ইউসুফের ব্যক্তিগত বাসার বাজার, কাপড় আইরন, বাথরুম পরিস্কার, জুতা পালিশসহ ঝিয়ের কাজ করানো হয়। তারপর রাত ১০টা থেকে আরম্ব হয় নৈশ প্রহরীর দায়িত্ব। তিনি আক্ষেপ করে বলেন, দেশের কোথাও এভাবে চলে কি না জানি না, কিন্তু এখানে এধরনের অমানবিক কর্মকান্ডে নিজ কর্মস্থলকে বিষিয়ে তুলছে। অনিয়মের বিষয়ে প্রতিবাদ করতে চাইলে চাকরিচ্যুত করার হুমকি দিয়ে পরেরদিন তাকে জোনাল ম্যানেজার আবুল হোসেন স্বাক্ষরিত এক বদলির আদেশও হাতে ধরিয়ে দেয়া হয় বলে অভিযোগ ভুক্তভোগি দিল মোহাম্মদের। একইভাবে পশ্চিম বড়ভেওলা শাখায় কর্মরত নাজিমুল করিম ও আলীকদম শাখায় কর্মরত শামসুল আলমকে বদলি করিয়ে দেয়। আলীকদম শাখায় কর্মরত শামসুল আলম বলেন, আমার বর্তমান শাখা ম্যানেজার মহিউদ্দিন অত্র শাখায় বিভিন্ন তদবিরে বহাল তবিয়তে প্রায় ৯বছর যাবত কর্মরত। ওই সুযোগকে পূঁজি করে এলাকায় অসামাজিক কর্মকান্ড সংঘটিত করে চলেছে তিনি। এসব অবৈধ কর্মকান্ডে সহযোগিতা করে যাচ্ছেন চকরিয়া এরিয়া ম্যানেজার মোঃ মোজাম্মেল হক (কারবারি)। এব্যাপারে বিভিন্ন দপ্তরে অভিযোগ, স্মারকলিপি এমনকি মানববন্ধনের মতো শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি পালন করা হলেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের টনক নড়েনি। উল্টো এর দাবি আদায়ে যারা সোচ্ছার ছিল তাদের তালিকা করে বিভিন্নভাবে হয়রানি করা হয়েছে। সচেতন মহলের উদ্বেগ, নোবেল বিজয়ী এ প্রতিষ্ঠানে উচ্চ পর্যায়ের বড় বাবুরা নীয়মনীতির তোয়াক্কা না করে দায়িত্বরত (মাস্টার রোল) কর্মচারিদের অমানবিক নির্যাতন শুধু বাংলাদেশে নয়, বহির্বিশ্বেও এ ধরনের ঘটনা লজ্জাজনক। মানবাধিকারও লংঘিত হচ্ছে ন্যাক্কারজনকভাবে। ভুক্তভোগিদের দাবি, অনতিবিলম্বে অবৈধ বদলি বাতিল এবং চাকরি স্থায়ীকরণের মাধ্যমে বৈষম্য বন্ধ করা হোক। অন্যথায় তারা এসব দাবি আদায়ে কঠোর আন্দোলনে যাওয়ারও হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন। এ বিষয়ে জানতে জোনাল ম্যানেজার আবুল হোসেন তালুকদারের কাছে মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে সংযোগ পাওয়া যায়নি।


সম্পাদনা: শামীম ইবনে মাজহার,নিউজরুম এডিটর

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।