তত্ত্বাবধায়ক আসলে আপনাকেও আবার জেলে যেতে হবে, আমাকেও যেতে হবে: খালেদাকে হাসিনা

প্রধান বিরোধীদলীয় নেতা বেগম খালেদা জিয়াকে উদ্দেশ করে আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, “আগামীতে তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা আসলে আপনাকেও আবার জেলে যেতে হবে, আমাকেও যেতে হবে।” আওয়ামী লীগের ৬৪তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী ‍উপলক্ষে শুক্রবার বিকেলে বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে এক আলোচনা সভায় তিনি এ কথা বলেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, “বর্তমান সরকার সব ক’টি নির্বাচন অবাধ ও সুষ্ঠু করতে সক্ষম হয়েছে। বাংলার মাটিতে জাতীয় নির্বাচনও অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য হবে। শুধু ‘তত্ত্বাবধায়ক-তত্ত্বাবধায়ক’ করেন কেন? এর আগে তত্ত্বাবধায়ক ওনাকেও গ্রেফতার করেছিল। ওনার ছেলেকে উত্তম মধ্যম দিয়ে দেশের বাইরে বের করে দিয়েছিল।”

আওয়ামী লীগের অতীত ইতিহাস উল্লেখ করে সবাইকে অসাম্প্রদায়িক সোনার বাংলা গড়ার লক্ষ্যে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, “দুর্নীতিবাজ ও সন্ত্রাসীরা যেন আর দেশের ক্ষমতায় আসতে না পারে সেজন্য কাজ করতে হবে। জনগণ জানে সময়মতো কাকে ভোট দিতে হবে।”

প্রধানমন্ত্রী বলেন, “জেলখানায় (১/১১-পরবর্তী সময়ে) পাশাপাশি ছিলাম। অনেক কিছুই দেখেছি। যার সকাল হয় দুপুর ১২টায়, উনি আস্তিক। আমরা ফজরের নামাজ পড়ে, পবিত্র কুরআন পড়ে দিন শুরু করি- আমরা নাস্তিক। এটা কোন ধরনের খেলা! এই মিথ্যাচারের বিচারের ভার দেশের জনগণের ওপর ছেড়ে দিলাম।”

হেফাজতের সমালোচনা করে আওয়ামী লীগ সভাপতি বলেন, “তারা গজব ছড়াচ্ছে, আড়াই হাজার মানুষ হত্যা করা হয়েছে। তাহলে তো এক লাখ আহত হওয়ার কথা। নিহতের পরিবার কোথায়? আহতরাই বা কোথায়?”

গত ৫ মে হেফাজতের অবরোধ কর্মসূচির দিনের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, “একজন মুসলমান কীভাবে কুরআন পোড়ায়, মসজিদে আগুন দেয়! পৃথিবীর ইতিহাসে কোথাও এত কুরআন একসঙ্গে পোড়ানো হয়নি। তাদের কাছে ধর্ম হেফাজত থাকতে পারে না। দেশের ধর্মপ্রাণ মুসুল্লিদের নিকট আমি এর বিচার দিলাম। এর জবাব বিএনপিকে দিতে হবে।”

সেদিনের ক্ষতিগ্রস্তদের বরাত দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “হেফাজতের তাণ্ডবে জামায়াত-শিবিরের লোকজন জড়িত ছিল।”

সরকারের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অপপ্রচারের কথা উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, “হাইতিতে ভূমিকম্পে মারা যাওয়ার ছবি, আমেরিকার সুইসাইডের ছবি ও কাবার গিলাফ পরিবর্তনের ছবি দিয়ে অপপ্রচার করে সরকারকে বেকায়দায় ফেলতে চায় একটি মহল। পবিত্র মক্কা শরীফ নিয়ে তামাশা করতেও এদের লজ্জা লাগে না।”

প্রধানমন্ত্রী বলেন, “ফরিদপুর এলাকার এক ইমাম আরো কয়েকজন ইমামকে নিয়ে আমার পরিবারের বিরুদ্ধে লিফলেট বিতরণ করেছে।”

এ সময় তিনি তার পরিবারের বিভিন্ন তথ্য প্রদান করে বলেন, “এসব মিথ্যাচারের বিচার জনগণ করবে।” বিরোধীদলীয় নেতার পরিবারের সমালোচনা করে তিনি বলেন, “চা বাগানের শিলিগুড়িতে যার জন্ম তিনি আমার পরিবার নিয়ে কথা বলেন।”

বিরোধীদলীয় নেতা ভাঙা সুটকেস থেকে সম্পদের পাহাড় গড়েছেন মন্তব্য করে শেখ হাসিনা বলেন, “ওনার ছেলেরা ১৫টি ইন্ডাস্ট্রির মালিক। ক্ষমতায় থেকে জনগণের টাকা লুট করে তারা সম্পদের পাহাড় গড়েছে। আমরা ক্ষমতায় থাকলে জনগণের মুখে ভাত তুলে দেই। আর তারা জনগণের মুখের খাবার কেড়ে নেয়।”

শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে সভায় আরো বক্তৃতা করেন, দলের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য মাওলানা গোলাম মাওলা নক্সবন্দী, আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য শেখ ফজলুল করিম সেলিম, মতিয়া চৌধুরী, জাসদ সাধারণ সম্পাদক শরীফ নূরুল আম্বিয়া, ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক আনিসুর রহমান মল্লিক, সাম্যবাদী দলের সাধারণ সম্পাদক দীলিপ বড়–য়া, আওয়ামী লীগের মাহবুব উল আলম হানিফ, জাহাঙ্গীর কবির নানক, এম এ আজিজ, মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া, আবদুল মতিন খসরু, সিমিন হোসেন রিমি, এ কে এম রহমত উল্লাহ, ডা. মোস্তফা জালাল মহিউদ্দিন, ড. আবদুস সোবহান গোলাপ।

২৩ জুন আওয়ামী লীগের ৬৪তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর আলোচনাসভা দুই দিন আগেই অনুষ্ঠিত হয়। ১৪ দলের নেতারাও এ সময় উপস্থিত ছিলেন। তবে দলের সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম ও মহাজোটের অন্যতম শরিক এরশাদের জাতীয় পার্টির কোনো প্রতিনিধি ছিলেন না। সভায় কয়েকজন বক্তা কর্মীদের চাওয়া-পাওয়ার হিসাব ভুলে ভবিষ্যতে দলকে জয়ী করতে কাজ করার অনুরোধ জানান।


সম্পাদনা: শামীম ইবনে মাজহার,নিউজরুম এডিটর

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।