তিতাসে পাওয়া শিশুটির মা দাবী করছেন দু’জন !

কুমিল্লা তিতাসের নাগেরচর গ্রামের রহিম মিয়ার ঢেঁড়শ ক্ষেত থেকে উদ্ধার হওয়া ৩ মাসের কন্যা শিশুটিকে দুই মহিলা তাদের মা বলে দাবি করছে! বৃহস্পতিবার তিতাসের নাগেরচর গ্রামে শিশুটির পালিত মা চুমকি বেগমের বাড়িতে এসে হাফেজা বেগম নামে এক মহিলা শিশুটির আসল মা বলে দাবি করলে পুলিশ খবর পেয়ে দু’জনকে উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কার্যালয়ে নিয়ে আসেন।

উল্লেখ্য যে, তিতাস উপজেলা নাগেরচর গ্রামের রহিম মিয়ার ঢেঁরশ ক্ষেতে গত মঙ্গলবার দিবাগত রাতের আধাঁরে কে বা কারা ৩ মাস বয়সের একটি কন্যা শিশুকে তোয়ালেতে মোড়ানো অবস্থায় ফেলে যায়। বুধবার সকালে চুমকি বেগম ঢেঁরশ ক্ষেত থেকে ঢেঁরশ তুলতে গেলে তিনি ক্ষেতের মধ্যে একটি শিশুর কান্না শুনতে পান। তিনি আরো দেখেন যে ৩টি কুকুর শিশুটিকে পাহারা দিচ্ছে। ৩ কুকুরের বেস্টনিতে বহু চেষ্টা করেও তিনি শিশুটির কাছে যেতে না পেরে তার বাড়ির লোকদের সহযোগিতায় শিশুটিকে ঘরে নিয়ে আসেন।

এব্যাপারে পালিত মা চুমকি বেগম বলেন, তিনি শিশুটিকে লালন-পালনের দায়িত্ব পেয়ে মহা খুশি কিন্তু বাধঁ সাধে একই উপজেলার শোলাকান্দি গ্রামের প্রবাসী আলী আকবরের স্ত্রী হাফেজা বেগম। তিনি শিশুটিকে তার সন্তান বলে দাবি করেন। খবর পেয়ে থানা পুলিশের উপ-সহকারী পরিদর্শক নজরুল ইসলাম দুই মহিলাসহ শিশুটিকে উপজেলায় নির্বাহী অফিসার শ্যামলী নবীর নিকট নিয়ে আসেন।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার শ্যামলী নবী ও তিতাস থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা নবীর হোসেনসহ এলাকার গণ্যমান্য লোকজনের উপস্থিতিতে হাফেজা বেগম শিশুটিকে তার সন্তান বলে দাবি করেন এবং তিনি বলেন, দাউদকান্দি উপজেলা গৌরীপুর শাপলা হাসপাতাল থেকে রতœা বেগম নামে এক মহিলার নিকট থেকে তিনি ৩ মাস আগে একদিনের এ শিশুটিকে নিয়ে আসেন এবং শিশুটির নাম রাখেন জান্নাতুল ফেরদৌসী। গত মঙ্গলবার রাতে শিশুটিকে একদিন রেখে আবার দিয়ে যাবেন বলে শিশুটিকে নিয়ে যান। এ্রপর তিনি গত বৃহস্পতিবার পত্রিকার মাধ্যমে শিশু পাওয়ার খবরটি জানতে পারেন। তিনি আরো বলেন, তার শিশুটির বাম হাতে পোড়া কাল দাগ রয়েছে।

এব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী অফিসার শ্যামলী নবী  জানান, রত্না বেগমকে খুঁজে বের করার পর শিশুটির আসল মা কে তা জানা যাবে। তিনি থানা পুলিশকে নির্দেশ দেন রত্না বেগমকে খুঁজে বের করার জন্য। এবং তদন্তপূর্বক শিশুটির আসল মায়ের কাছে শিশুটিকে তুলে দিতে বলেন।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।