দিশেহারা কৃষকরা: দুই হাজার ৩৫ জন নামে সাত রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকের মামলা

খুলনায় দুই হাজার ৩৫ জন কৃষকের নামে দায়ের করা সাতটি রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকের মামলা নিষ্পত্তি হচ্ছে না। ব্যাংকগুলোর বকেয়া সোয়া আট কোটি টাকা লোন আদায়ের জন্য এ মামলা দিয়েছে। এ মামলার বোঝা মাথায় নিয়ে দিশেহারা কৃষকরা জমি চাষে মন দিতে পারছে না। বাংলাদেশ ব্যাংকের একটি দায়িত্বশীল সূত্র নতুন বার্তা ডটকমকে জানায়, কৃষি, সোনালী, বিআরডিবি, অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও কর্মসংস্থান ব্যাংকের বকেয়া তিন কোটি ৬১ লাখ টাকা আদায়ের জন্য এক হাজার ৪৮০টি সার্টিফিকেট মামলা রয়েছে। এরমধ্যে এপ্রিল মাসে সোনালী ব্যাংক ৪২টি ও অগ্রণী ব্যাংক ৪৫টি নতুন মামলা দিয়েছে। এর বাইরে ওই মাসে সাড়ে তিন লাখ টাকা আদায়ের মাধ্যমে ৩৬টি মামলা নিষ্পত্তি হয়েছে।

এছাড়া বিআরডিবি বাদে অন্য ছয়টি ব্যাংকের বকেয়া চার কোটি ৬৭ লাখ টাকা আদায়ের জন্য ৫৫৬টি জেনারেল সার্টিফিকেট মামলা দিয়েছে। এর মধ্যে ৪২টি নতুন মামলা দিয়েছে সোনালী ব্যাংক।

সূত্রটি জানায়, দায়রেকৃত সার্টিফিকেট মামলার মধ্যে কয়রায় কৃষি ও অগ্রণী ব্যাংকের ৯৪টি, দাকোপে কৃষি, অগ্রণী ও সোনালী ব্যাংকের ২১টি, ফুলতলায় কৃষি, বিআরডিবি, অগ্রণী, সোনালী, জনতা ও কর্মসংস্থান ব্যাংকের ৩৩৩টি, বটিয়াঘাটায় কৃষি ও বিআরডিবর ২১৯টি, পাইকগাছায় কৃষি, অগ্রণী ও বিআরডিবির ৬৫টি, রূপসায় কৃষি, অগ্রণী, জনতা, বিআরডিবি ও রূপালী ব্যাংকের ৩১৮টি, ডুমুরিয়ায় বিআরডিবি, কুষি ও অগ্রণী ব্যাংকের ১৬৮টি, তেরখাদায় বিআরডিবি, কৃষি ও অগ্রণী ব্যাংকের ১৬৩টি এবং দিঘলিয়ায় বিআরডিবি, কৃষি ও সোনালী ব্যাংকের ১১১ টি।

সূত্রটি নাম প্রকাশ না করা শর্তে নতুন বার্তা ডটকমকে বলেন, “দায়েরকৃত এসব মামলার মধ্যে একমাত্র ফুলতলা তাঁতিদের নামে মামলা হয়েছে। বাকি কৃষকদের নামে মামলা হয়েছে। সূত্রটির দাবি বাস্তবতার নিরিখে কিস্তি নির্ধারণ করতে না পারার কারণে কৃষকরা লোন শোধ করতে পারছে না।”

উপজেলার পর্যায়ের কৃষকরা জানান, একদিকে চাষের উপকরণের দাম বৃদ্ধি, অন্যদিকে মাথায় মামলার বোঝা। এ জন্য কৃষকরা দিশেহারা হয়ে পড়েছে। তারা তাদের পেশা ধরে রাখার জন্য নতুন করে লোন দেয়ার পাশাপাশি বকেয়া লোন পরিশোধের জন্য দীর্ঘমেয়াদি কিস্তি করে দেয়ার দাবি জানান।


সম্পাদনা: শামীম ইবনে মাজহার,নিউজরুম এডিটর

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।