রায়পুরে ধর্ষকদের ভয়ে ৩ দিন মাদ্রাসায় যাচ্ছেনা নির্যাতিত ছাত্রী

লক্ষ্মীপুরের রায়পুরে ধর্ষক ও তার ৩ সহযোগির বিরুদ্ধে থানায় নারী শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা করায় ৩ দিন ধরে নির্যাতিত ছাত্রী মাদ্রাসায় যেতে পারছেননা বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এতে ওই ছাত্রী ও তার পরিবার আতংকিত রয়েছে। প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে নির্যাতিতের পরিবার প্রশাসনের সহযোগিতা চেয়েছেন।

মামলার এজাহারভুক্ত ধর্ষকরা হল- বামনী ইউনিয়নের যুবদলের যুগ্ম আহবায়ক মৃত আমির হোসেন চৌধুরীর ছেলে মিঠু চৌধুরী, ৭নং ওয়ার্ড সাধারণ সম্পাদক মৃত মমতাজ চৌধুরীর ছেলে ফারুক চৌধুরী, যুবদল নেতা মৃত আহাম্মদ উল্যা মুন্সির ছেলে জহির মুন্সি ও মোঃ ফজল মিয়ার ছেলে মোঃ সোহাগ।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, উপজেলার বামনী ইউনিয়নের উত্তর সাইচা গ্রামের কৃষক পরিবারের নবম শ্রেণির এক মাদ্রাসা ছাত্রী গত ৩০ মে রাতে প্রকৃতির ডাকে সাড়া দিতে ঘর থেকে বের হয়। এসময় ওঁৎ পেতে থাকা স্থানীয় প্রভাবশালী মিঠু চৌধুরী তার তিন বন্ধুর সহযোগিতায় সুপারি বাগানে নিয়ে নির্যাতন করে ফেলে রেখে যায়। পরে তার পিতা-মাতা ওই সুপারি বাগান থেকে তাকে উদ্ধার করে। ধর্ষক মিঠু চৌধুরী এ দৃশ্য মোবাইলে ধারণ করে ইন্টারনেটে প্রচার করে দেয়। এ ঘটনায় নির্যাতিত পরিবার স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও মেম্বারসহ গণ্যমান্যদের অবহিত করেন। তারা বিচার করবো বলে কালপেন করায় অবশেষে বাধ্য হয়ে ওই নির্যাতিত ছাত্রী বাদি হয়ে মঙ্গলবার (১৮ জুন) রাতে ধর্ষকদের বিরুদ্ধে থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন আইনে মামলা দায়ের করেন।

নির্যাতিত ছাত্রীটি সাংবাদিকদের জানান, এ ঘটনায় মামলার পর থেকে ধর্ষকদের নানা হুমকির ভয়ে আমি মাদ্রাসায় যেতে পারছিনা। আমি লেখাপড়া করতে চাই। আপনাদের ও পুলিশের সহযোগিতা পেলে আমি আবারও মাদ্রাসায় যেতে পারবো। তাছাড়া প্রতিরাতে লম্পটরা আমার বাবা-মাকে মোবাইল ফোনে মামলা তুলে নেয়ার জন্য নানা হুমকি দিয়ে আসছে।

এ ব্যাপারে অভিযুক্তরা পলাতক থাকায় তাদের বক্তব্য নেয়া যায়নি। তবে মিঠু চৌধুরীর স্ত্রী হনুফা বানু দাবি করেছেন মেয়েটি অন্য একটি ছেলের সাথে সম্পর্ক ছিল। এর প্রতিবাদ করায় তার স্বামীসহ অন্যদের আসামী করে হয়রানি করছে।

যোগাযোগ করা হলে বামনী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও ইউনিয়ন বিএনপির আহবায়ক সালেহ আহাম্মদ জানান, এ ঘটনায় উভয়পকে নিয়ে একটি মীমাংসার চেষ্টা করেছিলাম। কিন্তু অভিযুক্তরা আমার কথা শোনেনি।
এ মামলায় তদন্তকারী কর্মকর্তা রায়পুর থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) ইকবাল হোসেন জানান, মামলাটি গ্রহণ করে তদন্তপূর্বক প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে। ওই ছাত্রীকে মেডিকেল করা হয়েছে। ধর্ষকদের গ্রেফতারে পুলিশ তৎপর রয়েছে। ছাত্রীটি যেন মাদ্রাসায় যেতে পারে ওসি এবং ইউএনও স্যারের সাথে আলোচনা করে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।