সোমবার, অক্টোবর 18, 2021
সোমবার, অক্টোবর 18, 2021
সোমবার, অক্টোবর 18, 2021
spot_img
Homeজেলাকুমিল্লায় সামিট পাওয়ার লিমিটেডের ইঞ্জিন ফের বিকল

কুমিল্লায় সামিট পাওয়ার লিমিটেডের ইঞ্জিন ফের বিকল

কুমিল্লার চান্দিনা উপজেলার কুটুম্বপুরে অবস্থিত বেসরকারি বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্র চান্দিনা পাওয়ার প্লান্ট নামে সামিট পাওয়ার লিমিটেডের ইঞ্জিন ফের বিকল হয়ে পড়েছে। বছর না ঘুরতেই ওই পাওয়ার প্লান্টের চারটি ইঞ্জিনের মধ্যে সাত মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমতা সম্পন্ন ইঞ্জিনটি আবারো বিকল হওয়ায় কুমিল্লা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-১ (পবিস) এর আওতাধীন চার উপজেলায় তীব্র বিদ্যুৎ বিভ্রাট দেখা দিয়েছে। বর্ষাকালেও গ্রীষ্মের ন্যায় প্রচন্ড তাপদহে লোডশেডিয়ের  মাত্রা আরো বেড়ে যাওয়ায় জনজীবন বিপর্য¯ত হয়ে পড়েছে।
সুুত্রে জানা যায়, সামিট পাওয়ার লিমিটেডের চান্দিনা পাওয়ার প্লান্টে উৎপাদিত ২৪ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ আরইবি সিদ্ধাšত মোতাবেক ২০০০ সাল থেকে দীর্ঘ প্রায় ১৩ বছর যাবৎ কুমিল্লা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-১ এর চান্দিনাস্থ বিদ্যুৎ কেন্দ্রে সরবরাহ করে আসছে। চারটি ইঞ্জিনের মাধ্যমে ২৪ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন করা হয়। ওই পাওয়ার প্লানটি স্থাপনের পর থেকেই প্রায়ই ইঞ্জিন বিকল হলে বিদ্যুৎ উৎপাদন কমে যায়। কিন্তু সামিট পাওয়ার কর্তৃপক্ষের দায়িত্ব অবহেলার কারণে নির্ধারিত সময়ে ইঞ্জিন মেরামত করতে পারছে না সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
এছাড়া ২০১২ সালের এপ্রিল মাসে সাত মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমতা সম্পন্ন ইঞ্জিনটি বিকল হয়েছিল। এরপর নানা অযুহাতে প্রায় সাত মাস ওই ইঞ্জিনটি সচল করতে পারেনি কর্তৃপক্ষ। পরবর্তীতে প্রায় আট মাস পর ওই ইঞ্জিনটি সচল করে পূর্ণ উৎপাদনে ফিরে আসে সামিট পাওয়ারের চান্দিনা পাওয়ার প্লান্ট। গত বছরের অক্টোবর মাসের মাঝামাঝি সময়ে ওই ইঞ্জিনটি সচল করার পর এক বছর ঘুরতে না ঘুরতেই আবারো বিকল হয় ইঞ্জিনটি। চলতি বছরের ১১ জুন ওই ইঞ্জিনটি ফের বিকল হয়ে পড়লে ২৪ মেগাওয়াটের স্থলে ১৫-১৬ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন হয়।
এর ফলে কুমিল্লা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-১ বাধ্য হয়ে লোডশেডিং দিচ্ছে। এতে করে জেলার চান্দিনা, দেবিদ্বার, মুরাদনগর ও বরুড়া উপজেলার বাসিন্দারা ২৪ ঘণ্টায় গড়ে ৪/৬ ঘণ্টাও বিদ্যুৎ পাচ্ছেন না।
এদিকে কুমিল্লা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-১ এর জুনিয়র ইঞ্জিনিয়ার মোঃ আশরাফুল ইসলাম জানান, চার উপজেলায় প্রতিদিন গড়ে বিদ্যুতের চাহিদা আছে ৩০ থেকে ৩২ মেগাওয়াট। আরইবির সিদ্ধাšত মোতাবেক সামিট পাওয়ার তাদের উৎপাদিত এ কেন্দ্রে ২৪ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ সরবরাহ করায় জাতীয় গ্রীড থেকে  প্রতিদিন গড়ে মাত্র ৬-৭ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হয়। কিন্তু সামিট পাওয়ারের উৎপাদিত একটি ইঞ্জিন বিকল হওয়ায় তারা প্রতিদিন গড়ে তারা ১৫-১৬ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ সরবরাহ করছেন। ফলে গ্রাহকদের চাহিদা মোতাবেক বিদ্যুৎ সরবরাহ করা যাচ্ছে না।
এছাড়া সামিট পাওয়ার লিমিটেডের চান্দিনা পাওয়ার প্লান্টের গ্রেড ওয়ান ইঞ্জিনিয়ার মোঃ মিজানুর রহমান জানান, গত ১১ জুন যান্ত্রিক ত্রুটি দেখা দেওয়ায় মেশিন সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান ওয়ারসিলা বাংলাদেশকে বিষয়টি জানানো হয়েছে। কাজ শুরু করা হয়েছে। জুলাই মাসের প্রথম সপ্তাহে মেশিনটি সচল হলে পূর্ণ উৎপাদনে যাওয়ার আশা প্রকাশ করেন তিনি।


সম্পাদনা: শামীম ইবনে মাজহার,নিউজরুম এডিটর

RELATED ARTICLES
- Advertisment -spot_img

Most Popular

Recent Comments