বৃহস্পতিবার, ডিসেম্বর 2, 2021
বৃহস্পতিবার, ডিসেম্বর 2, 2021
বৃহস্পতিবার, ডিসেম্বর 2, 2021
spot_img
Homeজেলাফেনী সিটি কলেজে অনিময় চরমে: উদ্ধিগ্ন শিক্ষার্থীরা

ফেনী সিটি কলেজে অনিময় চরমে: উদ্ধিগ্ন শিক্ষার্থীরা

ফেনী শহরের এসএসকে সড়কের ২০১১ সালে শত বছরের পরিত্যক্ত ভবনে যাত্রা শুরু হয় সিটি কলেজ। প্রথম বছর সরকারী অনুমোদন ছাড়াই প্রায় ৪শতাধিক শিক্ষার্থী ভর্তি করে। ১৫ জন পরিচালক নিয়ে শুরু হলেও নিজেদের মধ্যে দ্বন্দ্বে ১০ জন চলে গেলেও বাকী ৫ জনের মধ্যে অর্থনৈতিক ও প্রাতিষ্ঠানিক বিভিন্ন বিষয়ে চরম দ্বন্দ্ব বিরাজ করছে। অধ্যক্ষ নিয়ে রয়েছে চরম বিভ্রান্তি। এসব কারণে ভেঙ্গে পড়ছে শিক্ষার মান।
সরোজমিনে গিয়ে দেখা যায় শত বছরের প্রাচীন ভবনটিতে এখনো চলছে কার্যক্রম। সম্প্রতি ফেনী পৌর মেয়র পরিদর্শন করে পরিত্যক্ত ভবনটি ভেঙ্গে ফেলার নির্দেশ দিয়েছেন। কিন্তু কিছু কর্তৃপক্ষ সে দিকে এখনো কর্ণপাত না করায় আতংকে রয়েছে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা।
এদিকে পরিচালকদের মধ্যে দ্বন্দ্ব ও নানারকম অশোভন আচরণের কারণে শুরুর দিকে নিয়োগ পাওয়া ব্যবসা নীতি ও প্রয়োগ বিষয়ের প্রভাষক সুলতানা আক্তার, অর্থনীতির প্রভাষক হালিমা খাতুন লামিয়া, পৌরনীতি বিষয়ের প্রভাষক ফাতেমা আক্তার, ইংরেজী বিষয়ের প্রভাষক শারমিন আক্তার চাকুরী ছেড়ে দিতে বাধ্য হন। ছোট ক্লাস রুমে ৬০ জনের জায়গায় ১০ করে ছাত্র-ছাত্রীরা গাদাগাদি করে বসতে হয়। এসব কারণে শিক্ষার্থীরা মনোক্ষুন্ন ছিল। তাছাড়া কলেজটির সামনে খেলাধূলার কোন মাঠ না থাকায় ক্রীড়া বিষয় শিক্ষার্থীদেরকে ভিমুখ করেছে কলেজ কর্তৃপক্ষ।
অন্যদিকে শিক্ষকদের বিরুদ্ধে ছাত্রীদের অশালীন আচরন করার অভিযোগ পাওয়া গেছে। সম্প্রতি এ কারনে ইসলামের ইতিহাস বিষয়ের প্রভাষক ইয়াসিন পাটোয়ারীকে কলেজ ক্যাম্পাসের বাহিরে নিয়ে কয়েকজন ছাত্র লাঞ্ছিত করার অভিযোগ রয়েছে।
এদিকে কলেজটির অধ্যক্ষকে নিয়ে রয়েছে নানা মুখরোচক কথা। কলেজের প্রচারপত্রসহ বিভিন্ন জায়গায় জনৈক মেজর (অব:) শাহজাহানকে অধ্যক্ষ দেখানো হলেও প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা কোন দিন দেখিনি কলেজ কিংবা কলেজ ক্যাম্পাসে।
কথিত আছে তিনি কলেজ পরিচালক জিয়ার মামা শ্বশুর, তাই তাকে কলেজে আসতে হয়নি। আবার কেউ কেউ বলেন তিনি জীবিত নেই। আসলে রহস্য কি তা ছাত্র-ছাত্রী ও অভিভাবক ও শিক্ষকদের মধ্যে রয়েছে অজানা কাহিনী।
শিক্ষার্থীরা জানায়, কলেজ পরিচালক জিয়ার অনভিজ্ঞ ও অদক্ষ স্ত্রী মূলত ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের দায়িত্ব পালন করছেন। নিজের এসব দূর্বলতা মাথায় নিয়ে সম্প্রতি ফেনীর স্থানীয় কিছু সংবাদ পত্রে ‘সাধু সাবধান নামে’ একটি বিজ্ঞাপন প্রচারকে কেন্দ্র করে আইনী জটিলতার মুখোমুখি হয়। এসব কারনে শত শত শিক্ষার্থীরা শিক্ষা জীবন নিয়ে চরম অদ্বিগ্নে রয়েছে। এ ব্যাপারে কলেজ পরিচালক এমএম জিয়ার সাথে বারবার যোগাযোগ করে তাকে পাওয়া যায়নি।
তবে পরিচালনা পর্ষদের চেয়ারম্যান লে: কর্ণেল (অব:) এ.এম মোশারফ হোসেন এসব অভিযোগ মিথ্যা দাবী করে বলেন একটি স্বার্থন্বেষী মহল কলেজটির জনপ্রিয়তায় ঈর্ষিন্বিত হয়ে বিভ্রান্তি সৃষ্টির অপচেষ্টা চালাচ্ছে।


সম্পাদনা: শামীম ইবনে মাজহার,নিউজরুম এডিটর

RELATED ARTICLES
- Advertisment -spot_img

Most Popular

Recent Comments