মাঈনুদ্দিন ও আশরাফের বিচার শুরু হবে ১৫ জুলাই

বুদ্ধিজীবী হত্যাসহ একাত্তরে মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে পলাতক চৌধুরী মাঈনুদ্দিন ও আশরাফুজ্জামান খানের বিরুদ্ধে গঠিত ১১টি অভিযোগের ভিত্তিতে বিচার শুরুর আদেশ দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে আগামী ১৫ জুলাই রাষ্ট্রপক্ষের সুচনা বক্তব্য (ওপেনিং স্টেটমেন্ট) উপস্থাপনের নির্দেশ দেন ট্রাইব্যুনাল।

এছাড়া ওই দিন রাষ্ট্রপক্ষের সাক্ষীদের তালিকা দেয়ারও নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

সোমবার চেয়ারম্যান বিচারপতি ওবায়দুল হাসানের নেতৃত্বে তিন সদস্যের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এ আদেশ দেন।

গত ১৬ জুন এই দুই নেতার বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের শুনানি শেষে আদেশের জন্য ২৪ জুন দিন ধার্য করেছিলেন ট্রাইব্যুনাল।

ওই দিন প্রসিকিউটর মো. সাহিদুর রহমান ট্রাইব্যুনালে অভিযোগ গঠনের পক্ষে শুনানি করেন। অন্যদিকে অভিযোগ গঠনের বিরোধিতা করে শুনানি করেন রাষ্ট্রীয় আইনজীবী আব্দুস শুক্কুর খান ও সালমা হাই টুনি।

উভয়পক্ষের শুনানি শেষে অভিযোগ গঠন করা হবে কিনা সে বিষয়ে আদেশের জন্য ট্রাইব্যুনাল এ দিন ধার্য করেন।

গত ২৭ মে পলাতক দুই আসামীর পক্ষে রাষ্ট্রীয় খরচে দুইজন আইনজীবী নিয়োগ দিয়ে তাদের অনুপস্থিতিতে বিচার শুরুর আদেশ দেন ট্রাইব্যুনাল। নিয়োগ পাওয়া আইনজীবী হচ্ছেন- আব্দুস শুক্কুর খান ও সালমা হাই টুনি।

গত ১২ মে পলাতক এই দুই আসামীকে ১০ দিনের মধ্যে ট্রাইব্যুনালে হাজির হতে ইংরেজি ও বাংলা দুটি জাতীয় পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি দেয়ার জন্য রেজিস্ট্রারকে নির্দেশ দেয় ট্রাইব্যুনাল।

গত ১৪ মে দৈনিক জনকন্ঠ এবং ১৫ মে ইংরেজি দৈনিক ডেইলী স্টার পত্রিকায় তাদেরকে হাজিরের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়।

গত ২৫ এপ্রিল পলাতক চৌধুরী মাঈনুদ্দিন ও আশরাফুজ্জামান খানের বিরুদ্ধে বুদ্ধিজীবী হত্যাসহ ১৬টি অভিযোগে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ (ফরমার চার্জ) দাখিল করে প্রসিকিউশন।

আসামীরা পলাতক থাকায় তাদেরকে গ্রেফতার করা সম্ভব হয়নি উল্লেখ করে প্রসিকিউশনের পক্ষ থেকে পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি দেয়ার আবেদন করেন প্রসিকিউটর জেয়াদ আল মালুম।

গত ২ মে প্রসিকিউশনের দেয়া অভিযোগ আমলে নিয়ে তাদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন ট্রাইব্যুনাল।
মুক্তিযুদ্ধে বিজয়ের প্রাক্কালে জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তান বুদ্ধিজীবী হত্যাকান্ডের সুনিদিষ্ট অভিযোগে আনা হয়েছে আশরাফুজ্জামান ও চৌধুরী মাঈনুদ্দীনের বিরুদ্ধে।

প্রসিকিউটর জেয়াদ আল মালুম বলেন, বুদ্ধিজীবী হত্যার মূল নায়ক আশরাফুজ্জামান বর্তমানে নিউ ইয়ার্কের জ্যামিয়েকা শহরে আছেন। আর চৌধুরী মাঈনুদ্দিন লন্ডন রয়েছেন বলে তিনি জানান।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।