শবে বরাত ও আমাদের সমাজ

‘‘আমি উহা অবতীর্ণ করেছি এক বরকতময় রাতে’’। বরকতময় রাত বলতে বুঝানো হয়েছে পবিত্র লাইলাতুল বরাআত। শাবানের ১৪তারিখ দিবাগত রাতে মানবজাতীর জন্য আসে সেই মহান বরকতময় রাত। এ রাতে মহান আল্লাহ পবিত্র কোরআন কে লাউহে মাহফুজে এনে সংরক্ষন করেন। পবে লাইলাতুল কদরে সময় ও প্রেক্ষাপট অনুযায়ী জিব্রাইল আঃ মারফত দুনিয়াতে নবী সঃ এর উপর অবতীর্ন করেন।

আল্লাহ তায়ালা যাহাকে ইচ্ছা,যখন মর্তবা ও মাহাত্ম  দান করেন,ফযিলত বা শ্রেষ্ঠত্ব তারই হাতে। এই চিরন্তন বিধান অনুযায়ী এক ব্যাক্তিকে অন্য ব্যাক্তির উপর,এক নবীকে অন্য নবীর উপর,এক জনপদকে আর এক জনপদের উপর, এক পাথর খন্ডকে অন্য পাথর খন্ডের উপর,এক মাসকে অপর মাসের উপর,এক দিবসকে অন্য দিবসের উপর,এক মুহুর্তকে অন্য মুহুর্তের উপর,এক রজনীকে অন্য রজনীর উপর তিনি শ্রেষ্ঠত্ব দান করেছেন। রমযান মাস সকল মাসের শ্রেষ্ঠ,জুমা’আর দিন অন্যান্য দিনের তুলনায় শ্রেষ্ঠ;অনুরুপ,শবে বরাত,শবে কদরের মর্যাদা অন্যান্য রাত্রির তুলনায় অনেক গুন বেশী।

প্রত্যেকের ইহা কাম্য যে, তার জীবনের মূল্যবান মুহুর্তগুলি ইবাদতে ইলাহীতে ব্যায় হোক এবং সে বেশী বেশী কল্যাণের অধিকার হোক। কিন্তু মানুষের জীবন ক্ষণস্থায়ী,সীমাবদ্ধ তার আয়ু। আবার তার উপর রয়েছে অনেক রকম বাধা-বিঘ্ন, যার কারণে সে তার অভীষ্ঠ লক্ষ্য অর্জন করতে সক্ষম হয় না। ইহা দয়াময়ের অপার দয়া যে-তিনি স্বীয় বান্দাগণের প্রতি দয়াপরশ হয়ে তাদের জীবনকে কল্যাণময় করার ও অফুরন্ত ছওয়াব হাসিল করার জন্য বিশেষ বিশেষ মওকা দান করেছেন। শবে বরাত হচ্ছে আল্লাহ প্রদত্ত অনুরুপ এক বরকতময় সুবর্ণ সুযোগ। এই রাত্রির ফযিলত অগনিত,অসীম কল্যাণে ভরপুর ও বরকতময় এই রজনী। আমার এই প্রবন্ধে বরকতময় এই রজনীর ফাযায়েল ও মাহাত্ম  প্রমাণ সহকারে বর্তমান সমাজে শবে বরাত নিয়ে যে কুসংস্কার রয়েছে কিছু চিত্র পাঠকবর্গের সম্মুখে উপস্থাপিত করতে যত্নবান হয়েছি।

রজব এবং রমযান মাসের মধ্যবর্তী মাসটির নাম শা’বান। শা’বান অর্থ শাখা- প্রশাখা হওয়া। যেহেতু রোযাদারদের সওয়াব বৃক্ষের শাখা প্রশাখার ন্যায় বর্ধিত হতে থাকে,তাই এই মাসের নাম শা’বান।

পবিত্র রমযান এর বার্তাবহ এবং পূর্ববর্তী নিকটতম মাস হিসাবে এই মাসের গুরুত্ব ও ফযিলত অনেক। এই মাস ভালরুপে অতিবাহিত হলে রমযান মাসও ভালরুপে কাটবে বলে আশা করা যায়। আর এই মাস খারাপ ভাবে কাটলে রমযান মাসও অনুরুপ অতিবাহিত হওয়ার সম্ভাবনা অধিক কাজেই এই মাস অর্থাৎ শা’বান মাসের দিকে সতর্ক দৃষ্টি দেয়া এবং এই মাস হতে সৎকাজে,সৎভাবে জীবন-যাপন করার প্রতি অধিক যত্নবান হওয়া উচিত; যেন পুণ্যাবস্থায় পবিত্র দ্বীনের সাথে মহান রমযানকে খোশ আমদেদ জানানো যায়।
বর্ণিত আছে,রজব মাসে চাষাবাদ করে ই’বাদতের বীজ বপন কর,শা’বান মাসে তাতে পানি দাও এবং রমযানে উহার ফসল কাট। মানুষ অভ্যাসের দাস। আগেভাগে নেক আমলের অভ্যাস না করলে হঠাৎ কোন বড় রকমের সাধনা বা পরীক্ষার সম্মুখীন হলে তাতে অকৃতকার্য হওয়ার আশংকাই থাকে বেশী। কাজেই,শাবান মাসের আমলনামায,রোযা,কোরআন শরীফ তেলওয়াতের প্রভৃতির গুরুত্ব অপরিসীম।

রাসুল সাঃ এর মুখনিসৃত বানী থেকে পবিত্র লাইলাতুল বারাতের ফযিলত সম্পর্কে আরো সবিস্তারে জানা যায়-
১.মহানবী (সাঃ) এরশাদ করেছেন,রজব আল্লাহর মাস,শাবান আমার মাস,আর রমযান আল্লাহর সকল বান্দাদের মাস।(মা – সাবাতা বিস সুন্নাহ)
২. হযরত আয়েশা সিদ্দীকা (রা) হতে বর্ণিত আছে যে,রাসুলুল্লাহ সাল্লালাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কখনও কখনও অনেক নফল রোযা রাখতেন এবং আমরা (তাঁহার রোযা রাখার অবস্থা দেখে) বলতাম তিনি আর রোযা ভাঙবেন না। আবার কখনও বহুদিন রোযা রাখতেন না। আমরা বলতাম,(বোধ হয়) তিনি আর রোযা রাখবেন না। আমি রাসুলূল্লাহ (স) কে রমযান ব্যতিত অন্য কোন মাসের রোযা সম্পুর্ণ রাখতে দেখিনি । এবং শা’বান মাসের চেয়ে অধিক রোযা অন্য কোন মাসে রাখতেও আমি দেখিনি ।
৩. রজব এবং রমযানের মধ্যবর্তী মাসের নাম শা’বান মাস। লোকেরা এই মাসের পূর্ণ মর্যাদা রক্ষা করে না। অথচ এই মাসটিতে বান্দার আমল আল্লাহর নিকট পেশ করা হয় এবং আমল সমুহের অধিক ছওয়াব দান করা হয়। আমি ভালবাসি যে, আমার আমল আল্লাহর হুযুরে রোযা রাখা অবস্থায় পেশ করা হোক।(মা সাবাতা বিস সুন্নাহ—- শুয়াবুল ইমান হতে)
৪. অন্যান্য  মাসের তুলনায় শা’বান মাসের রোযা রাসুলুল্লাহ (সা) এর নিকট অধিক প্রিয় ছিল।
৫.রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কয়েক দিন ব্যতিত পূর্ণ শা’বান মাসই রোযা রাখতেন।
৬. হযরত আয়েশা (রা) হতে বর্ণিত রাসুলুল্লাহ (সা) অন্যান্য মাসের তুলনায় অধিক রোযা রাখতেন।

রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম রজব ও শা’বান মাসদ্বয়ের জন্য নিুরুপ দু’আ করতেনঃ
‘‘আল্লাহ্ম্মুা বারিক লানা ফি মা রজাবাওয়া শা’বানা,ওয়া বাল্লিগনা ইলা রামাদান। অর্থাৎ ‘‘হে আল্লাহ রজব ও শা’বান মাসে আমাদের জন্য রবকত নাযিল করুন,আর আমাদেরকে রমযান পর্যন্ত পৌছে দিন। রাসুল (সা) এরশাদ করেছেন,তোমরা রমযানের উদ্দেশ্যে শা’বান চাদের হিসাব রাখ, কেননা,শা’বান চাঁদের হিসাব র্নিভুল হলে রমযানের চাঁদের বিষয়ে মতভেদ হবে না।

সারা বছরের যাবতীয় ফয়সালা  হায়াত ,মওত,রিযিক,দৌলত,আমল ইত্যাদির সাথে সম্পর্কযুক্ত আদেশ নিষেধসমুহ উক্ত রাত্রিতে লওহে মাহফুজ হতে উদ্ধুত করিয়া কার্যর্নিবাহক ফেরেশতাদের নিকট সোপর্দ করা হয়। পরে,শা’বান চাঁদের পনরই রাত হতে এ কাজ আরম্ভ হয় এবং শবে কদরে তার পরিসমাপ্তি ঘটে।

এই রাত্রিতে আল্লাহর বিশেষ অনুগ্রহ মুমিনদের প্রতি বর্ষিত হয়। এই রাত্রিতে আল্লাহর হুযুরে মানুষের আমলসমুহ পেশ করা হয়। এই রাত্রিতে মানুষের এক বৎসরের রিযিক নির্ধারিত হয়। এই রাত্রিতে পরবর্তী এক বৎসরের মৃত্যুবরণকারীদের নাম তালিকা ভুক্ত হয়। এই রাত্রিতে পরবর্তী বৎসরের জন্মগ্রহনকারী বাচ্চাদের নামও তালিকাভুক্ত করা হয়। এই রাত্রিতে বিশেষ ধরনের অপরাধী ছাড়া বাকি সকলকে মাফ করা হয়।এই রাত্রিতে মাঝামাঝি সময়ে নবীজী (সা) মদিনা শরীফের প্রসিদ্ধ গোরস্থান বাকী এ গরকাদ এ গমন করে শহীদগণের ও অন্যান্যের মাজার যিয়ারত করেন। এই রাত্রিতে যমযমের পানি সুমিষ্ট হয়। এই রাত্রিতে আল্লাহ পাক মাখলুকাতের দিকে বিশেষ রহমতের নজরে তাকান।

তাফসির বিশারদগণের এক জামাআতের অভিমত হচ্ছে যে, সুরা দুখানে উল্লিখিত লায়লাতুম মুবারাকা – শবে বরাতকেই বুঝান হয়েছে। এই অভিমত পোষণকারীদের মধ্যে কেহ কেহ শাহ আব্দুল আযীয মুহাদ্দিস-ই-দেহলভীর নামও উল্লেখ করেছেন। আমি নিম্নে আয়াতগুলি উদ্ধৃত করিতেছিঃ
‘‘হা-মীম,ওয়াল কিতাবিল মুবীন’’ – এই সুস্পষ্ট কিতাবের শপথ।
‘‘ইন্না আনযালনাহু ফি লায়লাতিম মুবারাকাতিন,ইন্না কুন্না মুনযিরীন’’ নিশ্চয় আমরা তাহাকে নাযিল করিয়াছি এক বরকতময় রাত্রে,কারণ সতর্ক করিয়া দেওয়া হইতেছে আমাদের নিয়ম।
‘‘ফিহা ইউফরাকু কুল্লু আমরিন হাকীমিন’’ উক্ত রাত্রিতে প্রত্যেক হিকমতপূর্ন কার্য সমাধা করা হয়ে থাকে-
‘‘আমরাম মিন ঈনদিনা’’আমার হুজুর হতে প্রদত্ত নির্দেশক্রমে
“ইন্না কুন্না মুরসিলিন’’ নিশ্চয় আমি আপনাকে পয়গম্বার নিযুক্ত ছিলাম।
‘‘রাহমাতাম মির রব্বিকা ইন্নাহু হুয়াস সামিউল আলীম’’ আপনার পরওয়ারদিগারের রহমত রুপে;নিশ্চয় তিনি  হচ্ছেন সর্ব শ্রোতা,সর্বজ্ঞাতা।
হযরত ইকরামা (রা) এই আয়াতে উল্লিখিত লায়লাতুম মুবারাকার তাফসীরে ১৫ ই শা’বানের রাত্রিকে নির্ধারিত করেছেন। (সুরা দুখান)।
শবে বরাতে আল্লাহ তা’য়ালা বান্দাগণের প্রতি বিশেষ রহমত করেন জিবরাঈল (আ) রাসুলুল্লাহ (সা) এর নিকট বলেছেন,আজ শা’বানের পনের তারিখের রাত্রি শবে বরাত। এই রাত্রিকে আল্লাহ তায়ালা বনী কলব গোত্রের ছাগলপালের পশমের সংখ্যার চাইতে অধিক সংখ্যক লোকের অপরাধ মার্জনা করবেন। কিন্তু (খাটি অন্তরে তওবা না করা পর্যন্ত) নিু বর্ণিত অপরাধীদেরকে মাফ করা হবে না:
(১)মুশরিক (২) মাতা পিতার অবাধ্য সন্তান  (৩) আত্নীয়দের সাথে ন্যায়সঙ্গত কারণ ছাড়া সম্পর্ক ছিন্নকারী  (৪) জালিম শাসক ও তাহাদের সহযোগী,  (৫) না হক হত্যাকারী (৬) পরনারীগামী  (৭) মদ্যপানকারী  (৮) ইর্ষাপরায়ণ  (৯) নিন্দাকারী (১০)  গনক ও রেখা টানিয়া অথবা ফালনামা দেখিয়া ভাগ্য ও ভবিষাৎ শুভাশুভ নির্ধারণকারী (১১) গায়ক ও বাদক (১২) মিথ্যা শপথের সাহায্যে পণ্য বিক্রয়কারী(১৩)  পায়ের গিরার নিচে গর্ব সহকারে কাপড় পরিধানকারী  (১৪) যাদুকর (১৫) (১৬) পরস্পর শত্র“তা ভাব পোষণ কারী (১৭) কৃপণ (১৮) (১৯) অন্যায়ভাবে শুল্ক আদায়াকারী (২০) জুয়াড়ী ও দাবা পাশার খেলোয়াড় (২১) বিদআ’দ প্রচলণ কারী (২২)মিথ্যা সাক্ষ্য দানকারী(২৩) সুদ দাতা ও গ্রহীতা (২৪) ঘুষ দাতা ও গ্রহীতা (২৫) সন্ত্রাস ও ফাসাদ সৃষ্টি কারী। এ ছাড়া আরও অনেক গুনাহগারের উল্লেখ রয়েছে।
রিওয়ায়েতে বর্ণিত গুনাহসমুহের দিকে লক্ষ্য করলে বুঝা যায় যে, কবীরা গুনাহ বিনা তওবায় মাফ হয় না। সগীরা গুনাহ শবে বরাত,শবে কদর প্রভৃতির বরকতে মাফ হয়। খালিস দিলে তওবা করলে কবীরা গুনাহও মাফ হয়ে যায় এবং আল্লাহর করুণা ও কৃপাদৃষ্টি লাভ হবে। এই জন্য খাটি অন্তরে তওবা করা অবশ্য কর্তব্য।
আমাদের সমাজে এই মহান রাত সম্পর্কে অনেক ভ্রান্ত ও নির্বোধ কুসংস্কার যার মধ্যে উল্লেখ্য যোগ্য কিছু কুসংস্কার নিম্নে  আলোচনা করার প্রয়াস পাবো ইনশায়াল্লাহঃ
প্রথম কুসংস্কার হল আতশবাজি। এটা এমন একটি বাজে কাজ যাতে দুনিয়ার ফায়দাও নেই;আখিরাতের ফায়দাও নেই,আছে কেবল অপচয়,অপব্যয়,পাপ। আরও আছে বিধর্মী,অগ্নিপুজক ও হিন্দুদের অনুকরণ। আল্লাহর রাসুল (সা) বলেছেন, যে যার অনুকরণ করে,সে তারই দলভুক্ত;ইয়াজুয মাজুয আল্লাহর দিকে তীর নিক্ষেপ করবে,আমাদের কিশোরেরা আতশবাজির মাধ্যমে সে অনুকরণই করছে। এই বরকতময় রাত্রিতে আল্লাহ এবং তাহার ফেরেশতাগণ দুনিয়াবাসীদের প্রতি রহমত বিতরণ করতে তশরীফ আনেন। বান্দাগণকে দান গ্রহণের জন্য অবিরত আহবান করতে থাকেন। আর আমাদের ছেলে মেয়েরা আল্লাহর তাজাল্লী,নুর ও রহমতের অংশ নেয়া,তাঁর দান গ্রহণ,তাঁর নূরে নূরানী হওয়ার পরিবর্তে আতশবাজির দ্বারা তৎপ্রতি পরিহাস ও বিদ্রুপ প্রদর্শন করছে। এই অবস্থা কি সঙ্গত? ইহা রোধ করার কোন দায়িত্ব কি অভিভাবগণের কাঁধে নেই? একদিকে ইবাদত,অন্য দিকে পরিহাস। দু’টি এক সাথে চলতে দেয়া কি উচিত?
আরেকটি কুসংস্কার হল হালুয়া রুটির। রুটি হালূয়া তৈয়ার করা,খাওয়া এবং দেয়া ভাল কাজ এতে কোন দোষ নেই। কিন্তু শবে বরাত হল ইবাদতের জন্য প্রস্তুতি নেয়ার রাত্রি,একটি মুহুর্ত নষ্ট না করে সারা রাত বন্দেগী করার রাত্রি। এর সাথে হালূয়া রুটির কি সম্বন্ধ? রুটি হালূয়া নিয়ে পরিবারের সদস্যরা যখন ব্যস্ত থাকবেন,তখন ইবাদতের ক্ষতি হবেই,সময় নষ্ট হবে,তৈরী করতেও সময় নষ্ট,খাওয়া দাওয়াতেও সময় নষ্ট। অনেকে ফতোয়া দিয়ে থাকেন নবী সঃ এর দাত ওহুদের মাঠে শহীদ হয়ে তিনি শক্ত খাবার খেতে পারতেন না তাই তিনি হালুয়া রুটি খেতেন তার প্রতি মহব্বত দেখিয়ে এ হালুয়া রুটি খাওয়া হয়। পরিতাপের বিষয় হলো মুসলিম আজো গোলক ধাধায় রয়েছে ওহুদ যুদ্ধ হয়েছিল শা’বান মাসে নয়,আরবী শাওয়াল মাসে  অথচ মহব্বত দেখাচ্ছে দুমাস আগে। হালুয়া,রুটি,মোরগ পোলাও এর ঝামেলা বাদ দিয়ে এই রাত্রিতে প্রয়োজন মাফিক অতি অল্প আহার গ্রহণ করে ইবাদতে এলাহীতে নিজেকে মশগুল রাখাই উত্তম।

আরেকটি কুসংস্কার হচ্ছে কবরস্থানে ফকিরদের মেলা করা ও কবরে বাতি জালানো। কবর যিয়ারত সুন্নাত বটে। কিন্তু মেয়েদের কবরে যাওয়া নিষেধ। এতে ক্ষতি অনেক। অনুসিদ্ধান্ত ছাড়া যে কোন ফকিরকে ভিক্ষা দেয়া ঠিক না। আমরা যেভাবে ভিক্ষা দিয়ে থাকি,এতে ভিক্ষা বৃত্তি বৃদ্ধি পাওয়া ছাড়া কমার কোন সুযোগ নেই। যদি প্রত্যেকে নিজ নিজ এলাকায় পরিচিত এবং প্রকৃত অভাবীকে ভিক্ষা দেয়ার ব্যবস্থা করি এবং সম্ভব হল একজন ফকিরকে হইলেও ভিক্ষার জন্য অন্যত্র যেতে না হয় এমন ব্যবস্থা করি, তা হলে ছওয়াবও অধিক হবে,ভিক্ষাবৃত্তিও কমবে। না জেনে না চিনে ভিক্ষা দিলে অনেক ক্ষেত্রে উহা অযোগ্য পাত্রে চয়ে যায়। তাই প্রচলিত প্রথা বাদ দিয়ে কোরআন হাদীসের আলোকে পবিত্র লাইলাতুল বরাতের প্রকৃত শিক্ষা নিয়ে মহান আল্লাহর কৃপা লাভের চেষ্টা করা প্রত্যেক মুসলিমের কর্তব্য। আল্লাহ আমাদের কবুল করুন। আমীন


সম্পাদনা: শামীম ইবনে মাজহার,নিউজরুম এডিটর

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।