ফেনীতে শিবিরের টার্গেট এস আই ইকবাল

ফেনী মডেল থানার সেকেন্ড অফিসার এস আই ইকবাল বাহার চৌধুরীকে টার্গেট নিয়েছে ইসলামী ছাত্রশিবির। সোমবার বিকালে শহরের ট্রাংক রোডের দোয়েল চত্ত্বর থেকে বের হওয়া বিক্ষোভ মিছিল থেকে এ সংকেত জানিয়ে দেয় সংগঠনটির নেতাকর্মীরা।

সংশ্লিষ্ট ও দলীয় সূত্র জানায়, শহীদ মিনারে তান্ডব, ফালাহিয়া মাদরাসায় র‌্যাব-পুলিশের উপর হামলা, গাড়ী ভাংচুর ও অগ্নিসংযোগ সহ অন্তত ২৮ টি মামলা রয়েছে জামায়াতে ইসলামী ও ছাত্র সংগঠন ইসলামী ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে। এসব মামলায় ছাত্রশিবিরের সাবেক কেন্দ্রীয় সভাপতি ও ঢাকা মহানগর জামায়াত নেতা ডা: ফখরুদ্দীন মানিক, জেলা জামায়াতের আমীর একেএম নাজেম ওসমানী ও সেক্রেটারী একেএম সামছূদ্দীন, প্রচার সম্পাদক আবু বক্কর ছিদ্দিক মানিক, ছাত্রশিবিরের শহর সভাপতি তারেক মাহমুদ, আল-জামেয়াতুল ফালাহিয়া কামিল মাদরাসার অধ্যক্ষ হাফেজ মুফতি মাওলানা ফারুক আহমদ সহ তিন সহস্রাধিক নেতাকর্মী আসামী রয়েছে। এদের মধ্যে ডা: মানিক ও আবু বক্কর ছিদ্দিক মানিক পৃথকভাবে ঢাকায় গ্রেফতার হন।

এছাড়া ছাত্রশিবিরের সাবেক কেন্দ্রীয় সভাপতি ডা: ফখরুদ্দিন মানিককে গ্রেফতারের প্রতিবাদে তার নিজ জেলা ফেনীতে আধাবেলা হরতাল পালন করে সংগঠনটি। হরতাল চলাকালে ২০ টি গাড়ী ভাংচুর ও ২ টিতে আগুন লাগিয়ে আতংক সৃষ্টি করা হলেও এ ঘটনায় থানায় কোন মামলাও হয়নি।

পুলিশ সূত্র জানায়, এস আই ইকবাল ও শহর পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ এস আই কামাল উদ্দিন সহ এক শ্রেনীর পুলিশ কর্মকর্তারা জামায়াত নেতা ও তাদের পরিচালিত ব্যবসা প্রতিষ্ঠান থেকে মাসোহারা নিয়ে মামলা কিংবা গ্রেফতার অভিযান এড়িয়ে যান। তবে ফালাহিয়া মাদরাসায় র‌্যাব-পুলিশ যৌথ অভিযান চালালেও শিবির নেতাকর্মীদের তোপের মুখে পিছু হটতে বাধ্য হন। অবশ্য এ ঘটনায় মাদরাসার অধ্যক্ষ সহ শিবির নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করে পুলিশ। র‌্যাব সাথে না থাকলে এ ঘটনায়ও কোন মামলা হতো না।

ওই দিনের ঘটনায় জাতীয় ও স্থানীয় পত্রিকায় প্রকাশিত ফালাহিয়া মাদরাসায় অভিযানের ছবি ব্যাপক আলোচিত হয়। সমালোচনার মুখে পড়ে পুলিশ কর্মকর্তা ইকবাল ও গোয়েন্দা পুলিশের ওসি মো: রাশেদ খান। দু’জনে মিলে গ্রীল কাটার ওই ছবিটি ফেসবুকেও নিন্দার ঝড় ওঠে। রবিবার শিবিরের ফেনী শহর অর্থ সম্পাদক নাজমুস সাকিবকে নাজির রোড থেকে গ্রেফতার করে এস আই ইকবাল। এসময় তার পকেটে থাকা নগদ ২০ হাজার টাকা ও ১৫ হাজার টাকা মূল্যের মোবাইল ফোন নিয়ে যায়। স্বয়ং ইকবাল তাকে ফেনী মডেল থানায় রেখে রাতভর নির্যাতন চালিয়েছে বলে সংগঠনের নেতাদের অভিযোগ।

এর প্রতিবাদে সোমবার বিকালে শিবিরের শহর সভাপতি তারেক মাহমুদ ও সেক্রেটারী মাঈনুল ইসলাম যোবায়েরের নেতৃত্বে ট্রাংক রোডের দোয়েল চত্ত্বর থেকে মিছিল বের হয়। মিছিলে ‘এস আই ইকবালের চামড়া- তুলে নিবো আমরা’, ‘এস আই ইকবালের গালে গালে- জুতা মারো তালে তালে’ সহ নানা শ্লোগান দেয় ক্ষুদ্ধ শিবির নেতাকর্মীরা। মিছিলটি বড় মসজিদের সামনে গিয়ে শেষ হয়। এসময় রাস্তার দু’পাশে থাকা সাধারণ লোকজন পুলিশ কর্মকর্তা নিয়ে এসব শ্লোগানে জনমনে বিভিন্ন প্রশ্নের সৃষ্টি হয়। মিছিল শেষে এ এস আই রুপক সহ ৩-৪ জন কনস্টেবলকে জহিরিয়া টাওয়ারের সামনে দেখা মাত্রই উপর্যুপুরি ইট-পাটকেল নিক্ষেপ করা হয়। এসময় শিবির নেতাদের মারমুখী আচরনে কিংকর্তব্যবিমুঢ় হয়ে পুলিশের এসব কর্মকর্তারাও দাড়িয়ে থাকতে দেখা যায়।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, এস আই ইকবাল ও এস আই কামালের মতো পুলিশ কর্মকর্তারা মাত্রাতিরিক্ত বেপরোয়া হওয়ায় শিবির কর্মীরা ক্ষুদ্ধ হয়ে এ আচরণ করেছে। তাদের আচরনেই বোঝা যায় পুলিশের এ দুই কর্মকর্তাকে টার্গেট নিয়েছে শিবির।

 

সম্পাদনা: শামীম ইবনে মাজহার,নিউজরুম এডিটর

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।