ড. ইউনূস সারা পৃথিবীজুড়ে অপপ্রচার চালাচ্ছেন: মুহিত

গ্রামীণ ব্যাংক ড. ইউনূস পদত্যাগ করার পরে এখন অনেক ভালো চলছে বলে দাবি করেছেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত। গ্রামীণ ব্যাংককে সরকার ধ্বংস করতে চায় না উল্লেখ করে অর্থমন্ত্রী বলেন, গত তিন বছর ধরে ড. ইউনূস সারা পৃথিবীজুড়ে এই বলে অপপ্রচার চালাচ্ছেন যে, বাংলাদেশ সরকার গ্রামীণ ব্যাংক দখল করতে চায়। কিন্তু এটি মোটেও সঠিক কথা নয় বলে মুহিত দাবি করেন। বুধবার দুপুরে জাতীয় সংসদের বৈঠকে পয়েন্ট অব অর্ডারে বিএনপির সিনিয়র সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ অভিযোগ করেন, সরকার গ্রামীণ ব্যাংক ধ্বংস কররার ষড়যন্ত্র করছে। এর জবাব দিতে গিয়ে অর্থমন্ত্রী গ্রামীণ ব্যাংকের প্রতিষ্ঠাসহ এর পরবর্তী ইতিহাস তুলে ধরে দীর্ঘ বক্তৃতা দেন। মুহিত বলেন, পদত্যাগ করার পর থেকেই ড. ইউনূস গ্রামীণ ব্যাংকের বিরুদ্ধে লেগেছেন। কর্মীদের উসকানি দিয়ে রাস্তায় নামিয়েছেন। অর্থমন্ত্রী বলেন, গ্রামীণ ব্যাংকের কাঠামো পরিবর্তন করার কোনো ইচ্ছা সরকারের ছিল না।

গ্রামীণ ব্যাংকের সঙ্গে গ্রামীণফোনের কোনো সম্পর্ক নেই বলে ড. ইউনূস যে দাবি করেছেন, তা মিথ্যা বলে জানান অর্থমন্ত্রী। তিনি বলেন, গ্রামীণ ব্যাংকের টাকায় যেসব কোম্পানি স্থাপন করা হয়েছে, তার মুনাফা যদি সঠিকভাবে গ্রামীণ ব্যাংকের ৮৪ লাখ শেয়ার হোল্ডারের মধ্যে বণ্টন করা হত, তাহলে তারা সবাই ধনী হয়ে যেত।

মুহিত বলেন, ২০০২ সালের পর থেকে ড. ইউনূসের সঙ্গে আমার নানা সময়ে দেখা সাক্ষাৎ হলেও তিনি কখনো গ্রামীণ ব্যাংক নিয়ে কথা বলতে রাজি হননি। উল্টো তিনি নানারকম বিবৃতি দিতেন।

গ্রামীণ ব্যাংকের আইন লঙ্ঘন করে ড. ইউনূস এই প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের পদ আকড়ে থেকেছিলেন বলেও মুহিত অভিযোগ করেন। তিনি বলেন, আমরা বারবারই চেয়েছি ড. ইউনূস সম্মানজনকভাবে পদত্যাগ করুক এবং তারপরে আমরা তাকে এই প্রতিষ্ঠানের ইমিরেটাস সদস্য হিসেবে রাখতে চেয়েছিলাম। কিন্তু তিনি তাতে রাজি হননি। এমনকি আমি তাকে (ইউনূস) এও বলেছিলাম যে, সরকারের সঙ্গে সাংঘর্ষিক অবস্থা থাকলে অসুবিধা হবে। কিন্তু ইউনূস গেলেন আদালতে। অবশেষে পদত্যাগও করলেন।


সম্পাদনা: শামীম ইবনে মাজহার,নিউজরুম এডিটর

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।