রবিবার, অক্টোবর 24, 2021
রবিবার, অক্টোবর 24, 2021
রবিবার, অক্টোবর 24, 2021
spot_img
HomeUncategorizedপারবেন কি মুরসি...

পারবেন কি মুরসি…

কায়রো: মিশরের প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ মুরসির বিরুদ্ধে গণঅসন্তোষ এমন রূপ নিয়েছে যে, এখন প্রাসাদে তার টিকে থাকা নিয়ে সংশয় দেখা দিয়েছে। টিকে গেলে ভালো। না গেলে হয়তো আগামী ৩০ জুন রবিবার-ই মুরসির শেষ দিন।

সেদিনই তার সরকারের পতন ঘটতে যাচ্ছে? কারণ মিশরজুড়ে মুরসিবিরোধী ব্যাপক গণঅসন্তোষের ফলে যে আন্দোলন দানা বেঁধেছে, তারা ৩০ জুন প্রেসিডেন্ট প্রাসাদ অভিমুখে সর্বাত্মক বিক্ষোভ যাত্রার ডাক দিয়েছেন।

কায়রোভিত্তিক একটি গবেষণা প্রতিষ্ঠান ইন্টারন্যাশনাল ডেভেলপমেন্ট সেন্টারের (আইডিসি) মতে, মিশরের প্রাচীন শাসক ফেরাউনের পর থেকে এতো বড় গণঅসন্তোষ আর কখনো দেখা যায়নি। প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ মুরসির ক্ষমতার প্রথম বছরেই তার বিরুদ্ধে ৯ হাজার ৪২৭টি বিক্ষোভ হয়েছে।

আইডিসির গণতন্ত্রের সূচক প্রতিবেদনে দেখা গেছে, হোসনি মোবারকের বিরুদ্ধে বিক্ষোভের তুলনায় মুরসির বিরুদ্ধে বিক্ষোভের সংখ্যা ৭ গুণ বেড়েছে। ২০১১ সালে হোসনি মোবারকের বিরুদ্ধে এক মাসে সর্বোচ্চ বিক্ষোভ হয়েছে ১৭৬টি। অন্যদিকে ২০১৩ সালে মুরসির বিরুদ্ধে এক মাসে সর্বোচ্চ বিক্ষোভের ঘটনা ঘটেছে ১ হাজার ১৪০টি।

এই প্রতিবেদনে ২০১২ সালের ১ জুলাই মুরসির ক্ষমতায় বসার সময় থেকে শুরু করে ২০ জুন ২০১৩ পর্যন্ত সময়কালের হিসাব তুলে ধরা হয়েছে।

মুরসির বিরুদ্ধে বিক্ষোভকারীরা যে গণস্বাক্ষর সংগ্রহ অভিযানে নেমেছে, তাতে মুরসির পতন চেয়ে এ পর্যন্ত দেড় কোটি লোক স্বাক্ষর করেছেন। এই গণসাক্ষর অভিযান ৩০ জুনের বিক্ষোভ যাত্রাকে আরো বেগবান করেছে বলেও দাবি করা হয় আইডিসির প্রতিবেদনে।

আইডিসির গণতান্ত্রিক সূচক মতে মুরসিবিরোধী বিক্ষোভের ৪৯ শতাংশই করেছে মিশরের শ্রমিক শ্রেণীর মানুষ। এতে সমাজের প্রায় ৬০টি আর্থ-সামাজিক ও রাজনৈতিক গোষ্ঠী অংশগ্রহণ করেছে। এ কারণে আন্তর্জাতিক শ্রমসংস্থা মিশরকে শ্রম আইন লঙ্ঘনকারী দেশগুলোর কালো তালিকায়ও অন্তর্ভুক্ত করেছে।

আইডিসির মতে, মুরসিবিরোধী বিক্ষোভে সমাজের প্রায় সব শ্রেণী-পেশার লোকই অংশগ্রহণ করেছেন। আর এ থেকে প্রমাণিত হয় যে, ইতোমধ্যেই তিনি কতটা অজনপ্রিয় হয়ে পড়েছেন।

প্রতিবেদনে বলা হয়, মিশরের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং বিচার বিভাগসহ রাষ্ট্রীয় বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের চরিত্রের মধ্যেই ক্ষমতাসীনদের প্রতি জনগণের বিক্ষুব্ধ হওয়ার কারণ লুকিয়ে আছে। কারণ যেকোনো রাজনৈতিক দলই ক্ষমতায় আসুক না কেন দেশটির রাষ্ট্রীয় কাঠামোটাই এমন যে তারা স্বৈরাচারী হয়ে ওঠে এবং একচেটিয়া আধিপত্য বিস্তার করতে চায়।

গত এক বছরকাল ধরে মিশরে যে বিক্ষোভ চলছে তার ৬৭ শতাংশই ঘটেছে আর্থ-সামাজিক দুর্দশার কারণে। আর ৪৯ শতাংশ বিক্ষোভ সংঘটিত হয় শ্রমিকদের অসন্তোষ থেকে।

আর এ সূচক মতে, উন্নত আবাসন এবং গণসেবা খাতের দাবি, জ্বালানি তেল, রুটি এবং বিদ্যুৎ ঘাটতি প্রভৃতি বিষয় বিক্ষোভ উস্কে দেয়ার পেছনে বড় আকারে কাজ করে।

এছাড়া ক্ষমতাসীন সরকার কর্তৃক রাষ্ট্রীয় আমলাতন্ত্রের ওপর একচেটিয়া নিয়ন্ত্রণ, রাজনৈতিক বিরোধী মতাদর্শীদের কোণঠাসা করার চেষ্টা এবং গণস্বাধীনতার সংকোচন প্রভৃতি ৩১ শতাংশ বিক্ষোভের কারণ হিসেবে কাজ করেছে।

আইডিসির প্রতিবেদনে ৩০ জুন ব্যাপক সংঘাত ছড়িয়ে পড়ারও আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে। কারণ সেদিন মুরসির দল ব্রাদারহুড এবং তাদের অন্যান্য ইসলামপন্থী সমর্থকরা পাল্টা বিক্ষোভ সমাবেশের ডাক দিয়েছে।

মুরসির বিরুদ্ধে ৩০ জুনের বিক্ষোভ সমাবেশের আয়োজন করেছে মিশরের জাতীয় মুক্তি ফ্রন্ট নামে মুসলিম ব্রাদারহুডবিরোধী একটি রাজনৈতিক জোট। এ জোটের সঙ্গে ব্রাদারহুডবিরোধী কিছু ইসলামী সংগঠনও রয়েছে। মিশরের গণমাধ্যমগুলোও মুসলিম ব্রাদারহুড এবং মুরসির বিরুদ্ধে ব্যাপক প্রচারণা চালাচ্ছে। আর এদের বেশিরভাগই ধর্মনিরপেক্ষ।

ওদিকে, মুরসির সমর্থকরা এখনো তার প্রতি পূর্ণ আস্থাশীল আছেন বলেই মনে হচ্ছে। মুসলিম ব্রাদারহুড এবং এর রাজনৈতিক দল ফ্রিডম অ্যান্ড জাস্টিস পার্টির (এফজেপি) এক নারী কর্মী দিনা যাকারিয়া মিশরের আল আহরাম অনলাইন পত্রিকাকে দেয়া সাক্ষাৎকারে মুরসির সাফল্যের আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

এই নারী রাজনীতিক ব্রাদারহুডের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিষয়ক কমিটির সহ-প্রতিষ্ঠাতা। মুরসির প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে একজন প্রধান প্রচারণা কর্মীও ছিলেন তিনি।

দিনা যাকারিয়া বলেন, তিনি ১৯৯৩ থেকে ১৯৯৭ এই চার বছর ধরে ব্রাদারহুডকে পর্যবেক্ষণের পরই দলটিতে যোগ দেন।

তিনি বলেন, মুরসিই মিশরের বর্তমান অস্থিতিশীলতা, প্রাতিষ্ঠানিক আমলাতন্ত্র এবং দুর্নীতির বিরুদ্ধে লড়ার ক্ষেত্রে সবচেয়ে সক্ষম ব্যক্তি। যাকারিয়া মুরসিকে একজন শক্তিশালী এবং প্রজ্ঞাবান ব্যক্তিত্ব হিসেবেও বর্ণনা করেন।

মিশরে সামরিক শাসনের অবসান ঘটিয়ে একটি গণনির্বাচিত সরকার স্থাপন, একটি নতুন গণতান্ত্রিক সংবিধান প্রণয়ন এবং প্রেসিডেন্ট নির্বাচনকে একটি প্রাতিষ্ঠানিক রূপদান প্রভৃতি বিষয়ে মুরসির সাফল্য অতুলনীয় বলে মন্তব্য করেন দিনা যাকারিয়া।

তবে মুরসির বিরুদ্ধে মানবাধিকার সংগঠনগুলোর অভিযোগকে তিনি উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে মন্তব্য করেন।

দিনা যাকারিয়া মুরসির নাহদা বা পুনর্জাগরণ নামক সংস্কার কর্মসূচির ব্যাপারেও ব্যাপক আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

তিনি বলেন, এ সংস্কার কর্মসূচির অংশ সুয়েজ প্রকল্পসহ আরো কিছু ক্ষুদ্র পরিসরের কাজ যেমন কিছু কল কারখানা খোলার কাজ ইতোমধ্যেই শুরু হয়েছে।

আর সামনের এই বাধা বিপত্তিগুলো মোকাবেলা করে যাকারিয়া তার সংস্কার কর্মসূচি বাস্তবায়ন করতে পারবেন বলেও দৃঢ় আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

তার মতে, শুধু ক্ষমতার বর্তমান মেয়াদই নয় বরং এটি শেষ করার পর আরেক মেয়াদের জন্যও প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হবেন মোহাম্মদ মুরসি।

 

 

সুত্র: আরটিএনএন

RELATED ARTICLES
- Advertisment -spot_img

Most Popular

Recent Comments