পালাক্রমে ধর্ষণ শেষে শরীরে কেরোসিন ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেয় ৩ পাষন্ড

ফুলগাজীর মাদরাসা ছাত্রী আকলিমা আক্তার মৃত্যুর আগে বাবা, মা ও পরিবারের সদস্যদের কাছে জানিয়েছে, সুমন, শান্ত ও কামাল নামের ৩ পাষন্ড বখাটে পালাক্রমে ধর্ষণ শেষে গাছের সাথে বেধে কেরোসিন ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেয়।

আকলিমার দেয়া জবানবন্দীর বর্ণনা করেন তার পরিবারের সদস্যরা। ঢাকা মেডিকেল কলেজের বার্ন ইউনিটে চিকিৎসাধীন থাকায় মৃত্যুর আগে আকলিমা মা-বাবা, চাচাদের জানায়, ১৬ জুন রাত ৩ টার দিকে প্রাকৃতিক ডাকে ঘর থেকে বের হলে পূর্ব পরিকল্পিতভাবে সুমন, শান্ত ও কামাল তার উপর ঝাঁপটে পড়ে। মুখে কাপড় চেপে ধরে তাকে পালাক্রমে ধর্ষন করে। এসময় আকলিমা পরিবারের কাছে বিষয়টি জানিয়ে দিবে বললে, তারা তাকে ওড়না দিয়ে গাছের সাথে শরীরে কেরোসিন ঢেলে দেয়। আকলিমা বাঁচতে পাশ্ববর্তী পুকুরে ঝাপ দেয়। তার চিৎকারে পরিবারের লোকজন ঘর থেকে বের হতে চাইলে সামনের দরজা বাহিরে থেকে বন্ধ হওয়ায় পিছনের দরজা দিয়ে বের হয়। পরদিন সকাল ৭ টায় পরশুরাম উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত ড্ক্তার ফেনী আধুনিক সদর হাসপাতালে প্রেরণ করে।

আকলিমা আরও জানান, ১৩ জুন মাদরাসায় যাওয়ার পথে ফুলগাজী বাজারে প্রীতি সু পাশের গলিতে সুমন, শান্ত, কামাল তাকে অপহরনের জন্য আটকে রাখে। বাজারের লোকজন গলি দিয়ে যাতায়াত বেশি থাকায় চাপ প্রয়োগ করেও সিএনজি ট্যাক্সিতে উঠাতে পারেনি। বিষয়টি কাউকে না জানাতে আকলিমার ছোট বোন ও মাকে প্রাণে মেরে ফেলার হুমকি দেয়।
সে আরও জানায়, দারুল উলুম মাদরাসার সামনে সুমনের ভাই সোহাগের চা দোকানের সামনে থেকে বিভিন্ন সময় তাকে আকলিমাকে উত্ত্যক্ত করত। আকলিমার অভিভাবক সুমনের পরিবারকে বারবার নালিশ করলে সুমন আরও বেপরোয়া হয়ে উঠে।

আকলিমাকে বিয়ের প্রস্তাব দিলে তার পরিবার তা প্রত্যাখান করে। সুমন ক্ষিপ্ত হয়ে ১৬ রাতে তার বন্ধুদের নিয়ে আকলিমাকে পালাক্রমে ধর্ষণ শেষে গায়ে কেরোসিন ঢেলে দেয়। ৫ দিন পর ঢাকা মেডিকেল কলেজ বার্ন ইউনিটে তার করুণ মৃত্যু হয়। ২২ জুন সকালে আকলিমার ভাই আসাদুর রহমান বাদী হয়ে ফুলগাজী থানায় মামলা দায়ের করেন। মামলার আসামীরা প্রভাবশালী হওয়ায় মামলার স্বাক্ষীদের পুড়ে মারার হুমকি দিচ্ছে স্থানীয় প্রভাবশালী মহল। মামলা তুলে নিতে নানাভাবে চাপ প্রয়োগ করছে। মামলার প্রধান আসামী সুমন কিসমত ঘনিয়া মোড়া গ্রামের লোকমান মিয়ার ছেলে। কামাল দৌলতপুর গ্রামের হেলু মিয়ার ছেলে, শান্ত একই গ্রামের বজেন্দ্র সাহার ছেলে।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।