সাংবাদিক গৌতম দাস হত্যা মামলায় ৯ জনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড

ফরিদপুরের নির্ভীক সাংবাদিক গৌতম দাস হত্যা মামলায় ৯ জনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেয়া হয়েছে। বৃহস্পতিবার ঢাকার দ্রুতবিচার ট্রাইব্যুনাল-১ এর বিচারক শাহেদ নূরুদ্দীন এ রায় ঘোষণা করেন। গত এক যুগে দেশের কোনো সাংবাদিক হত্যা মামলায় এটিই প্রথম রায়।   বর্তমানে এই মামলায় ৯ আসামির ৮ জন কারাগারে রয়েছেন। গত ১৯ এপ্রিল মামলার রায়ের তারিখ ঘোষণার পর তাদের জামিন বাতিল করে তাদের জেলহাজতে পাঠানোর আদেশ দেন আদালত।

মামলার ১০ আসামি হচ্ছেন- আসিফ ইমতিয়াজ বুলু, কাজী মুরাদ, জাহিদ খান, কামরুল ইসলাম আপন, আসাদ বিন কাদির, সিদ্দিকুর রহমান মিয়া, তামজিদ হোসেন বাবু, রাজিব হাসান মিয়া, আসিফ ইসলাম এবং আবু তাহের মর্তুজা ওরফে এ্যাপলো। এদের মধ্যে জাহিদ খান মারা গেছেন।

ফরিদপুর শহরের মুজিব সড়কের সংস্কার ও পুননির্র্মাণ কাজের অনিয়ম ও দুর্নীতির সংবাদ পরিবেশন করায় ২০০৫ সালের ১৭ নভেম্বর ভোরে চিহ্নিত সন্ত্রাসীরা সমকালের ফরিদপুর ব্যুরো অফিসে ঢুকে সাংবাদিক গৌতমকে নির্যাতন ও শ্বাসরোধ করে হত্যা করে। ওইদিনই সমকাল পত্রিকার পক্ষে বাদী হয়ে ফরিদপুর কোতয়ালী থানায় একটি হত্যা মামলা করেন সমকালের স্থানীয় প্রতিনিধি হাসানউজ্জামান।

দুই মাস পর ২০০৫ সালের ১৯ জানুয়ারি ফরিদপুরের আদালতে ১০ জনকে আসামি করে চার্জশিট দাখিল করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা গোলাম নবী।

পরবর্তীতে হত্যা মামলাটি চাঞ্চল্যকর বিবেচনা করে ২০০৬ সালের ২৮ আগস্ট ফরিদপুরের আদালত থেকে ঢাকার দ্রুত বিচার ট্রাইবুনালে স্থানান্তর করা হয়।

কিন্তু ২০০৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর আসামিপক্ষের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে হাইকোর্ট চাঞ্চল্যকর এই হত্যা মামলাটির কার্যক্রমের ওপর স্থগিতাদেশ দেন। এরপর গত ৬ বছরে বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন মেয়াদে মামলাটির কার্যক্রমের ওপর দফায় দফায় স্থগিতাদেশ জারি করেন হাইকোর্ট। ফলে সাত বছরের মধ্যে পুরো চার বছরই বন্ধ ছিল বিচারিক কার্যক্রম।


সম্পাদনা: শামীম ইবনে মাজহার,নিউজরুম এডিটর

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।