হাসপাতালে ভর্তি ইউপি সদস্যকে পিটিয়ে জখম করেছে যুবদল নেতারা

লক্ষ্মীপুর সদর হাসপাতালে ভর্তিরত আহত ইউপি সদস্য ও বিএনপি নেতা আব্দুল গনিকে (৫১) পিটিয়ে মারাত্ক আহত করে রায়পুর উপজেলার কেরোয়া ইউনিয়নের ৪ যুবদল নেতা। এঘটনায় প্রশাসনের তোলপাড় চলছে।
এঘটনাটি ঘটেছে বৃস্পতিবার (২৭ জুন) বিকাল সাড়ে ৫ টায় হাসপাতালের ভিতরে।
অভিযুক্ত যুবদল নেতারা হলেন কেরোয়া ইউনিয়নের ৮ নং ওয়ার্ড যুবদরের সভাপতি মো. জামাল, সদস্য মো. সজুব, মো. সোহেল ও মো. ফারুক হোসেন। তারা সবাই ওই এলাকার স্থানীয় বাসিন্দা।
আহত ইউপি সদস্য ও ওই ইউনিয়ন বিএনপি সহ-সভাপতি আব্দুল গনি সাংবাদিকদের জানান, সোমবার (২৪ জুন) রাত ১০টায় ১৮ দলিয় জোটের বিক্ষোভ মিছিল শেষে নেতা কর্মীদের নিয়ে সুনামগঞ্জ বাজারে এক চায়ের দোকানে বসি। এসময় ওয়ার্ড যুবদলের সভাপতি সন্ত্রাসী জামাল তার অনুসারী কয়েকজনকে নিয়ে তুচ্ছ ঘটনা নিয়ে হামলা চালায়। এতে সংঘর্ষে লিপ্ত হয়ে আমিসহ উভয় পক্ষের অন্তত ২৫ নেতাকর্মী আহত হয়। এসময় ঢাকা জজকোটের্র অ্যাডভোকেট জসিমউদ্দিনের বাড়ি ও স্থানীয় বাবুল পণ্ডিতের মুদি দোকানে হামলা চালিয়ে ভাংচুর করা হয়। খবর পেয়ে পরে রায়পুর থানা পুলিশ এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। পরে আমাকেসহ আহত অন্যদেরকে রায়পুর সরকারী হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
তিনি আরও বলেন, অবস্থার অবনতি দেখে ডাক্তার আমাকে জেলা সদর হাসপাতালে প্রেরন করেন। বৃস্পতিবার বিকালে আমাকে সন্ত্রাসী জামালসহ চারজন উপর্যপুরি কিল, ঘুষি ও লাথি মেরে মারাক্তক আহত করে। এঘটনায় আমি তাৎক্ষনিক পুলিশ সুপার ও সিভিল সার্জনসহ ডাক্তার ও নার্সদের জানাই। পুলিশ আসার আগেই তারা পালিয়ে যায়।
এব্যাপারে অভিযুক্ত যুবদল নেতা জামালসহ তার সহযোগিদের বক্তব্য নেওয়ার চেষ্টা করা হলেও পলাতক থাকায় বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি। তাদের স্বজনরাও এঘটনায় কথা বলতে রাজি হয়নি।
লক্ষ্মীপুর সদর থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মো. জসিম বলেন, পুলিশ সুপার স্যারের কাছ থেকে সংবাদ শুনে হাসপাতালে ছুটে যাই। এঘটনায় আহত ইউপি সদস্যকে শান্তনা দিয়ে মামলা করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
যোগাযোগ করা হলে জেলা সিভিল সার্জন ডাঃ মো. আব্দুল¬াহ ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, হাসপাতালে ভর্তিরত রোগির উপর হামলা করা জঘন্ন অপরাধ করেছেন। এঘটনায় পুলিশসহ প্রশাসনকে অবহিত করা হয়েছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে আমরা মামলার প্রস্তুতি নিচ্ছি।
প্রসঙ্গত, গত একমাস ধরে কেরোয়া ইউনিয়ন বিএনপির কমিটি নিয়ে সাধারণ সম্পদক পদে প্রার্থী ইউপি সদস্য নজরুল ইসলাম সরকার ও জহিরুল আলম বাচ্চুর পক্ষের নেতা কর্মীদের মধ্যে দফায় দফায় হামলা ও সংঘর্ষ চলে আসছে। এঘটনায় লক্ষ্মীপুর জেলা বিএনপির সভাপতি সংসদ সদস্য আবুল খায়ের ভূইয়াসহ নেতাদের ভুমিকা প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে দাড়িয়েছে। যে কোন সময় হতা হতের ঘটনা আশংকা করছে এলাকাবাসী।


সম্পাদনা: শামীম ইবনে মাজহার,নিউজরুম এডিটর

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।