৩য় শ্রেণীর ছাত্রীর বুকে খোদাই করে যুবকের নাম! তোলপাড়

এক শিশু মেয়ের বুকে এসিড দিয়ে খোদাই করে যুবকের নাম লেখার ঘটনা ‘টক অব দ্যা চকরিয়ায় পরিণত হয়েছে। গত দু’কয়েক দিন ধরে জাতীয় দৈনিকসহ বিভিন্ন পত্র-পত্রিকায় অসংখ্য লেখালেখি ও প্রশাসনে তোলপাড় শুরু হওয়ার ফলে প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক চাপের মুখে অবশেষে চকরিয়া থানায় মামলা হয়েছে।

ঘটনাটি ঘটেছে উপজেলার ডুলাহাজারা ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের রংমহল হাতিপাড়া গ্রামে। কিন্তু ঘটনার আসল রহস্য কি? মন্তব্য সচেতন মহলের।

স্থানীয় এলাকাবাসী জানায়, ওই গ্রামে মৃত রশিদ আহমদের ছেলে মো: ঈসমাইলের কোন ভিটে বাড়ি না থাকায় প্রায় ৭বছর ধরে স্থানীয় একই এলাকার মোহাম্মদ কালুর বাড়ির একটি অংশে অস্থায়ীভাবে থাকার সুযোগ দেয়। একইভাবে কালুর মালিকানাধীন একটি ট্রাক গাড়ীতেও লেবার হিসেবে কাজ করতেন।

ইসমাইলের মাদকাসক্ততা ও তার স্ত্রীর অবৈধ মেলামেশার ফলে গত ৬মাস পূর্বে বাড়ি মালিক মোঃ কালু ইসমাঈলকে বাড়ি ছেড়ে চলে যাওয়ার জন্য বললে কতিপয় স্থানীয় প্রভাবশালীদের ইন্ধনে শুরু করেন নানা ষড়যন্ত্র। কাল হয়ে দাঁড়ায় আশ্রয়দাতা ও তার ছেলে সাইফুলের।

এরই সুযোগে গত ৬জুন বাড়ি মালিকের ছেলে অক্ষর জ্ঞান সম্পন্ন (নিরক্ষর) সাইফুল ইসলাম (২২) কে ও তার পরিবারের লোকজনকে ফাঁসাতে অবুজ শিশু মেয়েকে হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করেন। ৯ বছরের শিশু মেয়ে মাদরাসা পড়ুয়া ৩য় শ্রেণীর ছাত্রী মিফতাহ জন্নাত নুরীকে বাড়ির পাশ্ববর্তী জঙ্গল নিয়ে গিয়ে এসিড দিয়ে বুকে ইংরেজী অক্ষরে সাইফুল লিখে দেয়ার অভিযোগ তুলেন ইসমাঈল। কিন্তু সাইফুল, তার পরিবার ও স্থানীয় কেউ জানেননা ঘটনার বিষয়ে। সাইফুল ও তার পিতা মোঃ কালু অভিযোগ করেন, তাদের বাড়ি থেকে চলে যাওয়ার জন্য বলার কারণেই ওই শিশুর পিতা টামের ক্ষীর দিয়ে বুকে নামটি লিখে হয়রাণীর চেষ্টা করছে। এসিড দিয়ে বুকে নাম লিখলে সংশ্লিষ্ট স্থানের পুরো শরীর ঝলসে যেতো। স্বাভাবিকভাবে টামের ক্ষীর ও দানা দিয়ে লিখলে এসিডের মতো অবস্থা দেখা যায় বলে অভিজ্ঞ জনের বরাতে তারা দাবি করেন। বিষয়টি সম্পূর্ণ মিথ্যার আশ্রয় নিয়ে তাদেরকে ফাঁসানোর জন্য করেছে এবং সম্পূর্ণ অবাস্তব বলেও মনে করেন। তাই তারা প্রশাসনের উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সরে জমিনে সুষ্ঠু তদন্ত দাবি করেন। নির্যাতিত শিশুও মোবাইল রেকর্ডিংয়ের মাধ্যমে নিজেই স্বীকার করেছেন অভিযুক্ত সাইফুল এসিড দিয়ে তার বুকে নাম লিখেননি।

এদিকে শিশু মেয়ের পিতা ইসমাঈল বাদী হয়ে ১৬জুন কক্সবাজার নারী ও শিশু নির্যাতন ট্রাইব্যুনালে একটি নালিশী মামলা দায়ের করেছেন। অভিযোগটি আমলে নিয়ে বিজ্ঞ আদালত চকরিয়া থানার ওসিকে তদন্তপূর্বক আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। ঘটনা প্রসঙ্গে চকরিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) রণজিত কুমার বড়–য়া বলেন, থানার উপ-পরিদর্শক সুরেজীত বড়–য়া সরেজমিনে ঘটনাস্থলে গিয়ে তদন্ত করেছেন। প্রাথমিকভাবে তদন্তে ঘটনাটি সাজানো বা এসিড নয় বলেও জানা গেছে। তিনি জানান, এসিড দিয়ে বুকে নাম লিখলে সংশ্লিষ্ট অংশের আশপাশেও ঝলসে যেতো, কিন্তু তা হয়নি। টামের ক্ষীর হয়ে থাকলে দ্রুত ভাল হয়ে উঠবে। কক্সবাজার জেলার সদর হাসপাতালের চিকিৎসকদের রিপোর্টে এসিড হিসেবে প্রমাণিত হয়নি। তবে ওই ঘটনার পরিবারের পক্ষ থেকে মামলা নিয়েছেন বলে জানান। এদিকে শিশু মেয়ের বুকে অ্যাসিড দিয়ে নাম লিখার খবরটি ‘টক অব দ্যা চকরিয়া’য় পরিণত হয়েছে। সব স্থানে একটিই আলোচনা এসিড না টামের ক্ষীর। কেন এতো আলোচিত হল ঘটনাটি?। তবে ঘটনাটি তীলকে তাল বানানো হচ্ছে এবং নিজের নাক কেটে পরের যাত্রা ভঙ্গ করার সামিল বলে সচেতন মহলের  মন্ত্যব্য।


সম্পাদনা: শামীম ইবনে মাজহার,নিউজরুম এডিটর

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।