চার সিটি: মেয়রের দায়িত্ব পাচ্ছেন প্যানেল মেয়ররা

সিলেট, বরিশাল, খুলনা ও রাজমাহী সিটি করপোরেশনে মেয়রের দায়িত্ব পালন করবেন আগের এক নম্বর প্যানেল মেয়ররা। শুক্রবার সকালে স্থানীয় সরকার বিভাগ থেকে এ বিষয়ে একটি চিঠি সংশ্লিষ্ট বিভাগগুলোতে দেয়া হয়েছে। আজ সরকারি ছুটির দিনেও স্থানীয় সরকারের সিটি করপোরেশন বিভাগ খোলা রাখা হয়। সূত্র জানায়, এদের মধ্যে যারা ‘এক’ নম্বর প্যানের মেয়র ছিলেন তাদের কেউ কেউ বিজয়ী হয়েছেন, আবার পরাজিতও হয়েছেন। বিজয়ী বা পরাজিত যাই হোন তাতে কিছু এসে যাবে না। যিনি আগে এক নম্বর প্যানেল মেয়র ছিলেন তিনিই এখন মেয়রের দায়িত্ব পালন করবেন।

এই চিঠিতে এটা স্পষ্ট হলো আগামী তিন মাসের আগে দায়িত্ব পাচ্ছেন না চার সিটি করপোরেশনের নবনির্বাচিত মেয়ররা।

শুরুতে ফলাফলের গেজেট প্রকাশ নিয়েও জটিলতা দেখা দেয়। বলা হচ্ছিল আইনি জটিলতার কারণে আগামী দুই মাসের মধ্যে নির্বাচিত মেয়র ও কাউন্সিলদের বিজয়ী ঘোষণার গেজেটও প্রকাশ করতে পারবে না নির্বাচন কমিশন (ইসি)। তবে ২৪ জুন নির্বাচন কমিশন গেজেট প্রকাশ করে। আইনত  গেজেট প্রকাশের একমাসের মধ্যে নিয়ম থাকলেও এখন দুই মাসের আগে শপথ গ্রহণের সুযোগ পাচ্ছেন না নবনির্বাচিত মেয়র ও কাউন্সিলররা।

মেয়ররা পদত্যাগ করে নির্বাচন করলেও কাউন্সিলররা স্বপদে বহাল রয়েছেন। মেয়াদ শেষ না হওয়া পর্যন্ত কাউন্সিলররা মেয়রবিহীন অবস্থায় দায়িত্ব পালন করবেন। আইন-বিশেষজ্ঞরা এই পরিস্থিতিকে আইনের গুরুতর ত্রুটি বলে অভিহিত করেছন। আমলাদের তৈরি করা আইন সংসদে উপস্থাপনের পর তা ভালো করে পরীক্ষা-নিরীক্ষা না করার কারণে এই অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে বলে তারা মনে করেন।

পাঁচ বছরের জন্য নির্বাচিত হলেও মেয়দ শেষের প্রায় চার মাস আগেই রাজশাহী, খুলনা, বরিশাল ও সিলেট—এই চার সিটির মেয়ররা পদত্যাগ করে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। স্থানীয় সরকার (সিটি করপোরেশন) আইনের ৬ ধারায় স্পষ্টভাবে উল্লেখ আছে, ‘করপোরেশনের মেয়াদ উহা গঠিত হইবার পর উহার প্রথম সভা অনুষ্ঠিত হইবার তারিখ হইতে পাঁচ বত্সর হইবে।’

সর্বশেষ ২০০৮ সালের ৪ আগস্ট রাজশাহী, খুলনা, বরিশাল ও সিলেট সিটি করপোরেশনের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। নির্বাচনের পর ভিন্ন ভিন্ন তারিখে চার সিটির প্রথম সভা অনুষ্ঠিত হয়। আইনে এক দিকে করপোরেশনের মেয়াদ পাঁচ বছর বেঁধে দেয়া হলেও অন্য দিকে নির্বাচন অনুষ্ঠান নিয়ে নির্দেশনা রয়েছে মেয়াদ শেষের ৬ মাসের মধ্যে। সে অনুযায়ী এ বছরের ৭ অক্টোবরের মধ্যে বরিশাল, ১৭ সেপ্টেম্বরের মধ্যে রাজশাহী ও সিলেট, ২৭ সেপ্টেম্বরের মধ্যে খুলনার সিটি করপোরেশনের নির্বাচন করতে হতো কিন্তু আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রস্তুতির কারণে নির্বাচন কমিশন মেয়াদ শেষের প্রায় পাঁচ মাস আগেই ওই চার সিটি নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করে।

এ দিকে, মনোনয়নপত্র দাখিলের আগে চার মেয়রকে পদত্যাগ করে নির্বাচনে অংশ নিতে হলেও কাউন্সিলরদের পদত্যাগ করতে হয়নি। কাউন্সিলররা মেয়াদ শেষ না হওয়া পর্যন্ত স্বপদে বহাল থাকবেন। মেয়াদ শেষ না হওয়া পর্যন্ত চার সিটির নবনির্বাচিত মেয়র ও কাউন্সিলররা আইনের (২) উপধারা (১)-এর দফা (খ) অনুযায়ী দায়িত্ব নিতে পারছেন না। আইনের ৩৬ ধারায় বলা হয়েছে, ‘মেয়র এবং কাউন্সিলর হিসাবে নির্বাচিত সকল ব্যক্তির নাম নির্বাচনের পর, নির্বাচন কমিশন, যথাশীঘ্র সম্ভব, সরকারি গেজেটে প্রকাশ করিবে।’ আইনের ৭ ধারার উপধারা-২-এ উল্লেখ রয়েছে—গেজেট প্রকাশের এক মাসের মধ্যে নবনির্বাচিত মেয়র ও কাউন্সিলরকে শপথ গ্রহণ করতে হবে। যদি এই সময়ের মধ্যে তারা শপথ না পড়েন, তাহলে তাদের পদ শূন্য ঘোষিত হবে। প্রসঙ্গত, শপথ গ্রহণের মধ্য দিয়ে নবনির্বাচিত মেয়র ও কাউন্সিলররা তাদের দায়িত্ব গ্রহণ করে থাকেন। অক্টোবরের আগে শপথ নিলে একই সিটি করপোরেশনে ওয়ার্ড কাউন্সিলর থাকবে দুই দল—একদল নবনির্বাচিত, আরেক দল বিদায়ী। অন্য দিকে, একই করপোরেশনে একজন থাকবেন নবনির্বাচিত মেয়র এবং অন্যজন প্যানেল মেয়র। এ কারণে পুরাতনদের মেয়াদ শেষ না হওয়া পর্যন্ত শপথও দিতে পারবে না সরকার।

উল্লেখ্য, রাজশাহী বিভাগকে ১৮ সেপ্টেম্বর, খুলনার ২৫ সেপ্টেম্বর এবং বরিশাল এবং সিলেটে ৮ অক্টোবরের পদত্যাগী ও পরাজিত মেয়রদের মেয়াদকাল শেষ হবে।

এই বিষয়ে জানতে চাইলে স্থানীয় সরকার সচিব আবু আলম শহিদ খান জানান, তারা এই নিয়ে আইনি পরামর্শও চেয়েছেন।

উল্লেখ্য, গত ১৫ জুন অনুষ্ঠিত হয় রাজশাহী, খুলনা, বরিশাল ও সিলেট সিটি করপোরেশনের নির্বাচন। ওই নির্বাচনে বিএনপি-সমর্থিত মেয়র পদপ্রার্থীরা জয়লাভ করেন। এরা হলেন-রাজশাহীতে মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুল, খুলনায় মনিরুজ্জামান মনি, বরিশালে আহসান হাবিব কামাল এবং সিলেটে আরিফুল হক চৌধুরী।


সম্পাদনা: শামীম ইবনে মাজহার,নিউজরুম এডিটর

নতুন বার্তা/এসএফ

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।